Advertisement
E-Paper

বেলডাঙার অশান্তিতে অভিযুক্তদের হাজিরই করানো গেল না কোর্টে! রাজ্য পুলিশের দিকে আঙুল তুলল এনআইএ

কেস ডায়েরি তারা হাতে পায়নি বলেও জানিয়েছে এনআইএ। বিচারকের নির্দেশ, ১২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করাতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৩
বেলডাঙায় অশান্তি।

বেলডাঙায় অশান্তি। — ফাইল চিত্র।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় অভিযুক্তদের বৃহস্পতিবার কলকাতার বিচারভবনে হাজির করানো গেল না। এই নিয়ে রাজ্য পুলিশের দিকেই আঙুল তুলেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তারা আদালতে এ-ও জানিয়েছে, কেস ডায়েরি এখনও হাতে পাওয়া যায়নি। বিচারকের নির্দেশ, ১২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করাতে হবে। ওই দিন আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ জানাতে হবে বেলডাঙা মামলায় রাজ‍্য পুলিশের তদন্তকারী অফিসারকে। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সুপারকে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার কলকাতার বিচারভবনে শুনানির জন্য ওঠে বেলডাঙায় অশান্তির মামলা। সেখানে অভিযুক্তদের হাজির করানো যায়নি। তাঁরা এখন মুর্শিদাবাদের জেলে রয়েছেন। এনআইএর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে বলেন, ‘‘জেল সুপার জানিয়েছেন, এসকর্ট না থাকায় অভিযুক্তদের আদালতে আনা যায়নি।’’ কেস ডায়েরি তারা হাতে পায়নি বলেও জানিয়েছে এনআইএ।

এনআইএ-র তরফে আরও জানানো হয়, জেলকে নিরাপত্তা দিয়ে অভিযুক্তদের কলকাতার কোর্টে আনার কথা জানানো হয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ রাজ্য পুলিশের কাছে স্কট চেয়ে জানিয়েছিলেন। এর পরে জেল সুপার জানান, পুলিশ সুপার গাড়ি, স্কটের ব‍্যবস্থা করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তাঁকে। তাই অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করাতে পারেননি। এনআইএর তরফে আরও জানানো হয়, আইও (তদন্তকারী অফিসার) তদন্তের কিছু করতে পারছেন না। আইনজীবী বলেন, ‘‘কেস ডায়েরি ছাড়া আমরা মুভ করতে পারছি না।’’

বিচারক বলেন, ‘‘তা হলে আপনারা বলতে চাইছেন, স্থানীয় পুলিশের অসহযোগিতার জন‍্য প্রডিউস করা যাচ্ছে না।’’ জবাবে এনআইএ বলে, ‘‘হ‍্যাঁ।’’ এর পরেই বিচারক জানান, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে। আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ জানাতে হবে রাজ‍্য পুলিশের তদন্তকারী অফিসারকে। ১২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তিনি জানিয়েছেন, ওই দিন পুলিশকে এসকর্ট দিতে হবে।

অভিযুক্তদের আইনজীবী ফাজিল আহমেদ খান জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি ছিল, অভিযুক্তদের আদালতে সশরীরে হাজির করানো। তাঁর দাবি, বেলডাঙা পুলিশের হেফাজতে অভিযুক্তদের উপরে অত্যাচার হয়েছে। সেখানকার পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। কোর্টকে জানাতে গেলে মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলে জানাতে হবে। কিন্তু তাঁদের সশরীরে হাজির করানো হয়নি বলে আদালতে জানানো যায়নি।

ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। যদিও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রাথমিক ভাবে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ তারিখ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, বিক্ষোভে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও। বেলডাঙায় সে দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। প্রথম দিন পুলিশ বিক্ষোভ সরালেও পরের দিন সকাল থেকে বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরে আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার প্রথম দিনের বিক্ষোভ কিছুটা হলেও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু দ্বিতীয় দিন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে অশান্তি করা হয়।

হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারবে রাজ্য। তার পরেই তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

Court NIA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy