রাজ্যসভায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-সংশোধনী বিল পাশ হল বটে, তবে সন্ত্রাসবাদীর সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করতে পারল না সরকার। কী ‘অপরাধে’ ব্যক্তিবিশেষকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করা যাবে, তার স্পষ্ট জবাব এড়িয়ে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলে সংশ্লিষ্ট সংশোধনী আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে সরকারকে আজ সতর্ক করলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম। 

জঙ্গি সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিবিশেষকেও সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করতে ইউএপিএ বিলে সংশোধনী এনেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, দেশদ্রোহী কার্যকলাপে কেউ যুক্ত রয়েছেন, এমন সন্দেহ হলেই তাঁকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে গ্রেফতার করতে পারবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বিরোধীদের অভিযোগ, এ হল বিরোধী স্বরকে বন্ধ করার কৌশল। যাঁরা আদিবাসীদের অধিকার, অরণ্য, পরিবেশ রক্ষার কথা বলেন, তাঁদের ‘শহুরে নকশাল’ তকমা দিয়ে গ্রেফতার করতে চায় মোদী সরকার। চিদম্বরম বলেন, ‘‘কাকে প্রথম গ্রেফতার করবেন? পি চিদম্বরমকে? ওই আইনে প্রথম কাকে গ্রেফতার করা হবে, তা জানতে দেশ উদ্গ্রীব।’’

চিদম্বরমের বক্তব্য, ‘‘মহারাষ্ট্রের ভীমা-কোরেগাঁও মামলায় অধ্যাপক সোমা সেন, রোনা উইলসন, ভার্নন গঞ্জালভেস, কবি ভারভারা রাও, আইনজীবী সুরেন্দ্র গ্যাডগিল, অরুণ ফেরেরা, গৌতম নওলাখা, আনন্দ তেলতুম্বডেদের মধ্যে দু’জন ছাড়া বাকিদের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ এঁরা সকলেই সমাজকর্মী, গরিব-দলিতের অধিকার নিয়ে সরব। কেউই সন্ত্রাসে বিশ্বাসী নন। হাফিজ সইদের সঙ্গে অন্তত গৌতম নওলাখার তুলনা করবেন না।’’ বিরোধীদের অভিযোগ, কোন তথ্যের ভিত্তিতে ঠিক হবে যে, কোনও ব্যক্তি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত? বিলে তার সদুত্তর নেই। চিদম্বরমের কথায়, ‘‘সংশোধনী অনুযায়ী, অভিযোগ দায়ের না-করেই ব্যক্তিবিশেষকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা যাবে।’’ 

বিলের ওই অংশে যে ধোঁয়াশা রয়েছে, তা কার্যত মেনে নিয়ে অমিত জানান, সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে ধৃত ব্যক্তি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে আবেদন করতে পারবেন। ৪৫ দিনের মধ্যে যার নিষ্পত্তি করা হবে। চিদম্বরম বলেন, ‘‘অসাংবিধানিক এই আইন প্রয়োগ করলে আমরা এক কিলোমিটার দূরের ভবনে (সুপ্রিম কোর্ট) যাব। সংশোধনী বাতিল হবে।’’ অমিতের বক্তব্য, ‘‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন’ নিষিদ্ধ থাকার সময়েই সংগঠনের মাথা ইয়াসিন ভাটকলকে কলকাতা পুলিশ ধরেছিল। পরিচয় ভাঁড়ানোয় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। ইয়াসিনকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে তার সম্পর্কে তথ্য থাকত পুলিশের কাছে। ধরা পড়ত সে।’’