টানা দু’দিন গুলিবর্ষণের পর শেষমেশ পিছু হঠল পাক সেনা। হাতিয়ার ফেলে সাদা পতাকা দেখিয়ে নিহত দুই সতীর্থের দেহ উদ্ধার করে নিয়ে গেল তারা। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে তার একটি ভিডিয়োও সামনে এসেছে।

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হাজিপুর সেক্টরে সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক রেঞ্জার্স। তার পাল্টা জবাব দেন ভারতীয় জওয়ানরাও। দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় চলাকালীন পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালনগররে বাসিন্দা, গোলাম রসুল নামে এক পাক রেঞ্জারের মৃত্যু হয়।

শুরুতে গোলাগুলি চালিয়েই গোলাম রসুলের দেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালায় পাক বাহিনী। তাতে হিতে বিপরীত হয়। ভারতীয় জওয়ানরা পাল্টা গুলি চালালে আরও এক পাক রেঞ্জারের মৃত্যু হয়। এর পরেও গত দু’দিনে ‘কভার ফায়ার’ চালিয়ে একাধিক বার দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করে পাক সেনা। তাতে কাজ না হওয়ায়, শুক্রবার সাদা পতাকা উড়িয়ে দেহ উদ্ধারে এগোয় তারা।

আরও পড়ুন: সিবিআইয়ের নোটিস পেয়েও এখনও আসেননি রাজীব কুমার, জল্পনা তুঙ্গে​

আরও পড়ুন: বুজে যাওয়া বৌরানি খালই কি বিপর্যয় ডেকে আনল বৌবাজারে?​

এএনআই সূত্রে যে ভিডিয়ো সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ভারতীয় জওয়ানদের উদ্দেশে সাদা পতাকা উড়িয়ে উঁচু ঢাল বেয়ে নেমে আসছেন এক পাক রেঞ্জার। এক হাতে পতাকা নিয়ে অন্য হাতে দেহ টেনে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। সাদা পতাকা দেখে ভারতীয় জওয়ানরা গুলি না-চালানোয়, তাঁকে সাহায্য করতে আরও দু’জন দৌড়ে নীচে নেমে আসেন। টেনে দেহ উপরে তুলে নিয়ে যান তাঁরা। পরে ফের এক বার নেমে এসে দ্বিতীয় দেহটি তুলে নিয়ে যান।

আত্মসমর্পণ এবং শান্তির বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেই সাধারণত সাদা পতাকা দেখানো হয়। তবে এত দিন গুলি চালিয়েই সতীর্থদের দেহ উদ্ধার করতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানকে। এর আগে ৩০ এবং ৩১ জুলাই কেরান সেক্টরের কাছে নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলিবর্ষণ করে পাক বাহিনী। সে বারও দুই পাক রেঞ্জারের মৃত্যু হয়। কিন্তু গুলি চালিয়ে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয় পাক বাহিনী। কার্গিল যুদ্ধের সময়ও নিহত জওয়ানদের দেহ ফেরত নেয়নি তারা। ভারতীয় সেনাও তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।