সেই অস্ট্রেলিয়া। আরও এক বার সেই অস্ট্রেলিয়ার কাছেই স্বপ্নভঙ্গ হল ভারতের। দর্শকাসনে বসে মেয়েদের দলের হার দেখলেন বিরাট কোহলি, অনুষ্কা শর্মা, শিখর ধাওয়ান, রবি শাস্ত্রীরা। ঘরের মাটিতে এক দিনের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যে সাহসটা হরমনপ্রীত কৌরেরা দেখিয়েছিলেন, সেটা এই ম্যাচে দেখাতে পারলেন না। তাতেই হারতে হল।
প্রথমে ব্যাট করে ১৭০ রান করেছিল ভারত। হাসতে হাসতে সেই রান তাড়া করে ৬ উইকেটে জিতল অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে উঠল তারা। দ্বিতীয় দল হিসাবে শেষ চারে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা।
লর্ডসের পাটা উইকেটে কোন যুক্তিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত ভারত নিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। অধিনায়ক হরমনপ্রীত জানালেন, চাপমুক্ত হয়ে ব্যাট করতে চান তাঁরা। কিন্তু ইংল্যান্ডে সকালের দিকে ব্যাট করা যে কঠিন, তা সদ্য ক্রিকেট খেলতে শুরু করা ছেলেমেয়েরাও জানে। পরের দিকে রোদ উঠলে ব্যাট করা সহজ হয়। সেটাই দেখা গেল। ভারতের থেকে অনেক ভাল পরিবেশে ব্যাট করল অস্ট্রেলিয়া।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার এলিস পেরি ও অ্যাশলি গার্ডনার অর্ধশতরান করে দলকে জেতালেন। ভারতের ইনিংসে একমাত্র হরমনপ্রীতকে দেখে মনে হল, জেতার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাকিরা দায়িত্ব না নিলে একা হরমন কী করবেন।
স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা শুরুটা খারাপ করেননি। উইকেট ধরে খেলছিলেন তাঁরা। ফলে উইকেট না পড়লেও রান তোলার গতি খুব একটা বেশি ছিল না। তাতে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ সমস্যা হল না। ৩৪ রান করে আউট হলেন শেফালি। জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে ৩৮ রানের মাথায় রান আউট হলেন স্মৃতি।
ঘরের মাঠে এক দিনের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একাই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলেন জেমাইমা। কিন্তু সেই একটি ইনিংস ভাঙিয়ে আর কত দিন খেলবেন তিনি। এই ম্যাচে ৩৪ রান করলেও ২৮ বল নিলেন। অধিনায়ক হরমন শেষ দিকে চেষ্টা করলেন। তাঁর ২৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে ১৭০ পর্যন্ত গেল ভারত।
ভারতকে বড় রানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব যাঁর কাঁধে থাকে সেই রিচা ঘোষ মাত্র এক বল খেললেন। শেষ ওভারে অবসৃত আউট হলেন জেমাইমা। সেই সিদ্ধান্তই যদি কোচ অমল মুজুমদার নিলেন, তা হলে অন্তত দু’ওভার আগে নিতে পারতেন। তা হলে আরও ২০-২৫ রান বেশি হতে পারত।
আরও পড়ুন:
বল করার ক্ষেত্রেও সাহস দেখাতে পারল না ভারত। যে উইকেটে পেসারেরা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে না, সেখানে আরও এক জন বেশি স্পিনার খেলাতে পারত তারা। তা হলে হয়তো অস্ট্রেলিয়া কিছুটা সমস্যায় পড়ত। প্রথম ওভারেই জর্জিয়া ভল আউট হলেও তাই অস্ট্রেলিয়া ভয় পায়নি। তারা জানত, ম্যাচ জেতানোর অনেক ব্যাটার রয়েছে। সেটাই হল।
শুরুটা করে দিলেন ফিবি লিচফিল্ড ও বেথ মুনি। তাঁরা কিছুটা ধরে খেললেও উইকেট দেননি। সেই সময় আরও আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং বা বোলিং পরিবর্তন করা দরকার ছিল ভারতের। সেটা হল না। দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর জুটি বাঁধলেন পেরি ও গার্ডনার। তাঁদের ১০০ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে দিল।
যত খেলা গড়াল, তত পিচ সহজ হল। অস্ট্রেলিয়া জানত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ক্যাচ ফস্কে ম্যাচ ফস্কেছেন রাধা যাদব। তাই তিনি চাপে থাকবেন। তাঁকেই নিশানা করলেন দুই ব্যাটার। তাঁর এক ওভারে এল ১৭ রান। সেই শুরু। আর থামানো গেল না দু’জনকে। ম্যাচকে ভারতের হাত থেকে বার করে নিয়ে গেলেন তাঁরা। ৩৮ বলে ৫৬ রান করে পেরি আউট হলেও গার্ডনার ২৯ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকলেন। এক ওভার বাকি থাকতে ম্যাচ শেষ করে দিল অস্ট্রেলিয়া। আরও এক বার হতাশ হয়ে ফিরল ভারত।