প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলে পড়ুয়াদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠল শিলিগুড়িতে। ঘটনায় দুই মহিলা-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করল প্রধাননগর থানার পুলিশ।
শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার শালবাড়িতে প্যারা মেডিক্যাল এবং নার্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র খোলা হয়েছিল। প্রশিক্ষণ দেওয়ার নামে পড়ুয়া পিছু ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এ ভাবে প্রায় ৩০০ পড়ুয়া ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভর্তি হন। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং এমনকি, অসমের বহু পড়ুয়া ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যেতেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৫ সালে প্রশিক্ষনকেন্দ্রটির উদ্বোধন হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্যারা মেডিক্যাল এবং নার্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির নাম বদলে করা হয় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। হঠাৎ নাম পরিবর্তন থেকেই সন্দেহের শুরু।
বস্তুত, ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের মানের সঙ্গে প্যারা মেডিক্যাল ও নার্সিং ইন্সটিটিউটের ফারাক থেকে যায়। ওই নিয়ে রবিবার প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
ধৃত তিন জনই দার্জিলিঙের বাসিন্দা। শিলিগুড়ির ভানুনগরের থাকতেন ২১ বছরের করুণা রায়। কার্শিয়াঙের বাসিন্দা ২৪ বছরের শৈবাল খাওয়াস এবং সুখিয়াপখরির ২৭ বছরের সৃজনা খাতররিকে রবিবার শিলিগুড়ি আদালতে হাজির করানো হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত ফেরার। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিংহ বলেন, ‘‘তিন জনকে আজ আদালতে হাজির করানো হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসবাদ চালানো হবে। এই চক্রের পিছনে আর কারা জড়িত, খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।’’