সিবিআইয়ের অন্দরমহলে আবার ‘গৃহযুদ্ধ’। সিবি‌আইয়ের ডেপুটি পুলিশ সুপার এন পি মিশ্র খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে সিবিআইয়েরই উচ্চপদস্থ অফিসার এ কে ভাটনগরের বিরুদ্ধে ভুয়ো সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ তুললেন।

দু’দিন আগেই সিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সতীশ দাগার স্বেচ্ছাবসরের জন্য অনুমতি চেয়েছেন। সিবিআইয়ের প্রাক্তন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করছিলেন তিনি। গত বছর যখন সিবিআইয়ের শীর্ষ স্তরে ডিরেক্টর অলোক বর্মা বনাম স্পেশ্যাল ডিরেক্টর আস্থানার সংঘাত তুঙ্গে, সে সময় আস্থানার বিরুদ্ধে সিবিআইতেই এফআইআর দায়ের হয়। জুলাইয়ে তদন্ত শেষের কথা ছিল। কিন্তু তদন্ত কতখানি এগিয়েছে, তার কোনও তথ্য মেলেনি। তার মধ্যে দাগার স্বেচ্ছাবসর নিতে চাওয়ায় জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। কারণ এই দাগারই এএসপি হিসেবে গুরমিত রাম রহিমের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাঁকে জেলে পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছিলেন। দক্ষ ও নিরপেক্ষ অফিসার বলেই তিনি পরিচিত।

সিবিআইয়ের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন করে এই বিবাদের পিছনে কি নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র বদলে যাওয়া?

সিবিআইয়ের নিয়ন্ত্রণ আপাত ভাবে থাকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীন কর্মীবর্গ দফতরের হাতে। কিন্তু ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেব সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছেন,  তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রোজ ভ্যালি কেলেঙ্কারির সিবিআই তদন্তের গতি বাড়ানোর জন্য আর্জি জানিয়েছেন। শাহ তাতে সম্মতিও জানিয়েছেন বলেও বিপ্লব দাবি করেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, তবে কি ভরকেন্দ্র বদলে গিয়েছে সিবিআইয়ের? শাহই কি এখন সিবিআই দেখভাল করছেন?

সিবিআইয়ের ইন্টারপোল শাখার ডিএসপি এন পি মিশ্র অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের কাছে নয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছেই তাঁর উচ্চপদস্থ অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন। মিশ্রর চিঠি অনুযায়ী, সিবিআইয়ের যুগ্ম অধিকর্তা ভাটনগর ঝাড়খণ্ডে ১৪ জনকে ভুয়ো সংঘর্ষে খুনের ঘটনায় জড়িত। ভাটনগরের বিরুদ্ধে নিহতদের পরিবারের তরফেও অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি নিজেও দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছেন। কিন্তু ভাটনগর নিজের সরকারি পদকে কাজে লাগিয়ে মামলায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। মিশ্রর দাবি, অবিলম্বে ভাটনগরকে সিবিআই থেকে সরানো হোক।