কালীগঞ্জে তমন্না খাতুন খুনের ঘটনায় নাম জড়ানো শেষ অভিযুক্ত গাজলু রহমানকেও গ্রেফতার করল পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের খুনের জন্য ‘সুবিচারের’ চেয়েছিলেন তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। আশ্বাসও মিলেছিল মুখ্যমন্ত্রীর থেকে। তার পর থেকেই তমন্না মামলায় সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। এফআইআরে নাম থাকা অধরা অভিযুক্তদের একে একে পাকড়াও করা শুরু হয়। গত চার দিনের মধ্যে বাকি সব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ফেলল পুলিশ। একই সঙ্গে সরকারের তরফে এই মামলায় বিশেষ আইনজীবীও নিযুক্ত করা হয়েছে।
তমন্না খুনের মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসাবে বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। দায়িত্ব পাওয়ার পরেই কালীগঞ্জে মোলান্দি গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিভাস। কথা বলেন নিহতের পরিবারের সঙ্গে। ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জেনে নেন তমন্নার মা সাবিনার থেকে। খুঁটিয়ে দেখেন মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্রও। বিভাসের কাছে সাবিনা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা বিরোধী রাজনীতি করি বলেই আমাদের বাড়িতে বোমা ছোড়া হয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেক বড় বড় মাথা জড়িত রয়েছে।’’ সেই ‘মাথাদের’ আইনি জালে জড়ানোর আবেদন করেন সাবিনা।
পর পর গ্রেফতারি এবং আইনি প্রক্রিয়ায় নয়া মোড় নিয়ে সাবিনার বক্তব্য, ‘‘বিচারের প্রতি আমি আস্থাশীল। পূর্বতন তৃণমূল সরকার চায়নি আমার মেয়ের খুনিরা শাস্তি পাক। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর যে ভাবে অতি দ্রুততার সঙ্গে একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হল, তাতে আমি খুশি।’’ একই সঙ্গে দোষীদের ফাঁসির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করলেন সাবিনা।
আরও পড়ুন:
তমন্না খুনের তদন্ত এবং গ্রেফতারি নিয়ে এক্স পোস্ট করেছিলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘তমন্নার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’’
শেষ অভিযুক্ত গ্রেফতারের পর এই মামলার চার্জশিটেও বদল আসবে। অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়ার প্রক্রিয়াও রয়েছে। মামলা দায়িত্ব নিয়ে বিভাস বলেন, ‘‘ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখা আমার প্রথম কর্তব্য ছিল। খুব দ্রুত এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আদালত এবং সাধারণ মানুষ আমার উপর যে আস্থা রেখেছেন, তা যথাযথ ভাবে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’’