আইনের পরোয়া না করে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এমন অন্তত ১৫টি ঘটনার কথা উল্লেখ করে ভারত সরকারের জবাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে আরও অন্তত ৫৯টি ভুয়ো সংঘর্ষের খবর তাদের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংক্রান্ত দফতর (ওএইচসিএইচআর)। 

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাষ্ট্রপুঞ্জ জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা ‘উদ্বিগ্ন’। যদিও এখনও তাদের চিঠির জবাব দেয়নি দিল্লি। রাষ্ট্রপুঞ্জের দাবি, এ পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের যে ক’টি ভুয়ো সংঘর্ষের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিহতেরা মুসলিম। এই হত্যাগুলির বিষয়ে তাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের চার আধিকারিক অ্যাগনেস কালামার্ড, মাইকেল ফর্স্ট, নিলস মেলজ়ার এবং আহমেদ শাহিদ। তাঁদেরই এক জনের কথায়, ‘‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষগুলিকে তুলে নিয়ে গিয়ে কিংবা গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতেই খুন করা হচ্ছে। মৃতদেহ উদ্ধারের পরে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের শরীরে অত্যাচারের ছাপ স্পষ্ট।’’ পুলিশ দাবি করছে, সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে। না হলে আত্মরক্ষা করতে গিয়ে খুন করা হয়েছে। যদিও তা মানতে নারাজ রাষ্ট্রপুঞ্জ। তাঁদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে হত্যা করার আগে মুক্তি দেওয়ার নাম করে বন্দির পরিবারের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হচ্ছে।

নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে যে কোনও হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের হাতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তুলে দেওয়া এবং ঘটনার তদন্তভার কোনও নিরপেক্ষ সংস্থাকে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের। রাষ্ট্রপুঞ্জের দাবি, এই নির্দেশও মানা হচ্ছে না। এক বিশেষজ্ঞের মন্তব্য, ‘‘অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর। এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন!’’