১৮ জুন পুণের লোহাগড় দূর্গের পাহাড়ের কিনারা থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের। এখনও পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া গোয়ল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, কেতনের সঙ্গে বিয়েতে রাজি ছিলেন না সিয়া। বাড়িতে সে কথা জানাতে না-পেরে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে বাগ্দত্তা কেতনকে খুন করার পরিকল্পনা করেন তিনি। হত্যার পরিকল্পনা যাতে ধরা না-পড়ে সেই কারণে ঘটনার দিন চেতন ঠিক কী কী করেছিলেন, তার এক রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করেছেন তদন্তকারী। সেখানে ১০ ঘণ্টার সময়সীমার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ওই ১০ ঘণ্টা ডিজিটাল মাধ্যম থেকে দূরে ছিলেন চেতন, দাবি তদন্তকারী সূত্রে।
সকাল ৭টা: সিয়া এবং কেতনকে অনুসরণ করে লোণাবলার লোহাগড়ে গিয়েছিলেন চেতন। তবে জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করে যাতে কেউ তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে জানতে না-পারেন, সে জন্য মোবাইলের ডেটা বন্ধ করে দেন।
সকাল ৮টা: কেতন খুনের ঘটনার সঙ্গে যাতে কোনও ভাবেই মোবাইলের লোকেশন সূত্র ধরে তাঁকে কেউ জড়াতে না-পারেন, সে জন্য বিস্তর পরিকল্পনা করেছিলেন চেতন। লোহাগড় যাওয়ার আগে নিজের মোবাইল তাঁর দোকানেই রেখে যান। দোকানের কর্মীদের নির্দেশ দেন, ফোন এলে ধরতে।
বেলায়: নিজের মোবাইল রেখে গেলেও যোগাযোগ মসৃণ রাখতে নিজের দোকানের এক কর্মচারীর থেকে ফোন নিয়ে গিয়েছিলেন চেতন। তিনি ভেবেছিলেন, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে কখনওই তাঁর উপস্থিতি টের পাওয়া যাবে না।
দুপুর ২টো: লোহাগড়ের নিরাপত্তাকর্মী বা অন্য পর্যটকেরা কেউ যাতে তাঁকে শনাক্ত করতে না-পারেন সে জন্য হুডি ব্যবহার করেছিলেন চেতন। ১৮ জুন বেলায় লোহাগড়ে ৩৩ ডিগ্রি গরমেও গায়ে হুডি চাপিয়েছিলেন তিনি। মাথা ছিল ঢাকা। যতটা সম্ভব নিজেকে আড়াল করে সিয়া-কেতনকে অনুসরণ করেছিলেন চেতন। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। হুডির সূত্র ধরেই পুলিশ তাঁর খোঁজ পায়। সিসিটিভিতে ধরা পড়ে হুডি পরা যুবকের ছবি। এত গরমে কেন তিনি ওই শীতবস্ত্র পরেছিলেন, তা ভাবায় তদন্তকারীদের। জেরায় সিয়ার জবানবন্দিতে চেতনের কথা জানতে পেরে বিষয়টি আরও বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হয়। তখনই ওই ফুটেজ সাহায্য করে রহস্যের কিনারা করতে।
দুপুর আড়াইটে: কেতনকে কী ভাবে খুন করা হবে, তার পরিষ্কার পরিকল্পনা ছকে ফেলেছিলেন সিয়া-চেতন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাহাড়ের কিনারার কাছে গিয়ে কোনও অজুহাতে বসে পড়বেন সিয়া। আর সেটাই হবে সঙ্কেত। তখনই কাছেপিঠে লুকিয়ে থাকা আস্তানা থেকে বেরিয়ে কেতনকে ধাক্কা দেবেন চেতন। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই পরিকল্পনা মতো দুপুর আড়াইটে নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটানো হয়।
বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট: আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে চেতনের মোবাইলের ইন্টারনেট সংযোগ। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে ধোঁকা দেওয়ার যে পরিকল্পনা ছকেছিলেন তা পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে লুকিয়ে রাখা গিয়েছে। যদিও পরিকল্পনামতো কাজ করলেও পুলিশের চোখে ধুলো দিতে পারেননি সিয়া-চেতন।
আরও পড়ুন:
তদন্তের সূত্র ধরেই তদন্তকারীদের নজরে আসে চেতনের এই ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ‘ডিজিটাল জগৎ’ থেকে দূরে থাকার বিষয়টি। সেটাই রহস্যভেদে অন্যতম হাতিয়ার বলে মনে করছে পুলিশ। জেরায় বার বার এই ১০ ঘণ্টার কথা জানতে চাওয়া হয় চেতনের কাছে। তদন্তকারী সূত্রে দাবি, জেরায় নিজেদের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন চেতন। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই ১০ ঘণ্টায় চেতনের কাছে যে সব ফোন এসে তা অন্য কেউ ধরেছে। কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও সেই কথা জানতে পারেন তদন্তকারীরা।