• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

লাদাখের জমি কবে ছাড়বে চিন, উত্তর নেই

modi
লাদাখে মোদী। ছবি: পিটিআই।

লাদাখে হঠাৎ সফরে গিয়ে সেনাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেও মূল প্রশ্ন এড়াতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তা হল, লাদাখে দখল করা এলাকা থেকে চিনকে সরানো যাবে কবে, কী ভাবে?

কংগ্রেস নেতা শশী তারুর আজ ইন্দিরা গাঁধী, মনমোহন সিংহ এবং নরেন্দ্র মোদীর  লে এবং সিয়াচেন সফরের ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন করেছেন,  ‘‘১৯৭১-এ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধী পাকিস্তানকে দু’টুকরো করে দেওয়ার আগে লে-তে গিয়েছিলেন। ২০০৫-এ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ সিয়াচেনে গিয়েছিলেন। সেটাই ছিল প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রীর সিয়াচেন সফর। তার ফল হল, সিয়াচেন হিমবাহ এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণে। ২০২০-তে দেশ কী আশা করবে? নিজেদের এলাকা ধরে রাখতে কোনও নির্ণায়ক সিদ্ধান্ত কি দেখা যাবে?’’

সরকারি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর আচমকা লে সফরের পিছনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মস্তিষ্ক কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী কাল নীমুতে পৌঁছে সিন্ধু দর্শন পুজো করেন। তার পর সেনা অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর সেনা জওয়ানদের কথা বলে মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা চিনের সমর-কৌশলী সুন জু-র ‘দ্য আর্ট অফ ওয়ার’-এর মন্ত্র মেনেই হয়েছে বলে বিজেপির দাবি।

আরও পড়ুন: হাসপাতাল সফর: ‘ধন্দ’ কাটাতে সেনার বিবৃতি

আজ রাম মাধবের যুক্তি, ‘‘সুন জু বলেছিলেন, সেনা জওয়ানদের নিজের সন্তান ভাবতে হবে। তা হলে তাঁরা গভীর উপত্যকাতেও তোমাকে অনুসরণ করবে। তাঁদের প্রিয় পুত্রের মতো দেখবে। তা হলে মৃত্যু পর্যন্ত তোমার পাশে থাকবে।’’ তা শুনে কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলের কটাক্ষ, ‘‘জওহরলাল নেহরু,  ইন্দিরা গাঁধী, লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মতো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীরা কি সেনার মনোবল বাড়াতে সীমান্তবর্তী এলাকায় যাননি? কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তো সীমান্ত থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে লে-র নীমু-তে আটকে রইলেন!’’ বিজেপি নেতারা বলছেন, ৬৯ বছর বয়সি মোদীর ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলাও চাট্টিখানি কথা নয়। কংগ্রেস নেতারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০৫-এ মনমোহন সিংহ ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় সিয়াচেন হিমবাহে গিয়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সে, বাইপাস সার্জারির পরে। 

শনিবার এই তিনটি ছবির কোলাজ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। পোস্টে কোলাজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এ ভাবে— ‘ ১৯৭১: লে-তে ইন্দিরা গাঁধী। এর পরেই পাকিস্তানকে দু’ভাগ করে দেয় ভারত। ২০০৫: লে-তে মনমোহন সিংহ। এই প্রথম সিয়াচেনে গেলেন কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। সিয়াচেন এখনও ভারতেরই দখলে। ২০২০: লে-তে নরেন্দ্র মোদী। এর পরে কী করবে ভারত? কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে পদক্ষেপ করবে নাকি, নিজেদের ভূখণ্ড ধরে রাখার চেষ্টা করবে?’ ফেসবুক

কংগ্রেসের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কি এখনও চিন লাদাখে ভারতের জমি দখল করে রেখেছে বলে অস্বীকার করছেন? তা হলে চিনের নাম না করে সম্প্রসারণবাদীই বা বললেন কেন? শুক্রবার রাহুল গাঁধী একটি ভিডিয়োয় দেখিয়েছিলেন, লাদাখিরাই বলছে যে চিন সেখানকার জমি দখল করে রেখেছে। বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের দাবি, ওই ভিডিয়োয় যাঁদের সাধারণ লাদাখি বলে দেখানো হয়েছে, তাঁদের অনেকেই কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মী। কংগ্রেসের পাল্টা যুক্তি, লাদাখের বিজেপি সাংসদ জেমিয়াং শেরিং নামগিল, লে-র বিজেপির জেলা সভাপতি দোরজি আংচুক, লাদাখে স্বশশাসিত পার্বত্য জেলা পরিষদের ডেপুটি মেয়র, বিজেপি নেতা কনচোক স্ট্যানজিন, লে-র নিয়োমা ব্লক উন্নয়ন পরিষদের বিজেপি নেত্রী উরগেই চদন এক সুরে বলেছেন, লাদাখে চিন জমি দখল করেছে। রাহুলের যুক্তি, ‘‘দেশপ্রেমী লাদাখিরা চিনের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। তাতে কান না দিলে মূল্য দিতে হবে।’’

কংগ্রেসের কপিল সিব্বল আজ ২২ মে ও ২৩ জুন প্যাংগং লেকের উপগ্রহ-চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছুড়েছেন, চিন ফিঙ্গার-ফোর পর্যন্ত এলাকা দখল করে রেখেছে কিনা? গালওয়ান উপত্যকার জমি, হট স্প্রিংস এলাকায় জমি চিন দখল করেছে কি না? সিব্বলের বক্তব্য, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর এখন একমাত্র রাজধর্ম, চিনের চোখে
চোখ রেখে বলুন, আমাদের দখল করে রাখা জমি ছাড়তে হবে।’’ রাতের খবর, লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টারের সংখ্যা বাড়িয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন