Advertisement
১৯ জানুয়ারি ২০২৬
US vs NATO military power

গ্রিনল্যান্ডে সেনা নামিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ! পরমাণু অস্ত্র, রণতরী, জেটের সংখ্যায় আমেরিকা না নেটো, কার পাল্লা ভারী?

গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার জন্য জোটবদ্ধ হতে শুরু করেছে ইউরোপের রথী-মহারথীরা। মার্কিন সেনাকে বাদ দিয়ে নেটোর সামরিক শক্তি কতখানি থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। গ্রিনল্যান্ড দখলে যুদ্ধ বাধলে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে কে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০০
Share: Save:
০১ ২৩
US vs NATO military power

অন্য দেশে অভিযান চালিয়ে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে তুলে আনা। ভেনেজ়ুয়েলার তেলসম্পদ কুক্ষিগত করতে যে সামরিক অভিযান আমেরিকা চালিয়েছে তা একশো শতাংশ সফল। লাটিন আমেরিকার দেশে অভিযানের সফলতা পেয়ে আরও একটি এলাকার দিকে হাত বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের নজর এ বার ‘পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপের’ দিকে। বরফে ঢাকা ‘সবুজ দ্বীপ’কে ইউনাই়টে়ড স্টেটস অফ আমেরিকার মানচিত্রে যুক্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন ট্রাম্প।

০২ ২৩
US vs NATO military power

কানাডার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ‘সবুজ দ্বীপ’ অর্থাৎ গ্রিনল্যান্ডে পাওয়া যেতে পারে লিথিয়াম, নিওবিয়াম, হাফনিয়াম এবং জ়িরকোনিয়ামের মতো দুষ্প্রাপ্ত ধাতু। সেই ধাতুর লোভেই গ্রিনল্যান্ডকে হাতের মুঠোয় করতে চাইছে আমেরিকা, এমনটাই মত বিশ্লেষকদের। ট্রাম্পের এ–হেন পরিকল্পনায় স্বাভাবিক ভাবেই তুমুল বিরোধিতায় নেমেছেন গ্রিনল্যান্ডের নেতা-নেত্রীরা এবং ‘অভিভাবক’ ডেনমার্ক। আমেরিকার ‘দাদাগিরি’ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবে না কোপেনহেগেন, চোখে চোখ রেখে ওয়াশিংটনকে বুঝিয়ে দিয়েছে নর্ডিক দেশের সরকার।

০৩ ২৩
US vs NATO military power

সেনা নামিয়ে দেশ দখলের মার্কিন অভিসন্ধি বুঝতে পেরে গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করেছে ডেনমার্ক সরকার। তারা জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ‘বন্ধু’র সঙ্গে মিলে গ্রিনল্যান্ড সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। মূল ভূখণ্ড থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ডের উপর গত প্রায় ৩০০ বছর ধরে নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে ডেনমার্ক। ওয়াশিংটনের হুমকিতে তারা যে দ্বীপরাষ্ট্রের মৌরসিপাট্টা সহজে ছেড়ে দেবে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন।

০৪ ২৩
US vs NATO military power

গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার জন্য জোটবদ্ধ হতে শুরু করেছে ইউরোপের রথী-মহারথীরা। একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, ব্রিটেন, স্পেন, পোল্যান্ড একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছে, মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করার বিষয়ে সহমত হয়েছে এই দেশগুলি। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হবে, তা ঠিক করবে গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কই।

০৫ ২৩
US vs NATO military power

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের একের পর এক আগ্রাসী মন্তব্যে ফুঁসে উঠেছে নেটো-ভুক্ত ফ্রান্স ও জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ করলে গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে, তা গত বছরই স্পষ্ট করেছিলেন ফরাসি বিদেশমন্ত্রী জ়িন নোয়েল ব্যারট। ডেনমার্কও হুমকি দিয়েছে, আমেরিকা যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তা হলে নেটোর দিন শেষ। পাল্টা নেটো ছাড়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও।

০৬ ২৩
US vs NATO military power

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, নেটোর শিরদাঁড়াই হল পেন্টাগন। নেটো ছেড়ে আমেরিকা বেরিয়ে এলে নেটোর শক্তিক্ষয় হতে বাধ্য। পেন্টাগন তাদের হাত নেটোর মাথা থেকে সরিয়ে নিলে সংগঠনের অস্তিত্ব নিয়েই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে। ১৯৫০ সাল থেকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের ওই সেনাছাউনি ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ নামে পরিচিত। সেটির অস্তিত্ব আজও বর্তমান। অন্য দিকে গ্রিনল্যান্ড সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশটির অংশ হওয়ায় এত দিন নেটোর সামরিক ছাতার তলায় থাকতে এর কোনও অসুবিধা হয়নি।

০৭ ২৩
US vs NATO military power

অন্য দিকে কোপেনহেগেনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মতে, ‘সবুজ দ্বীপ’-এ আগ্রাসনের অর্থ হল আমেরিকার সামরিক জোট নেটোর অবসান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্থিতিশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে এর ফলে। গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আগ্রাসন হলে নেটোর শেষের শুরু অনিবার্য। বর্তমানে ‘উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা’ বা নেটোর (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজ়েশন) সদস্যসংখ্যা ৩২। সেই তালিকায় ওয়াশিংটন ছাড়াও আছে পরমাণু শক্তিধর দুই ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন এবং ফ্রান্স।

০৮ ২৩
US vs NATO military power

আমেরিকা যদি নেটোর অন্য কোনও সদস্যরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শন করে, তার ফল কী হবে সেই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে নেমে পড়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞেরা। গ্রিনল্যান্ড দখল করতে এলে মার্কিন সেনাদের ঠেকাতে কতটা কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারবে নেটো? এই প্রশ্নটাই ভাবিয়ে তুলেছে তাঁদের। ডেনমার্কের একক শক্তিই বা কতখানি? আমেরিকার একদা ‘প্রিয়পাত্র’ ডেনমার্ক পেন্টাগনের সামনে বুক চিতিয়ে কতটা লড়াই করতে পারবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুল্যমূল্য বিচার।

০৯ ২৩
US vs NATO military power

‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স’ নামের আন্তর্জাতিক সমীক্ষক সংস্থার রেটিং অনুযায়ী সামরিক শক্তির শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই। দু’দশক আগে ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বের তাবড় শক্তিশালী দেশগুলির ফৌজিশক্তি সংক্রান্ত তালিকা তৈরি করে ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার’। শুরুর দিন থেকেই ফার্স্ট বয়ের তকমা ধরে রেখেছে আমেরিকা। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

১০ ২৩
US vs NATO military power

আন্তর্জাতিক সংস্থা ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার দখলে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে সমীক্ষা সংস্থা জানিয়েছে আমেরিকার হাতে রয়েছে ২১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০০ সৈনিক। দেশের বাইরে অন্তত ১০০টি সেনাঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে ওয়াশিংটন। সেখান থেকে বিশ্বের যে কোনও জায়গায় আক্রমণ শানানোর ক্ষমতা রয়েছে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের পারের ‘সুপার পাওয়ারের’।

১১ ২৩
US vs NATO military power

২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার খরচ করেছে। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে তা ছিল ৭৫ হাজার কোটি ডলার। তালিকার প্রথম পাঁচে থাকা দেশগুলির মোট প্রতিরক্ষা বরাদ্দের মধ্যে আমেরিকা একাই ৬২.৩ শতাংশ ব্যয় করে থাকে। এই পরিমাণ খরচের ধারেপাশে কোনও দেশই পৌঁছোতে পারেনি। এমনকি আমেরিকার ‘চিরশত্রু’ রাশিয়াও নয়।

১২ ২৩
US vs NATO military power

অন্য দিকে নেটোর সদস্য ডেনমার্কের রয়েছে নিজস্ব সেনাবাহিনী। ডেনমার্কের সশস্ত্র বাহিনীর পোশাকি নাম রয়্যাল ড্যানিশ আর্মি। সমরকৌশল ও ফৌজিশক্তির দাঁড়িপাল্লায় রাখলে মার্কিন বাহিনীর ধারেকাছে দাঁড়াতে পারবে না ডেনিশ ফৌজ, মত সমরকুশলীদের। আধুনিক ড্যানিশ সামরিক বাহিনী ১৫১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৩ ২৩
US vs NATO military power

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ডেনমার্ক তুলনামূলক ভাবে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী নিয়ে তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ পেশাদার সৈন্য ছিল। মোট সক্রিয় সামরিক কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী-সহ)। সংরক্ষিত সৈন্যের সংখ্যা ১২ হাজার। এ ছাড়াও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৫১ হাজার।

১৪ ২৩
US vs NATO military power

‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার’-এর ২০২৫ সালের তথ্য বলছে ১৩ হাজার ৪৩টি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে আমেরিকান বায়ুসেনা। এর মধ্যে বোমারু বিমান ও লড়াকু জেটের সংখ্যা ১,৭৯০। পেন্টাগনের কাছে রয়েছে ৫৮৪৩টি ফৌজি হেলিকপ্টার। এর মধ্যে হামলাকারী কপ্টারের সংখ্যা ১,০০২। ডেনমার্কের আকাশশক্তির দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, রয়্যাল ড্যানিশ বিমানবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৩৬০০। মোট ১১৭টি বিমান রয়েছে ডেনমার্কের বিমানবাহিনীর হাতে। তার মধ্যে মাত্র ৩১টি লড়াকু যুদ্ধবিমান। বিমানবাহিনীর নতুন সংযোজন এফ৩৫-এ স্টেলথ ফাইটার যুদ্ধবিমানটি।

১৫ ২৩
US vs NATO military power

মার্কিন সেনার সঙ্গে সমরাঙ্গনে পাল্লা দিতে গিয়ে লেজেগোবরে হতে পারে ড্যানিশ ফৌজ, এমনটাই মত অধিকাংশ সমর বিশেষজ্ঞের। তবে এই মত যেমন রয়েছে, তেমন এর বিরুদ্ধমতও প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে নেটো-ভুক্ত যে দেশগুলি গলার স্বর চড়িয়েছে তাদের মিলিত শক্তির সামনে কিছুটা হলেও বেগ পেতে হতে পারে পেন্টাগনকে।

১৬ ২৩
US vs NATO military power

নেটোর সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নেটো-ভুক্ত অন্য কোনও জোট মহাশক্তিধর এই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবে এই ধারণাটি কয়েক বছর আগে পর্যন্ত অকল্পনীয় ছিল। নেটোর মূল ভিত্তি হল এর চুক্তির একটি অনুচ্ছেদ। নেটো তৈরির সময় যে চুক্তি হয় তার ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, একটি সদস্য রাষ্ট্রের উপর আক্রমণকে নেটোর সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ হিসাবে গণ্য করা হবে। প্রতিটি দেশকে সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। সোজাসুজি ভাবে বলতে গেলে আক্রমণকারী দেশকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তি, সম্পদ এবং বিশেষ করে ভয়ঙ্কর সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের হুমকির মুখোমুখি হতে হবে।

১৭ ২৩
US vs NATO military power

ওয়াশিংটন বছরের পর বছর ধরে অন্যান্য নেটো-ভুক্ত দেশগুলির তুলনায় জিডিপির দিক থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অনেক বেশি জোর দিয়েছে। যদিও নেটো জোটের সমস্ত রাষ্ট্রগুলি গত বছরের (২০২৫ সালের) জুনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে হোয়াইট হাউসকে সন্তুষ্ট করার জন্য নেটোর সদস্যেরা প্রতিরক্ষা এবং সম্পর্কিত খাতে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।

১৮ ২৩
US vs NATO military power

নেটোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী এখনও পর্যন্ত অন্যান্য জোট রাষ্ট্রের তুলনায় সবচেয়ে বড়। ইংল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ়ের সাম্প্রতিক অনুমান অনুসারে, মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে ১,৪০০টিরও বেশি যুদ্ধ-সক্ষম বিমান রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দূরপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান থেকে শুরু করে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার।

১৯ ২৩
US vs NATO military power

আইআইএসএস-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ২১০টি বিমান ছিল। অন্য দিকে, থিঙ্ক ট্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা প্রায় ২৮৩। তুরস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের সেনাবাহিনীতে ৩০০টিরও কম জেটবিমান রয়েছে বলে মনে করা হয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমেরিকা বাদে সামরিক ব্যয়ের শীর্ষে প্রধান ব্যয়কারী পোল্যান্ডের কাছে আনুমানিক ৮৫টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। কানাডার সেই সংখ্যা ১০৩।

২০ ২৩
US vs NATO military power

ফ্রান্সের রণবাহিনীতে ২০০টিরও বেশি লেক্লার্ক ট্যাঙ্ক, ২,৫৫৭টি এপিসি এবং কয়েকশো অন্যান্য সাঁজোয়া যান রয়েছে। কানাডার ৭৪টি ট্যাঙ্ক রয়েছে। এর সব ক’টিই জার্মানি লেপার্ড শ্রেণির। ৯০,০০০-এরও বেশি সেনাসদস্য নিয়ে গঠিত পোলিশবাহিনীতে ৬৬০টিরও বেশি সাঁজোয়া যান রয়েছে। তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি কেটুও রয়েছে।

২১ ২৩
US vs NATO military power

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং নেটোর বাকি সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান হল পারমাণবিক অস্ত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার কাছে বিশ্বের ১২,০০০ এরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার মজুত রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ পরমাণু অস্ত্রের মালিকানা রয়েছে এই দুই সুপার পাওয়ার দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগারে। ৫,১৭৭টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ভাঁড়ারে। কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র থেকে শুরু আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমারু বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ঘায়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে গোটা শহর।

২২ ২৩
US vs NATO military power

নেটো-ভুক্ত বাকি দেশের মধ্যে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের কাছেই একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুপাতে সংখ্যায় তা অনেকটাই কম। ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর হাতে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। আনুমানিক মোট ২২৫টি ওয়ারহেড রয়েছে তাদের হাতে। ফ্রান্সের কাছে ২৯০টি কার্যকরী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়।

২৩ ২৩
US vs NATO military power

সামরিক জোট নেটোর প্রথম সারির সামরিক শক্তি হিসাবে আমেরিকা মেরুপ্রদেশের স্বার্থকে রক্ষা করতে চায়। আর সেই কারণেই নাকি গ্রিনল্যান্ডের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ বলবৎ করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দ্বীপের ‘দখল’ নেওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দুই-ই রয়েছে। প্রথমত, এই দ্বীপটি হাতে থাকলে উত্তর মেরুতে রাশিয়ার প্রতিপত্তিকে বিনষ্ট করতে পারবে ওয়াশিংটন। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে বেজিং বা মস্কো গ্রিনল্যান্ড দখল করলে প্রশ্নের মুখে পড়বে আমেরিকার নিরাপত্তা। সেটা যাতে না হয়, তাই আগাম ব্যবস্থা সেরে রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy