রেশন ব্যবস্থায় ভর্তুকি তুলে দিয়ে ডায়রেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি), ফুড কুপন ও ই-রুপি চালুর কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নামছেন পশ্চিমবঙ্গের রেশন ডিলারেরা। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের ডাকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কলকাতায় খাদ্যভবন বা সংলগ্ন এলাকায় অনির্দিষ্টকালীন রিলে অনশন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় লাগাতার রেশন দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনেরই রাজ্যব্যাপী বিস্তৃতি ঘটাতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার রেশন ব্যবস্থায় ভর্তুকি ব্যবস্থাকে কার্যত ভেঙে দিয়ে নগদ হস্তান্তর ও কুপন-নির্ভর ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে। যদিও চলতি কেন্দ্রীয় বাজেটে এই বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ নেই, তবুও যে কোনও সময়ে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রেস বিবৃতিতে কেরোসিন বণ্টন বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আগেও ডিলারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই আগাম আন্দোলনের পথে হাঁটছে সংগঠন। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন দায়ের করার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। সে জন্য রাজ্যের প্রতিটি গ্রামীণ এবং শহুরে এলাকার রেশন ডিলারদের নিজ নিজ এলাকা থেকে একটি করে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (এএওয়াই) রেশন কার্ড, সংশ্লিষ্ট আধার নম্বর এবং কার্ডধারকের হোয়াটস্অ্যাপ নম্বর সংগ্রহ করে রাজ্য দফতরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের রূপরেখা অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের অনুমতি নিয়ে মঞ্চ ও মাইকের ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও সাব-কন্ট্রোল থেকে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যক রেশন ডিলারকে অনশনে অংশ নিতে হবে, যা লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। যে দিন যে এলাকার ডিলারেরা রিলে অনশনে অংশ নেবেন, সেই দিন সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্ত রেশন দোকান বন্ধ থাকবে। তবে ২০২৪ সালের কন্ট্রোল অর্ডার মেনে প্রশাসনকে আগাম জানানো হবে। সংগঠনের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য বাজেটে রেশন ডিলারদের জীবন-জীবিকা নিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ না হলে এই আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।