বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার দুপুর— এই ১২ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১২ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে সিকিমে। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও ভূমিকম্প হয়েছে। তবে এখনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনও খবর মেলেনি।
শুক্রবার রাত ১ টা বেজে ৯ মিনিটে সিকিমের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিমের মাটি কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫। পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং এলাকায় ভূগর্ভ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নীচে ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল। কেঁপে ওঠে সিকিম-সহ দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ অংশ। কম্পন অনুভূত হয়েছে অসম, নেপাল এবং চিনেও। মধ্যরাতে এ রাজ্যের পাহাড় থেকে সমতলেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। তার পর থেকে ১১ বার ভূমিকম্প হয়েছে সিকিম রাজ্যে।
রাত ১টা ১৫ মিনিটে গ্যাংটক থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কম্পনের সৃষ্টি হয়। রিখটার স্কেলে তখন মাত্রা ছিল ৩.১। তার পর আবার রাত ২টো ৩ মিনিট। এ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয় সিকিমের মঙ্গনে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ২.৫। রাত তখন ২টো বেজে ২০ মিনিট। ফের কেঁপে উঠে সিকিম। উৎসস্থল সিকিমের নামচি। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৩.৯। রাত ২টো ৪৩ মিনিটে পুনরায় কেঁপে ওঠে নামচি। নামচি থেকে ৫ কিলোমিটার গভীরে উৎসস্থল ছিল। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ২.৪। ২টা ৫৬ মিনিটে পুনরায় কম্পন অনুভূত হয় মঙ্গনে। পাঁচ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের উৎসস্থল। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ২.৪। ২ টা বেজে ৫৯ মিনিটে মঙ্গনের পাঁচ কিলোমিটার গভীরতায় ভূমিকম্পের উৎস ছিল। রিখটার স্কেলে মাত্রা আরও মৃদু— ২.৫। রাত ৩টে ১১ মিনিটে আবার ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা হয় ৪। ৩টা ৩৬মিনিটে রিখটার স্কেলে মাত্রা ২.৮। মঙ্গনের পাঁচ কিলোমিটার গভীরে উৎস। ৩টা ৫২ মিনিটে এবং ভোর ৪টা ৫৭ মিনিটে মঙ্গনে আবার ভূমিকম্প হয়েছে। ভোর ৫টা ২৯মিনিটে নামচির পাঁচ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ২.৯। তবে প্রথম বারের পরে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে নেপাল এবং চিনে। সিকিম আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর ডক্টর গোপীনাথ রাহা বলেন, ‘‘প্রথম বারের তীব্রতা বেশি ছিল। তার পর থেকে ১২ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে। সিকিমের বিভিন্ন প্রান্তে সেই কম্পন অনুভূত হয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
এখন পর্যটনের ভরা মরসুম। সিকিমের বিভিন্ন প্রান্ত পর্যটকে ভরা। ইতিমধ্যে পর্যটকদের ফোন পাচ্ছেন বিভিন্ন ট্যুর অপারেটররা। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘উৎকণ্ঠা নিয়ে বহু পর্যটক যোগাযোগ করছেন। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রতিনিয়ত সিকিম প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। সিকিম প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’’