মাদক পাচার কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিদ্ধ জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেএইপি) প্রতিষ্ঠাতা তথা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। হুমায়ুনের অবশ্য দাবি, রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হচ্ছে তাঁর পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার হুমায়ুন-কন্যা নাজমা সুলতানার শ্বশুর শরিফুল ইসলামের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি ‘ফ্রিজ়’ করার কাজ শুরু করে মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার পুলিশ। তাদের দাবি, গত সাত বছরে বেআইনি মাদক কারবারের মাধ্যমে শরিফুল বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, গত বছরের ২৫ মার্চ হুমায়ুনের বেয়াইয়ের বাড়ির অদূরেই তাঁর এক আত্মীয় জনৈক জিয়াউর রহমানকে প্রায় ৫০০ গ্রাম মাদক-সহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে জানা গিয়েছে, মাদক কারবারের নেপথ্যে শরিফুলের ভূমিকা রয়েছে।
হুমায়ুনের আত্মীয় গত কয়েক বছরে মাদক পাচারের লভ্যাংশ দিয়েই লালগোলার নলডহরি-সহ বিভিন্ন এলাকায় জমি, বাড়ি ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি কিনেছেন বলে অভিযোগ। গত ১ জানুয়ারি ওই সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এ বার ওপর মহলের অনুমতি মেলার পর সোমবার দুপুর থেকে শরিফুলের ১৭টি সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ওই সম্পত্তিগুলির মধ্যে কয়েকটি বাড়ি রয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করছে পুলিশ। তিনি জানান, মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ব্যবসায়ী পরিবার। তাদের গায়ে হাত দিলে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না। সোমবার বেয়াইয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত নিয়ে হুমায়ুনের প্রতিক্রিয়া, “ধৃত জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার মেয়ের শ্বশুরের কোনও ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। স্রেফ রাজনৈতিক ভাবে আমাদের অপদস্থ করতেই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, ‘‘বেয়াইয়ের ইটভাটা, জমি কেনাবেচার বৈধ কারবার রয়েছে। তাঁরা নিয়মিত আয়কর দেন। পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।’’
পুলিশ অবশ্য জানাচ্ছে, আইন মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দু’-তিন দিন এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ চলবে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “মাদক বিরোধী অভিযানের অঙ্গ হিসাবে বেআইনি উপায়ে অর্জিত সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
হুমায়ুনের মেয়ে নাজমা বলেন, ‘‘আমার বাবার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। বাবা তার মেয়েকে যদি সম্পত্তি ও ভাল অবস্থাসম্পন্ন পরিবারে বিয়ে দিয়ে থাকে, সেটা নিশ্চয়ই তার অন্যায় নয়।’’