Advertisement
E-Paper

বাড়ির দখল নিতে যুবনেতার হুমকি, কোটি টাকার সম্পত্তি ‘জলের দরে’ বিক্রি করে ভিন্‌রাজ্যের পথে বৃদ্ধ দম্পতি!

রানাঘাট থানার নোকাড়ি জহুরা মন্দিরের কাছে বাড়ি ছিল রঞ্জিত ঘটক এবং অঞ্জলি ঘটকের। দম্পতির অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই বাড়ি দখলের চেষ্টা করছিলেন এলাকার প্রভাবশালী কয়েক জন নেতা। পুলিশের কাছে গিয়েও লাভ হয়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৮
Ranaghat House Controversy

সস্ত্রীক রঞ্জিত মোদক এবং অঞ্জলি মোদক। —নিজস্ব ছবি।

আত্মীয় শাসকদলের নেতা। তার পরেও শাসকদলের এক যুবনেতার ‘তাণ্ডব’ এবং ‘লাগাতার খুনের হুমকি’-তে ভিটেমাটি ছেড়ে ভিন্‌রাজ্যে যেতে বাধ্য হলেন নদিয়ার রানাঘাটের এক বৃদ্ধ দম্পতি। কোটি টাকার সম্পত্তি ‘জলের দরে’ বিক্রি করে দিয়েছেন তাঁরা। এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এলাকায়। অন্য দিকে, দম্পতি আঙুল তুলেছেন পুলিশের দিকেও।

রানাঘাটের নোকাড়ি এলাকা ছেড়ে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে আশ্রয় নিয়েছেন রঞ্জিত এবং অঞ্জলি। অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল যুব সভাপতি দীপঙ্কর মোদক ও তাঁর সহযোগী মধু বিশ্বাসের দিকে।

রানাঘাট থানার নোকাড়ি জহুরা মন্দিরের কাছে বাড়ি ছিল রঞ্জিতদের। দম্পতির অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই বাড়ি দখলের চেষ্টা করছিলেন এলাকার প্রভাবশালী কয়েক জন নেতা। রঞ্জিত বলেন, ‘‘দীপঙ্কর মোদক ও মধু বিশ্বাস বারবার খুনের হুমকি দিত। তার পর মানসিক নির্যাতনে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে।’’

পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দম্পতি জানান, তাঁদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছিল। শাসকদলের নেতা এবং ঘনিষ্ঠদের হুমকি পেয়ে কুপার্স পুলিশ ফাঁড়ি এবং রানাঘাট থানায় একাধিক বার লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়ে এসেছিলেন।

কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপই করেনি বলে অভিযোগ। উল্টে শাসকদলের দাপুটে নেতাদের হুমকি বাড়তে থাকে। তাই সম্পত্তি বিক্রি করে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে চলে যাচ্ছেন তাঁরা।

রঞ্জিত নিজেও রাজনীতি করতেন। রানাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তিনি। তা ছাড়াও বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা জগদীশ মণ্ডলের আত্মীয়। খোদ শাসকদলের নেতার আত্মীয়ের এই অভিযোগ এবং সম্পত্তি বিক্রি করে ভিন্‌রাজ্যে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে রানাঘাটে।

শাসকদলের যুব নেতা দীপঙ্কর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেনা মেটাতে না পেরে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন ওই দম্পতি। চলে যাওয়ার আগে ভুলভাল কথা বলছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ওই পরিবার দেনা মেটাতে না পেরে স্বেচ্ছায় বাড়ি বিক্রি করেছে। কোনও জোরজুলুমের গল্প নেই এখানে।’’ বিজেপির দাবি, শাসকদলের কোন্দল এবং ক্ষমতার দাপটে এমন ঘটনার সাক্ষী হতে হল রানাঘাটবাসীকে। এ নিয়ে পুলিশের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Ranaghat TMC BJP police Property selling
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy