Advertisement
E-Paper

অবসরের আগে দুর্দান্ত কামব্যাক, হরমুজ়ে ইরানকে নাস্তানাবুদ করছে ‘বুনো শুয়োর’! কেন ‘কুৎসিত উড়ন্ত ট্যাঙ্কে’ ভরসা রাখছে আমেরিকা?

আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক মহলে এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ বিমানটি পরিচিত ‘ফ্লাইং ট্যাঙ্ক’ বা ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’ নামে। ‘আফ্রিকান বুনো দাঁতাল শুয়োর’ও বলা হয় বিমানটিকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫৫
A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০১ / ১৮

তৈরি করা হয়েছিল ইউরোপের সমভূমির উপর দিয়ে এগিয়ে চলা সোভিয়েত ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার জন্য। পুরোনো এবং ‘কুৎসিত’ সেই ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’ বাতিল করতেও চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু সেই ‘বুড়ো ঘোড়া’ এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ বিমানই এখন ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ় অভিযানে আমেরিকার তুরুপের তাস। তৈরির কয়েক দশক পরে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের অস্ত্রসজ্জিত নৌকা নিধনে নেমেছে বিমানটি।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০২ / ১৮

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের এক প্রেস বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসাবে এ-১০ বিমানগুলি এখন হরমুজ় প্রণালীতে শত্রুপক্ষের ছোট জলযানগুলির উপর হামলা চালাচ্ছে। ইরানকে ধরাশায়ী করতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে হরমুজ় জুড়ে।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০৩ / ১৮

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-ও আলাদা ভাবে উল্লেখ করেছে, এ-১০ বিমানগুলি শত্রুঘাঁটিতে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চক্কর কাটতে পারে। যে কোনও মুহূর্তে আক্রমণ চালানোর জন্যও প্রস্তুত থাকে বিমানটি। সেন্টকম এ-ও নিশ্চিত করেছে, হরমুজ়ে ইরানের অস্ত্রসজ্জিত নৌকা ডোবানো ছাড়াও বিবিধ কাজের এলেম রয়েছে এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২-এর।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০৪ / ১৮

আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক মহলে এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ বিমানটি পরিচিত ‘ফ্লাইং ট্যাঙ্ক’ বা ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’ নামে। আফ্রিকান বুনো দাঁতাল শুয়োরও বলা হয় বিমানটিকে। অদ্ভুত চেহারার জন্য ‘কুৎসিত বিমান’-এর তকমাও পেয়েছে এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০৫ / ১৮

১৯৭২ সালে চালু হওয়া পুরোনো সেই বিমানটিকে একাধিক বার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু এখন হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ দক্ষ বলে প্রমাণিত হওয়ার পর বিমানটিকে অবসরে পাঠানোর চিন্তা প্রসঙ্গে অনেক দিন ধরে চলা বিতর্কের পালে হাওয়া লেগেছে।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০৬ / ১৮

এ-১০ খ্যাতি অর্জন করেছিল আকাশ থেকে নয়, বরং মাটির কাছাকাছি গিয়ে হামলা চালানোর জন্য। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ‘ক্লোজ় এয়ার সাপোর্ট (সিএএস)’-এর জন্য একসময় এই বিমানের জুড়ি মেলা ভার ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সেনার মাথার উপর দীর্ঘ ক্ষণ ধরে উড়তে, প্রচণ্ড আঘাত সহ্য করতে এবং নির্ভুল ও অবিরাম গুলিবর্ষণ করতে সক্ষম বিমানটি।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০৭ / ১৮

এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২-এর ‘জিএইউ-৮ অ্যাভেঞ্জার রোটারি’ কামান প্রতি মিনিটে প্রায় ৩,৯০০টি ইউরেনিয়াম গুলি ছুড়তে পারে। বিমানের বহিরাবরণ এবং নকশা সেই বিশাল ও শক্তিশালী কামানটিকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়েছিল।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০৮ / ১৮

অতিরিক্ত হাইড্রলিক্স, চালককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য টাইটেনিয়ামের তৈরি ‘বাথটাবের’ মতো দেখতে ছাদ এবং একটি মাত্র ইঞ্জিনে ওড়ার ক্ষমতা এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২-কে এমন শক্তিশালী করেছে যা দ্রুততর এবং উন্নত বিমানগুলি কম উচ্চতা এবং কম গতিতে অর্জন করতে পারে না।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
০৯ / ১৮

উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং আফগানিস্তান ও ইরাকে দু’দশক ধরে মার্কিন বাহিনীর গ্রাউন্ড কমান্ডারেরা এ-১০ বিমানটির উপর এমন ভাবে আস্থা দেখিয়েছিলেন, যা তাঁরা সুপারসনিক যুদ্ধবিমানগুলির উপর দেখাতে পারেননি।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
১০ / ১৮

দ্রুত গতির জন্য অনেক পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য উন্নত বিমানগুলির চোখে ধরা পড়ে না। কিন্তু সে ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রমী এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২। মাঝারি গতির এই বিমান অনেক কম উচ্চতায় উড়তে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করতে সুবিধা হয় চালকদের।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
১১ / ১৮

তবে আমেরিকার বায়ুসেনা বহু বছর ধরে এ-১০কে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তা করে চলেছে। বায়ুসেনা কর্তাদের যুক্তি, ওই বিমানগুলিকে বাতিল করা গেলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় আমেরিকাকে অনেক এগিয়ে দেবে।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
১২ / ১৮

‘ক্লোজ় এয়ার সাপোর্ট (সিএএস)’-এর ক্ষেত্রে আমেরিকার বায়ুসেনার কর্তারা এ-১০কে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার পর সেই প্রস্তাব ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন মূল্যায়নে প্রশ্ন উঠেছে যে, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি আদৌ এ-১০র বিকল্প কি না।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
১৩ / ১৮

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনটি বড় আকারের বিমান বাতিল করার বিষয়টি সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী কংগ্রেসের কাছে বিমানের অবসর সংক্রান্ত পরিকল্পনা জমা না দেওয়া পর্যন্ত এ-১০ বিমানের বহরের সর্বনিম্ন সংখ্যা ১০৩-এর বেশি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়সীমা পরিবর্তিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমেরিকার বায়ুসেনা প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
১৪ / ১৮

অলাভজনক এবং নির্দলীয় মার্কিন ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ স্টিমসন সেন্টারের কর্তা ড্যান গ্রেজ়িয়ার জানিয়েছেন, হরমুজ় অভিযানে সাফল্যের কারণে এ-১০ বিমানের অবসরের যুক্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। ‘ডিফেন্স ওয়ান’ ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গ্রেজ়িয়ার বলেন, ‘‘এ-১০ শুধুমাত্র সামরিক কার্যকারিতাকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি অস্ত্রব্যবস্থা। এটিকে প্রতিস্থাপন করতে চাওয়া যুক্তিগুলির চেয়ে এটি বেশি কর্মক্ষম।’’

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
১৫ / ১৮

আমেরিকার চতুর্থ এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম)-কে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, যে কোনও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে সস্তা ড্রোনের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা খুব একটা কাজের কথা নয়। কারণ, একটি অত্যাধুনিক বিমান নষ্ট হওয়ার অর্থ কয়েকশো কোটির ক্ষতি। সে ক্ষেত্রে এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২-র মতো পুরোনো বিমান ব্যবহারই যুক্তিযুক্ত।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
১৬ / ১৮

গত সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়ার একটি অজ্ঞাত মার্কিন ঘাঁটিতে আমেরিকার বায়ুসেনার অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করা নিয়ে বিবিধ জল্পনা ছড়ায়। এফ-৩৫এ লাইটনিং ২ হল মার্কিন বিমানবাহিনীর সবচেয়ে দামি বিমান। স্টেলথ বিমানটি এমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি যে শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও, বৃহস্পতিবার এফ-৩৫এ বিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে নিশ্চিত করেছিল পেন্টাগন।

All You Need to Know About the A-10 Thunderbolt II ‘Flying Tank’ Dominating US Missions in the Strait of Hormuz
১৭ / ১৮

ইরানের সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)’ দাবি করেছিল, তাদের তরফেই আঘাত হানা হয়েছিল আমেরিকার সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানটিতে। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র এফ-৩৫ বিমানটির বাম পাশে আঘাত হানে। তবে ইরানের গোলাবর্ষণে বিমানটি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল কি না বা ইরান কোনও বিশেষ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধবিমানটিকে নামিয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আমেরিকা জানিয়েছে, ইরানের দাবি তদন্ত করে দেখছে তারা।

A-10 Thunderbolt II aka Flying Tank
১৮ / ১৮

ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে এফ-৩৫-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও যেখানে অকেজো বলে প্রমাণিত হচ্ছে, সেখানে এ-১০ বিমানটি হরমুজ়ে ইরানের অস্ত্রসজ্জিত নৌকার ওপর ক্রমাগত গুলিবর্ষণ করছে। সাফল্যও পাচ্ছে ‘কুৎসিত’ বিমানটি। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ বিমানটিকে বাতিল করা নিয়ে কৌশলগত ভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না তো মার্কিন সামরিক বাহিনী?

সব ছবি: সংগৃহীত।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy