মান্যতা পেল মুর্শিদাবাদবাসীর দাবি এবং আবেগ। মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে জুড়ছে রাজা কৃষ্ণনাথের নাম। এ বার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে ‘মুর্শিদাবাদ রাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়।’ এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানাল রাজ্য সরকার। শনিবার বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পাশ হবে। রাজ্যপাল সম্মতি দিলে সরকারি ভাবে বদলে যাবে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।
‘ঐতিহাসিক’ কৃষ্ণনাথ কলেজকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির গোড়া থেকেই জেলার বড় অংশের মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। যাঁর দান করা জমির উপর প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, সেই রাজার নাম বাদ পড়া নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ তৈরি হয়। উল্লেখ্য, ১৮৫৩ সালে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হওয়ার পরে কৃষ্ণনাথের নাম ‘ব্রাত্য’ রাখা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। জেলার ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের দানা বাঁধতে শুরু করেছিল জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। নাম পরিবর্তনের দাবিতে সরব হয়েছিলেন প্রাক্তনী থেকে শুরু করে বিশিষ্টেরা।
আরও পড়ুন:
সরকারি সূত্রে খবর, জেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবিকে সম্মান জানিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে এই নামকরণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে শুধু একটি আইনি সংশোধন নয়, বরং মুর্শিদাবাদের মানুষের দীর্ঘ দিনের অভিমান প্রশমিত হল বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ঘোষণা চাউর হতেই খুশির হাওয়া বহরমপুর-সহ গোটা জেলায়। ঐতিহাসিকদের মতে, রাজা কৃষ্ণনাথের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এই নতুন নামকরণ শিক্ষার আঙিনায় সুস্থ ও ইতিবাচক বার্তা দেবে। প্রশাসনিক স্তরে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটিও দ্রুত শেষ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। শহরের প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে বর্তমান ছাত্রসমাজ, সকলেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, দেরিতে হলেও ঐতিহ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটল। এই পদক্ষেপের ফলে মুর্শিদাবাদের শিক্ষা-সংস্কৃতির ইতিহাসে রাজা কৃষ্ণনাথের নাম যেমন চিরস্থায়ী হল, তেমনই সাধারণ মানুষের জয়ী হল আবেগ।