• নিজস্ব সংবাদদাতা 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান মায়ার

Mayawati
ফাইল চিত্র।

‘এর পর আর কি কিছু বলার দরকার রয়েছে?’ উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুবিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরার এই টুইটে। টুইটের সঙ্গে বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর একটি ভিডিয়ো ক্লিপ দিয়েছেন তিনি। সেখানে দলিত নেত্রীকে, ‘মনুবাদী পার্টি’কে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে শোনা যাচ্ছে। ওই ভিডিয়োয় মায়াবতী দলীয় কর্মীদের বলছেন, ‘সমাজবাদী পার্টিকে যে কোনও মূল্যে হারাতে হবে। তার জন্য বিজেপি-কেও যদি ভোট দিতে হয়, তা হলে তাই হবে!’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই আমূল বদলেছে ‘মায়ার খেলা’। 

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর চাপে মায়াবতীকে বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি মোদী-বিরোধিতার অবস্থান থেকে সরে যেতে দেখা গিয়েছে। সংসদের ভিতরেও সম্প্রতি কৃষি সংক্রান্ত বিলগুলি পাশ করানো নিয়ে গোটা বিরোধী শিবির এমনকি, শিরোমণি অকালি দলের মতো বিজেপি-র বন্ধু দলও যখন বিরোধিতায় সরব, বিএসপি-কে দেখা গিয়েছে কার্যত মোদী সরকারের পাশেই থাকতে। আজ তাঁর খোলাখুলি ভাবে বিজেপি-কে ‘প্রয়োজনে ভোট দেওয়ার আহ্বান’ তাঁর উপর চাপ এবং রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার দিকটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরল বলে মনে করা হচ্ছে। 

অতীতে বিজেপি-র সঙ্গে জোট গড়ে উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়তে দেখা গিয়েছে দলিত নেত্রীকে। যদিও পরে তিনি কংগ্রেস এবং বিজেপি-র থেকে সমদূরত্ব বজায় রেখে একটিকে ‘নাগনাথ’ ও অন্যটিকে ‘সাপনাথ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন সাংবাদিকদের সামনে। আখ্যা দিয়েছেন মনুবাদী দল হিসাবে। এহেন পরিস্থিতিতে কি অদূর ভবিষ্যতে বিএসপি ফের আনুষ্ঠানিক ভাবে মোদী-অমিতের দলের হাত ধরবেন? অথবা মায়া এবং তাঁর পরিবারের উপর তৈরি হওয়া চাপ থেকে রেহাই পেতে বিএসপি কি মিশে যেতে পারে বিজেপি-র সঙ্গে? বিএসপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ধরনের সম্ভাবনাকে অলীক কল্পনা হিসাবেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

উত্তরপ্রদেশে বিধানসভার উপনির্বাচন আসন্ন। হবে ১০টি আসনে রাজ্যসভার ভোটও। এই দু’ক্ষেত্রেই মায়াবতীর তরফে বিজেপি-র প্রতি পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক আচরণ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। একার ক্ষমতায় রাজ্যসভার কোনও আসন জেতার শক্তি না থাকা সত্ত্বেও মায়াবতী একটি আসনে প্রার্থী দিয়েছেন।  কার্যত বিএসপি-র প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত করতে মাত্র ৮টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি। অথচ দু’বছর আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে ঠিক একই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভার ১০টি আসনের নির্বাচনে ৯টিতে প্রার্থী দিয়ে বিএসপি-র প্রার্থীকে বিজেপি আটকে দিয়েছিল। 

কংগ্রেসের অভিযোগ,  রাজ্যসভায় একটি আসনের বিনিময়ে মায়াবতী উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপিকে সাহায্য করবেন। এ হল বিজেপি-বিএসপির ‘চুপি চুপি’ আঁতাঁত। আজ মায়াবতীর ভিডিয়ো ক্লিপ কংগ্রেসের এই সন্দেহকে প্রতিষ্ঠিত করল বলেই মনে করছে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক শিবির।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন