দিল্লিতে চলতি বছরের প্রথম ১৫ দিনেই ৫০০-র বেশি মহিলা নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর রটেছিল। সংবাদসংস্থা পিটিআইও সেই খবর প্রকাশ করেছিল। শুক্রবার সেই দাবি উড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ। জানাল, বাণিজ্যিক অভিসন্ধিতে এই সমস্ত ভুয়ো প্রচার করা হচ্ছে। আদৌ বছরের প্রথম মাসের প্রথমার্ধে দিল্লি থেকে এত সংখ্যক মহিলা নিখোঁজ হননি। অন্তত তেমন কোনও পরিসংখ্যান তাদের হাতে নেই। এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়ালে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও সতর্ক করেছে রাজধানীর পুলিশ।
শুক্রবার সকালে দিল্লি পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, ‘‘কয়েকটি তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে আমরা জানতে পেরেছি, দিল্লিতে হঠাৎ করে বালিকা নিখোঁজ বেড়ে যাওয়া সংক্রান্ত যে খবর রটানো হচ্ছে, তার নেপথ্যে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। আর্থিক লাভের জন্য এ ভাবে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা চেষ্টা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করব।’’
গত ৩০ জানুয়ারি ‘দিল্লি পুলিশের তথ্য’ উল্লেখ করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের প্রথম ১৫ দিনে রাজধানী থেকে ৮০০ জনের বেশি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই মহিলা। এই সংক্রান্ত দিল্লি পুলিশের তথ্য যাচাই করে দেখা হয়েছে বলে দাবি করেছিল পিটিআই। তাতে বলা হয়েছিল, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে মোট নিখোঁজের সংখ্যা ৮০৭ জন (গড়ে প্রতি দিন ৫৪ জন করে)। এঁদের মধ্যে ৫০৯ জন মহিলা এবং ২৯৮ জন পুরুষ। নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে ১৯১ জন নাবালিক কিংবা নাবালিকা। ২৩৫ জনের খোঁজ পাওয়া গেলেও ৫৭২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয় পিটিআইয়ের রিপোর্টে।
২০২৫ সালের পরিসংখ্যানও উল্লেখ করেছিল সংবাদসংস্থাটি। বলা হয়, ২০২৫-এ দিল্লিতে মোট ২৪,৫০৮ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে পুলিশের খাতায় খবর নথিভুক্ত হয়েছিল। তার ৬০ শতাংশই ছিলেন মহিলা। তবে ২০২৬-এর শুরুতেই আচমকা নিখোঁজের পরিসংখ্যানে এই বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েক গুণ। অনুসন্ধান করে বিষয়টিকে ভুয়ো এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করল দিল্লি পুলিশ।