Advertisement
E-Paper

ইচ্ছার বিরুদ্ধে সন্তানধারণে বাধ্য করা যাবে না! ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বাকে গর্ভপাত করানোর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট

১৭ বছর বয়সে গর্ভধারণ করেছিলেন তরুণী। এখন তাঁর বয়স ১৮ বছর চার মাস। এক বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কে থাকার সময়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই তরুণীকে সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য করা হলে তাঁর মন এবং শরীরে চাপ পড়তে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৭

— প্রতীকী চিত্র।

১৮ বছরের এক তরুণীকে গর্ভপাত করানোর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। তিনি ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও মহিলাকে সন্তানধারণে বাধ্য করা যাবে না। এই মামলায় বম্বে হাই কোর্টের রায় খারিজ করেছে বিচারপতি বিভি নাগরত্নের বেঞ্চ। হাই কোর্ট তরুণীকে সন্তানধারণের নির্দেশ দিয়েছিল। জানিয়েছিল, সন্তান জন্মানোর পরে তাকে দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার সেই রায় খারিজ করে বলে, ‘‘কোনও মহিলা না চাইলেও তাঁকে সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য করতে পারে না কোর্ট।’’

১৭ বছর বয়সে গর্ভধারণ করেছিলেন তরুণী। এখন তাঁর বয়স ১৮ বছর চার মাস। এক বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কে থাকার সময়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই তরুণীকে সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য করা হলে তাঁর মন এবং শরীরে চাপ পড়তে পারে। তারা মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে জানায়, তরুণীর গর্ভপাত করানো হলে তাঁর জীবনের ঝুঁকি হবে না। যদিও হাই কোর্ট এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছিল।

তরুণীর আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে জানান, তাঁর মক্কেলকে সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য করা হলে তাতে তাঁর মনে আঘাত লাগতে পারে। বিষয়টি তাঁর জন্য সামাজিক লজ্জার হয়ে উঠতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তারা ‘অবৈধ’ সন্তানধারণে তরুণীর অনিচ্ছাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘‘সন্তানধারণের সময়ে তরুণী নাবালিকা ছিল। অতীতে যে সম্পর্ক ছিল, তার পরিণামেই এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই এই সন্তানকে এখন তিনি আর ধারণ করতে চান কি না, তা দেখতে হবে।’’

শীর্ষ আদালত এ-ও জানিয়েছে, তরুণীর ওই সম্পর্ক দু’জনের সম্মতিতেই গড়ে উঠেছিল কি না, তা জানার প্রয়োজন নেই। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘‘আসল কথা হল শিশুটি অবৈধ। আর মা সেই সন্তানকে ধারণ করতে চায় না। মায়ের সন্তানজন্ম দেওয়ার যে স্বাধীনতা রয়েছে, তাতেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মহিলা না চাইলে তাঁকে আদালত বাধ্য করতে পারে না।’’ তার পরেই সুপ্রিম কোর্ট চিকিৎসকের সহায়তায় ওই তরুণীর গর্ভপাত করানোর অনুমতি দেয়। বিচারপতি নাগরত্ন প্রশ্ন করেন, ‘‘কার স্বার্থ আমরা দেখব? যে সন্তান জন্মায়নি, তার, না কি যিনি জন্ম দিতে চলেছেন, সেই মায়ের?’’ শীর্ষ আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, এমটিপি আইনের বাইরে গিয়ে অনেক মা গর্ভপাত করাতে চান। চিকিৎসক তাঁদের গর্ভপাত করাতে রাজি না হলে তাঁরা হাতুড়ের কাছে যান।

ভারতে মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি আইন অনুসারে, ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বারা গর্ভপাত করাতে পারেন। ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা গর্ভপাত করাতে চাইলে তাঁকে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ নিতে হবে। গর্ভপাত করালে মায়ের জীবনের ঝুঁকি হতে পারে কি না জানতে হবে। ২৪ সপ্তাহের পরে গর্ভপাত করাতে চাইলে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন।

এর আগে বম্বে হাই কোর্ট জানিয়েছিল, গর্ভস্থ ভ্রূণ সুস্থ রয়েছে। তাই গর্ভপাত করানোর অনুমতি দিলে তা ‘ভ্রূণহত্যা’-র শামিল হবে। বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে এবং বিচারপতি অভয় জে মন্ত্রীর বেঞ্চ জানায়, প্রসবের সময় পর্যন্ত তরুণীর শারীরিক এবং মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুটি জন্মানোর পরে তাকে নথিভুক্ত রয়েছে এমন কোনও অনাথ আশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাকে দত্তক দেওয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়ে তরুণীকে সাহায্য করবে কোনও শিশু কল্যাণ কমিটি। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তরুণী।

তরুণীর মা, তাঁর গর্ভপাত করানোর আবেদন জানিয়ে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আবেদনকারীর অভিযোগ, তরুণীর যখন ১৭ বছর বয়স, তখন এক জনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। তার ফলেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আবেদনে জানানো হয়, ওই যুবক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসে বাধ্য করেছিলেন। ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা জানতে পারার পরে ২ জানুয়ারি থানায় এফআইআর করে পরিবার। তরুণীর আইনজীবীর দাবি, তিনি গর্ভপাত করাতে চান।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy