Tokenization: প্রতি বার লেনদেনে আলাদা টোকেন, কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন কেনাকাটায় আসছে বড় বদল
যাঁরা সাধারণত ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে জিনিস কিনতে অভ্যস্ত, তাঁদের এ বার থেকে প্রতি বার কেনাকাটার সময় নতুন করে কার্ডের সব তথ্য ভরতে হবে।
ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে জিনিস কেনেন। কিন্তু প্রতি বার কার্ডের সব তথ্য আপনাকে ভর্তি করতে হয় না। অনলাইনে যেখান থেকে কেনেন, সেখানেই আপনার কার্ডের প্রাথমিক তথ্য রাখা থাকে। তাই হাতের কাছে কার্ড না থাকলেও শুধু কার্ডের পিছনে লেখা তিনটি সংখ্যা মনে থাকলেই হল। আপনি সেটা লিখে দিলেই আপনার ফোনে ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড চলে আসে। সেটা ভরে দিলেই, আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে যায় অনলাইন দোকানের অ্যাকাউন্টে।
এ বার থেকে কিন্তু ব্যাপারটা আর ততটা সোজা হবে না। ইউপিআই ব্যবহার করলে এক কথা। কিন্তু যাঁরা সাধারণত ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে জিনিস কিনতে অভ্যস্ত, তাঁদের এ বার থেকে প্রতি বার কেনাকাটার সময় নতুন করে কার্ডের সব তথ্য ভরতে হবে। আর না হলে ব্যবহার করতে পারেন টোকেন।
শীর্ষ ব্যাঙ্কের দাবি, আমার আপনার লেনদেনের সুরক্ষার জন্যই এই ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছে। দুরভিসন্ধি নিয়ে কেউ যাতে ক্রেতার আর্থিক তথ্য চুরি করতে না পারে তা দেখতেই চালু হচ্ছে টোকেন।
কেন এই নতুন ব্যবস্থা? আসুন দেখে নেওয়া যাক। চলতি ব্যবস্থায় আমরা যে আর্থিক তথ্য লেনদেন করি তা টাইপ করার সঙ্গে সঙ্গেই সঙ্কেতে বদলে যায়। ধরুন আপনি দু’জনের ফোনে আড়ি পাতলেন। কিন্তু সেই দু’জনের যোগাযোগ ব্যবস্থা এমন সুরক্ষা বলয়ে রয়েছে যে আড়ি পাতলেও আপনি শুধু কিছু আওয়াজ শুনতে পাবেন। কিন্তু কী আলোচনা হচ্ছে তা বাক্য হয়ে আপনার কাছে পৌঁছবে না।
এ বার যদি আপনার কাছেও ওই সঙ্কেত ভাঙার পদ্ধতি জানা থাকে তা হলে কিন্তু আপনি সেই সব গোপন আলোচনা শুনে ফেলবেন। সেই কথোপকথন আর আপনার কাছে অর্থহীন আওয়াজ হিসাবে কানে ধাক্কা মারবে না।
আরও পড়ুন:
এই একই ব্যাপার ঘটে যখন আমরা অনলাইন আর্থিক লেনদেন করি। আমাদের তথ্যের আদানপ্রদান থাকে সাঙ্কেতিক। কেউ সেই সঙ্কেতের মর্মোদ্ধার করতে পারলেই আর আপনার আর্থিক তথ্য গোপন থাকবে না।
আমরা যখন আর্থিক লেনদেন সুরক্ষিত আছে বলি, তখন আসলে যা বলি তা হল, এই সাঙ্কেতিক তথ্য আদানপ্রদানের মর্মোদ্ধার করতে গোটা ‘জীবন’ লেগে যাবে। কিন্তু অনেক সময় তা লাগেও না। অতি বুদ্ধিমান কেউ সুরক্ষা বলয় ভেঙে বা হ্যাক করে আপনার তথ্য চুরি করে ফেলতে পারে।
আর তাই আসছে টোকেন ব্যবস্থা। চলতি ব্যবস্থায় সুরক্ষার জন্য সঙ্কেত ব্যবহার করা হয় কিন্তু সেই সঙ্কেতের হদিশ জানা থাকলে তার মর্মোদ্ধার করে মূল তথ্য জেনে নিতে কোনও অসুবিধা নেই। টোকেন ব্যবস্থায় তা আর সম্ভব নয়।
এই ব্যবস্থায়, আপনি যে অনলাইন দোকানে জিনিস কিনতে চাইবেন আর যে কার্ড ব্যবহার করে তা করবেন, তার জন্য একটা টোকেন তৈরি করা হবে। সেই টোকেন সেই দোকানের জন্যই প্রযোজ্য হবে। অন্য দোকানের লেনদেনের জন্য থাকবে অন্য টোকেন।
আরও পড়ুন:
ধরা যাক আপনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কিছু করবেন। সেই দোকানে সেই ক্রেডিট কার্ডের নম্বরের জন্য একটা ইংরেজি অক্ষর ও সংখ্যা দিয়ে টোকেন তৈরি হবে। সেই টোকেনে আর কোনও তথ্য থাকবে না। কেউ যদি তা পান, তা হলে তা দিয়ে তিনি কিছুই করতে পারবেন না কারণ সেই টোকেনে আপনার লেনদেন বা কার্ড সম্পর্কিত কোনও তথ্যই থাকবে না।
কিন্তু ওই টোকেন যে আপনারই তা শুধু জানবে আপনার ব্যাঙ্ক। এবং তা যে আপনি অনলাইনে ওই বিশেষ দোকানেই লেনদেনের জন্য ব্যবহার করছেন তাও আপনার ব্যাঙ্কের তথ্যভান্ডারেই রাখা থাকবে। এর মাঝখানে আর কোথাও আপনার আর্থিক তথ্য থাকবে না।
অর্থাৎ বর্তমান ব্যবস্থায় যেমন আপনার সব তথ্যই সঙ্কেতের মধ্যে থেকে যাচ্ছে, তা আর এই ব্যবস্থায় থাকবে না। টোকেনটা অর্থবহ হবে শুধু আপনার ব্যাঙ্কের কাছেই। দোকানের কাছেও নয়। এই একমুখী তথ্য লেনদেনের ব্যবস্থাকেই বর্তমান প্রযুক্তিতে সব থেকে সুরক্ষিত বলে মনে করছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। কোয়ান্টাম কম্পিউটারের যুগে এ ব্যবস্থাও বদলাতে হবে কিনা তা অন্য প্রসঙ্গ।