নাইট ক্লাবে বিশেষ মুহূর্তে ইরান অভিযান নিয়ে গোপন তথ্য ফাঁস করেছে ‘বিষণ্ণ’ মার্কিন সেনা! স্ট্রিপারের দাবিতে হইচই
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও সম্প্রতি জানিয়েছে, ইউএসএস ত্রিপোলি রণতরীতে থাকা প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাবিক ও নৌসেনা সপ্তাহান্তে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। তার মধ্যেই নাইট ক্লাবের পানশালার স্ট্রিপারের দাবি আমেরিকার সামরিক মহলে হইচই ফেলেছে।
নাইট ক্লাবে গিয়ে নেশার ঘোরে ইরানে হতে চলা তাঁদের আসন্ন অভিযান সম্পর্কে গোপন তথ্য অবলীলায় ফাঁস করছেন মার্কিন সেনারা! দাবি করলেন সান ডিয়েগো-ভিত্তিক এক নাইট ক্লাব কর্মী।
পেশায় স্ট্রিপার ওই তরুণীর দাবি, মার্কিন সেনারা নাইট ক্লাবগুলিতে পশ্চিম এশিয়ায় তাঁদের আসন্ন মোতায়েন সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছেন। মদের ঘোরে সামরিক ঘাঁটির কাছের পানশালাগুলিতে গিয়েই আমেরিকার সেনারা গোপন তথ্য বলে আসছেন বলেও দাবি করেছেন ওই তরুণী।
সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন চার্ম ডেজ় নামে ওই স্ট্রিপার। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভিডিয়োয় ডেজ় দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশের পানশালাগুলিতে সে দেশের তরুণ সেনাদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘সম্প্রতি আমি একটা জিনিস লক্ষ করছি যে, সামরিক বাহিনীর সদস্যেরা পানশালাগুলিতে আসছেন এবং তাঁদের সব টাকা খরচ করে ফেলছেন। ওঁরা কিছুটা বিষণ্ণ। ইচ্ছা থাকলেও মজা করতে পারছেন না। এ-ও বলছেন যে, আগামী সপ্তাহে তাঁদের মোতায়েন করা হবে।’’
স্ট্রিপার আরও বর্ণনা করেছেন, কী ভাবে সেনা সদস্যদের ওই সব কথাবার্তা তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে প্রভাবিত করেছে। ডেজ়ের কথায়, “ওই তরুণ সেনকর্মীদের মধ্যে অনেকেই খুব দয়ালু। ওঁদের আসতে দেখে এবং নাচতে দেখে ভাল লাগছে। কিন্তু কিছু দিন পরে এঁদের বিদায় বলে চলে যেতে হবে মনে করলেই আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছি।”
আরও পড়ুন:
তরুণ মার্কিন সেনাদের ‘বাচ্চা’ এবং তাঁদের আচরণ ‘শিশুসুলভ’ বলেও উল্লেখ করেছেন ডেজ়। ডেজ় যে ভিডিয়োটি পোস্ট করেছেন তার ক্যাপশনে লিখেছেন, “এই মুহূর্তে নাইট ক্লাবগুলিতে কাজ করতে গিয়ে আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি।”
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর মতে, ডেজ় আমেরিকা জুড়ে বিভিন্ন নাইট ক্লাবে কাজ করলেও তিনি সান ডিয়েগোয় থাকেন। আমেরিকার শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত সান ডিয়েগো। ওই অঞ্চলে সান ডিয়েগো, করোনাডো এবং ক্যাম্প পেন্ডলটনের মতো প্রধান মার্কিন নৌঘাঁটি রয়েছে।
আর সে কারণেই ডেজ়ের ওই ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরে তরুণ মার্কিন সেনাকর্মীদের পানশালায় গিয়ে মদের ঘোরে গোপন অভিযান সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।
ডেজ়ের ভিডিয়োটি মেরিন অফিসার এবং নেটপ্রভাবী কাগান ডানল্যাপ-সহ অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সমাজমাধ্যমে এক্স-এ একটি পোস্টে কাগান বলেন, “তরুণ সেনাদের সতর্ক করছি। আপনারা স্ট্রিপারদের কাছে গোপন কথা বলবেন না। আপনাকে কোথায় মোতায়েন করা হচ্ছে, সে সংক্রান্ত তথ্য জানানোরও দরকার নেই।’’
আরও পড়ুন:
অন্য বিশেষজ্ঞেরাও জানিয়েছেন, অভিযান সংক্রান্ত যে কোনও তথ্যই ফাঁস করা সেনাকর্মীদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ। এমনকি, খুব কাছের মানুষকেও সে সব কথা বলা যায় না। সেখানে পানশালার বিনোদনকর্মী তো অনেক দূরের ব্যাপার। এক জন সেনাকর্মীকে কোথায় মোতায়েন করা হবে, তিনি কবে, কখন এবং কাদের সঙ্গে সেখানে যাবেন, সে তথ্য ফাঁস করা অনুচিত বলে মনে করিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।
নাইট ক্লাবের স্ট্রিপারের ভিডিয়োটি এমন সময় প্রকাশ্যে এসেছে যখন আমেরিকা অশান্ত পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য সেনা প্রস্তুত করছে বলে খবরে উঠে এসেছে।
খবর, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েনের জন্য হাজার হাজার সেনাকর্মীকে প্রস্তুত রেখেছে পেন্টাগন। এর মধ্যে নর্থ ক্যারোলিনা-ভিত্তিক সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনা রয়েছেন বলেও খবর।
অন্য দিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও জানিয়েছে যে, ইউএসএস ত্রিপোলি রণতরীতে থাকা প্রায় ৩,৫০০ নাবিক ও নৌসেনা সপ্তাহান্তে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। তার মধ্যেই নাইট ক্লাবের পানশালার স্ট্রিপারের ওই দাবি আমেরিকার সামরিক মহলে হইচই ফেলেছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে তরুণ সেনাদের একাংশকে সাবধানও করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের উপর ইজ়রায়েল ও আমেরিকা বিমানহামলা (যার পোশাকি নাম যথাক্রমে ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) চালিয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, ৮৬ বছরের খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষনেতার।
তার পর থেকে সংঘাত চলছে দু’পক্ষের মধ্যে। সেই সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে পা দিয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারে। অর্থাৎ, যুদ্ধ শেষের মুখে থাকারই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনার মধ্যে তেহরানকে বার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করার পাশাপাশি তেহরানকে পরোক্ষ হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি, যার পাল্টা জবাব এসেছে ইরান থেকেও।
এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের কোনও ‘চাপিয়ে দেওয়া শর্ত’ মানা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ইরানের নতুন নেতৃত্ব। ফলে ট্রাম্পের তরফে ইরানের দেওয়া ‘যুদ্ধবিরতির অনুরোধের’ দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।