২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বেলডাঙায় নাবালিকাকে খুনের ঘটনার রহস্যভেদের সূত্র পেল পুলিশ। সেই সূত্র ধরে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মৃতার মাসতুতো দাদা। কেন এই খুনের ঘটনা? পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সম্পর্কের টানাপড়েন বা পুরনো কোনও শত্রুতার জেরে নাবালিকা খুন হয়ে থাকতে পারে। তবে খুনের আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে।
শনিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার মোহলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাবেরী নামে ওই নাবালিকাকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করে বাড়ি ফাঁকা করে দেওয়া হয়। তার পরে বাড়ি ঢুকে নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে। কারণ, সকালের দিকে ওই নাবালিকার দাদুর কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ও প্রান্ত থেকে বলা হয়, কোনও একটি গেমে তিনি জিতেছেন। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়েছে। ওই ফোন পেয়ে ঘাবড়ে যান প্রৌঢ়। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যে ব্যাঙ্কে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানে খোঁজখবর করতে যান।
নাবালিকার মা কাজের সূত্রে বহরমপুর গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিল না কাবেরীর ভাইও। সেই সুযোগে নাবালিকাকে বাড়িতে একা পেয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। প্রথম থেকেই মৃতার পরিবারের দাবি ছিল, পরিচিত কেউ ছক কষে তাঁদের বাইরে পাঠিয়ে বাড়িতে ঢুকে কাবেরীকে খুন করে গিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বেলডাঙা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত নামে তারা। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদ করে নানা সূত্র জোগাড় করা হয়। সেই সব সূত্রে ভর করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
খুনের ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুনের নেপথ্যের কারণও ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। স্থানীয় সূত্র খবর, ওই নাবালিকা মামার বাড়িতে থাকত। দাদু, দিদা, মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে থাকত সে। দীর্ঘদিন আগে পারিবারিক অশান্তির কারণে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নাবালিকা এবং পুত্রকে নিয়ে তাঁর বাবার বাড়িতে পাকাপাকি ভাবে চলে আসেন কাবেরীর মা। কাবেরী স্থানীয় স্কুলে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা।