After 4000 Point Market Crash and Rising Gold-silver Prices in India, Investors Confused Over Where to Invest dgtl
Best Investment Options for Investors
বছরের প্রথম ২১ দিনে চার হাজার পয়েন্ট পতন, ধরাছোঁয়ার বাইরে সোনা-রুপো! কেন এমন বিপরীত ছবি? কবে উঠবে বাজার?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিদেশি লগ্নিকারীদের উদ্বিগ্ন করেছিল। আমেরিকার মতো উন্নত দেশে বন্ড ইল্ড বাড়তে থাকায় এবং ডলারের দাম আরও চড়ায় ওই সব সংস্থা ভারতের মতো উন্নয়নশীল বাজারের উপর ভরসা করতে দ্বিধা করছে।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৪
Share:Save:
এই খবরটি সেভ করে রাখার জন্য পাশের আইকনটি ক্লিক করুন।
০১১৭
নতুন বছরের মাত্র ২১ দিন পেরিয়েছে। এই এক মাসের কম সময়ে রক্তাক্ত শেয়ার বাজার। স্বল্প ব্যবধানে সেনসেক্স প্রায় ৪০০০ পয়েন্ট পতনের সাক্ষী থেকেছে। গ্রিনল্যান্ডে উত্তেজনার আবহে ও বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে টলমল করছে ভারতের শেয়ার বাজার। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ তুলে নেওয়া হয়েছে ভারতের বাজার থেকে!
০২১৭
ভারতের বাজারে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রির প্রবণতা নতুন বছরেও অব্যাহত। ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ় ডিপোজ়িটরি লিমিটে়ড বা এনএসডিএল-এর হিসাবে, গত ১-১৬ জানুয়ারির মধ্যে বিদেশি সংস্থাগুলি শেয়ার বেচে ২২,৫৩০ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নিয়েছে।
০৩১৭
শেয়ার বাজারের স্টক বিনিয়োগকারীদের হতাশ করলেও সোনা-রুপোর দামের লেখচিত্র ঊর্ধ্বমুখী। নতুন বছরের প্রথম মাস শেষ হওয়ার আগেই ঘোড়দৌড় শুরু করে দিয়েছে সোনা-রুপো। বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি লাগাতার শেয়ার বিক্রি করলেও তার প্রভাব পড়েনি দুই ধাতুর দামে। বিশেষজ্ঞমহলের মতে, শেয়ারের অস্থিরতার ভয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
০৪১৭
শেয়ার বিক্রি করে সোনা এবং রুপোর মতো ধাতুতে টাকা ঢালছেন লগ্নিকারীরা। প্রতি দিনই হলুদ ধাতুর দামে নজির তৈরি হচ্ছে। পিছিয়ে নেই সাদা ধাতু রুপোও। বিরাট লাফে দাম বৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে রুপোও। কর ছাড়াই প্রতি কেজিতে তিন লক্ষ টাকার মাইলফলক পার হয়ে গিয়েছে রজত। মঙ্গলবার এক কেজি খুচরো রুপোর দর এক দিনের মধ্যে চড়েছে ১৮ হাজার ৫০ টাকা।
০৫১৭
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার জন্য মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপের দেশগুলিতে এর বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর জন্য অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ‘সবুজ দ্বীপ’ নিয়ে টানাপড়েনের আশঙ্কার আবহে বিনিয়োগকারীরাও দোলাচলে। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপের অধিকার নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি দেওয়ার পর শেয়ার বাজার এবং ডলার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
০৬১৭
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার মতো উন্নত দেশে বন্ড ইল্ড বাড়তে থাকায় এবং ডলারের দাম আরও চড়ায় ওই সব সংস্থা ভারতের মতো উন্নয়নশীল বাজারের উপর ভরসা করতে দ্বিধা করছে। তারা শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি তুলে নিয়ে ডলারে বিনিয়োগকে শ্রেয় বলে মনে করছে।
০৭১৭
সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি লগ্নিকারীদের উদ্বিগ্ন করেছিল। আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযান। তাকে সঙ্গত দিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের দখল ঘিরে নেটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতবিরোধও। ‘মিত্র’ দেশগুলিকেও শুল্ক-হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এই অবস্থায় বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রির ফলে ডলারের নিরিখে টাকার দামে ধস অব্যাহত।
০৮১৭
ডলারের নিরিখে অস্থির টাকা, বিশ্ববাণিজ্যে উদ্বেগ এবং ভারতের উপর আমেরিকার ৫০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আশঙ্কাও ভারতীয় বাজার থেকে তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ বলে মনে করছেন শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞেরা।
০৯১৭
২০২৫ সালে বাজারে বড় আঘাত হেনেছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির পুঁজি তুলে নেওয়া। ভারতের বাজারে নিট ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছিল বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি। ২০২৬-এর গোড়ায় মাদুরো-হরণ ও গ্রিনল্যান্ড-কাণ্ডে ধাক্কা খাচ্ছে দেশের বাজার। অর্থনীতির বিশ্লেষকদের মতে, যে কোনও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলে।
১০১৭
তাই সেই সব দেশের বাজারে সাবধানে পা ফেলেন লগ্নিকারীরা। ভবিষ্যতে ভারত থেকে আরও বিদেশি পুঁজি সরার আশঙ্কা থাকছেই। একাংশের মতে, আমেরিকা সরাসরি সংঘাতে নামায় তাদের বাজার ধাক্কা খেতে পারে। তার জেরও পড়তে পারে ভারত-সহ সারা বিশ্বের শেয়ার লেনদেনে।
১১১৭
আর্থিক সংস্থা স্মিফস লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কুণাল আচার্য আনন্দবাজার ডট কমকে জানিয়েছেন, ‘‘সূচক অনেকটাই উঁচুতে ছিল। ফলে এই ওঠানামা স্বাভাবিক। এটাই শেয়ার বাজারের জন্য স্বাস্থ্যকর। সূচকের দিকে তাকালে দেখা যাবে গত ২০ দিনে চার শতাংশ পড়েছে সেনসেক্স। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সূচকের লেখচিত্র হাজার পয়েন্ট উপরে থাকবে।’’
১২১৭
আগামী দিনে ব্যাঙ্কিং ফিনান্স, বিরল খনিজ সংস্থার স্টকগুলি ভাল ফল দিতে পারে বলে আশাবাদী কুণাল। এ ছাড়া ম্যাক্রো ইকনমিও ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে ফার্মার স্টকে পতনের আশঙ্কা রয়েছে। এ দেশের ফার্মা সংস্থাগুলির রাজস্বের একটা বড় অংশ আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেখানে বিপুল পরিমাণে ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম রফতানি করে থাকে তারা। নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তির নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্টকের দাম নিম্নমুখীই থাকবে বলে আশঙ্কা।
১৩১৭
ভেনেজ়ুয়েলাতেই আছে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় সোনার ভান্ডার। এর বর্তমান বাজারদর ২২০০ কোটি ডলার (প্রায় ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা)। ফলে সে দেশে আমেরিকার হামলা ধাতুটির দামকে আরও ঠেলে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। আবার শিল্পে চাহিদা ও সোনার বিকল্প হিসাবে লগ্নিকারীদের পছন্দের তালিকায় আছে রুপোও। তাই তার দাম বাড়ছে চড়চড় করে।
১৪১৭
সদ্যসমাপ্ত বছরে বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদা বেড়েছে ৭০ শতাংশ এবং রুপোর ১৬০ শতাংশ। ভারতে উত্থান যথাক্রমে ৭৩ শতাংশ ও ১৬৪ শতাংশ। বিশ্লেষকদের দাবি, সোনা-রুপোয় লগ্নি এবং শিল্পে রুপোর চাহিদা বৃদ্ধিই মূলত গত বছর সেগুলির দামকে নজিরবিহীন উচ্চতায় ঠেলে তুলেছিল। বাজার বিশেষ়জ্ঞদের একাংশের মতে সোনার দামে ছেঁকা লাগার অন্যতম কারণ হল চিন, ভারত-সহ পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সোনার ভাঁড়ার বৃদ্ধি করা। অন্য দিকে বিদেশি মুদ্রাভান্ডারে ডলারের খামতি।
১৫১৭
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক ‘হলুদ ধাতু’ ক্রয়ের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককেও একই রাস্তা নিতে দেখা গিয়েছে। ফলে ঘরোয়া বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সোনার দাম। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতা বাড়ছে বলে জানা গিয়েছে। আগামি এক বছরের মধ্যে সোনার দর প্রতি দশ গ্রামে তিন লক্ষ টাকা ছুঁয়ে ফেলবে বলে ধারণা বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
১৬১৭
অন্য দিকে রুপোয় বিনিয়োগের যে হিড়িক তৈরি হয়েছে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে না বলে মত কুণালের। তিনি জানিয়েছেন, চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাবের ফলে রুপোর দামে রকেটগতি। দামবৃদ্ধির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, এর আগেও রুপোর নজিরবিহীন দামবৃদ্ধির পর হঠাৎ করেই সেই বুদবুদ ফেটে গিয়ে দাম একেবারে তলানিতে চলে যায়। ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল রুপোর দাম। তাই রুপোর রেকর্ড দাম বৃদ্ধি হলে একঝটকায় বিনিয়োগকারীরা লাভের মুখ দেখতে পারবেন। তবে ‘হলুদ ধাতু’র নিরিখে সাদা ধাতুর দামের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মত তাঁর।
১৭১৭
২১ দিনে প্রায় ৪০০০ পয়েন্ট পতনের খুব একটা আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ। এক থেকে দে়ড় বছর পর্যন্ত এই অস্থিরতা বজায় থাকবে ভারতের বাজারে। তাঁদের মতে আগামী ত্রৈমাসিকে আরও সুদ কমানোর পথে হাঁটতে পারে ভারতের রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমালে শেয়ার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে এত অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ভাল জায়গায় দাঁড়িয়ে। ভারতের অর্থনীতির ভিত পোক্ত