কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্তে দু’জনকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ধৃতদের নাম চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খাঁ। কয়লাকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকেই কলকাতায় সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে আধিকারিকেরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় সেখানেই গ্রেফতার করা হয় দু’জনকে।
পরে ধৃতদের বিচার ভবনে পেশ করে ইডি জানায়, উভয়ের বিরুদ্ধে এই মামলায় ১৫০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্তেরা সিন্ডিকেট তৈরি করে ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ তুলতেন, এমন অভিযোগও উঠেছে বলে আদালতে জানায় ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই চক্রটি মূলত আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় সক্রিয় ছিল। তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
চিন্ময় এবং কিরণ উভয়েই পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, তাঁরা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। চিন্ময়ের বাড়ি দুর্গাপুরে। কিরণ রানিগঞ্জের বক্তারনগর এলাকার বাসিন্দা। জানা যাচ্ছে, উভয়েই কয়লা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এবং, ‘কয়লা মাফিয়া’ হিসাবেও লোকমুখে পরিচিতি রয়েছে তাঁদের। চিন্ময় এবং কিরণ উভয়েরই আসানসোল-রানিগঞ্জ কয়লা অঞ্চলে বেশ দাপট রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বস্তুত, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা, দুর্গাপুর এবং আসানসোলের বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকেরা। ওই সময়ে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের বাড়িতেও গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল ওসিকেও। ওই একই দিনে জামুড়িয়ার ব্যবসায়ী রমেশ বনসলের বাড়িতেও অভিযান চালান আধিকারিকেরা। বনসলদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে ইডি সূত্রে খবর।
কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম বর্ধমানে ওই অভিযানের পর কলকাতায় ইডির দফতরে ডাকা হয়েছিল চিন্ময় এবং কিরণকে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে গ্রেফতার করা হয় দু’জনকে। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ভাবে কী অভিযোগ উঠে এসেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।