শেষ লগ্নে থমকে গিয়েছিল উৎক্ষেপণ। সেই বাধা কাটিয়ে এ মাসেই কি ফের রওনা দেবে চন্দ্রযান-২? বুধবার দুপুর থেকেই এ নিয়ে নানান জল্পনা শুরু হয়েছে নেট দুনিয়ায়। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) এ নিয়ে রাত পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে একটি সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে ফের পাড়ি দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে অন্দরে। রকেটের সারাই পর্বও মোটামুটি শেষ হয়ে এসেছে। তাই ২১ বা ২২ জুলাই উৎক্ষেপণ করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ইসরোর প্রধান মুখপাত্র বিবেক সিংহ বলেন, ‘‘পুনরায় উৎক্ষেপণ নিয়ে কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই এ ব্যাপারে ঘোষণা করা হবে।’’ তবে ১৮ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দুপুর ২টো থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের উপরে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে খবর। এতেই জল্পনা আরও মাথাচাড়া দিয়েছে।

গত রবিবার রাতে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র থেকে রওনা দেওয়ার কথা ছিল জিএসএলভি মার্ক থ্রি রকেট বাহুবলীর। কিন্তু উৎক্ষেপণের ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড রকেটের ক্রায়োজেনিক জ্বালানির অংশে ত্রুটি ধরা পড়ে। সূত্রের খবর, ক্রায়োজেনিক জ্বালানির হিলিয়াম গ্যাসের চেম্বারে একটি ভাল্‌ভে ত্রুটি ছিল। সেটি সারিয়ে ফেলা হয়েছে। রকেটটি ফের আপাদমস্তক পরীক্ষা করে দ্রুত উৎক্ষেপণ সম্ভব।

চাঁদের এক দিন পৃথিবীর ১৪ দিন। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে ৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশে অবতরণের পর চন্দ্রযানের বিক্রম (ল্যান্ডার) ও প্রজ্ঞান (রোভার) সৌরশক্তিতে কাজ করবে। তাই সেখানে দিন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করতে হলে অগস্টের মাঝামাঝি রওনা দিতে হবে। এমনটাই বলেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। সে ক্ষেত্রে ২১ বা ২২ জুলাই রওনা দিলে কি কাজের সময় কমবে না?

ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্সের অধিকর্তা সন্দীপ চক্রবর্তীর মতে, আবর্তনের ফলে চাঁদের সঙ্গে পৃথিবীর কক্ষপথের আপেক্ষিক দূরত্ব ১৫ জুলাইয়ের তুলনায় বদলেছে। তার উপরে যাত্রাপথের দিনও কমেছে। তাই পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৬ সেপ্টেম্বর রাতেই বিক্রম-প্রজ্ঞানকে চাঁদে নামাতে হলে ইসরোর হাতে কয়েকটি পথ রয়েছে। প্রথমত, রওনা হওয়ার পরে মাঝপথে চন্দ্রযানের গতি নিয়ন্ত্রণ করে দু’টি কক্ষপথকে আগের জায়গায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, চাঁদের চার পাশে কম বার পাক খেয়েই অবতরণ করতে হবে। তৃতীয়ত, ৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশের বদলে তার আশপাশে চন্দ্রযানকে অবতরণ করাতে হবে। ‘‘তবে ইসরো ঠিক কোন পথে এগিয়ে উৎক্ষেপণ করতে চাইছে তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না,’’ মন্তব্য সন্দীপবাবুর।