ইতিহাস বলছে, আস্ত এক সেনাবাহিনীকে ঘায়েল করে দিয়েছিল এই মধুরূপী গরল। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে, কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে ট্র্যাবজ়নের কাছে যুদ্ধ করতে যান গ্রীক যোদ্ধা জ়েনোফোন। সেই যুদ্ধ করতে গিয়ে তাঁর সৈন্যরা মাত্রাতিরিক্ত মধু পান করে নাস্তানাবুদ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই মধু খেয়ে অনেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছিলেন না।
একসময় শত্রুবাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহার করা হত এই মধু। এক বার শত্রুপক্ষকে খাইয়ে দিতে পারলেই কেল্লাফতে! গোটা বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ত। সহজ উপায়ে যুদ্ধজয়ের পরিকল্পনা সফল হত অন্য পক্ষের। ৬৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তৃতীয় মিথ্রিডাটিক যুদ্ধের সময় রাজা মিথ্রিডেটস গ্রিক উদ্ভিদবিদ কেটুয়াসের পরামর্শে রোমান সৈন্যদের পথে ‘পাগলা মধু’র পাত্র রাখতে বলেছিলেন। মধু খেয়ে রোমান সৈন্যেরা ‘পাগলা মধু’র নেশায় অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাঁদের হত্যা করা হয়।
নেপালের গুরুঙ্গ উপজাতির অন্যতম পেশা হল পাহাড়ের খাঁজ থেকে এই মধু সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা। চিকিৎসাজগতে ড্রাগ হিসাবে ব্যবহৃত হয় এই গ্রায়ানোটক্সিন। স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অল্প পরিমাণে ‘ম্যাড হানি’কে ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করার চল রয়েছে। অনেকে আবার এই মধুর মাধ্যমে নেশাও করে থাকেন।
পাহাড়ের ঢালে চাক চাক মধু তৈরি করেন মধুকরেরা। নেপালের গুরুঙ্গ উপজাতির মানুষেরা মধু সংগ্রহের জন্য সারা শরীরে মোটা চট বেঁধে পাহাড়ে চড়েন মধু সংগ্রহ করতে। নেপালের বাসিন্দারা বছরে দু’বার মধু সংগ্রহ করে থাকেন। বসন্ত এবং শরতের শেষাশেষি। মধু সংগ্রহকারীরা মৌচাকের নাগাল পাওয়ার জন্য কাঠের দড়ির সিঁড়ি ব্যবহার করেন মৌমাছিদের ধোঁয়া দিয়ে তাড়ানোর জন্য নীচে আগুন জ্বালানো হয়।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy