ইরান যুদ্ধের মধ্যেই তাইওয়ান দখলে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’! চিনা ফৌজের ‘বিপজ্জনক খেলায়’ আতঙ্কে আমেরিকা?
ইরান যুদ্ধে আমেরিকার ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে তাইওয়ান দখলে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে পারে চিন। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটিকে কব্জা করতে ‘অ্যানাকোন্ডা রণকৌশল’ নিতে পারে বেজিং, বলছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
ইরান যুদ্ধে ব্যস্ত আমেরিকা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাবেক ফরমোজ়া তথা তাইওয়ান (রিপাবলিক অফ চায়না) হাতিয়ে নেবে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (পিপল্স রিপাবলিক অফ চায়না)? পশ্চিম এশিয়ায় লড়াইয়ের মধ্যেই তীব্র হচ্ছে সেই জল্পনা। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বেজিঙের লালফৌজের সম্ভাব্য রণকৌশল নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করে দিয়েছেন দুনিয়ার তাবড় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশ। আর সেখানে উঠে এসেছে একটি শব্দবন্ধ, ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’!
দীর্ঘ দিন ধরেই ‘এক চিন নীতি’তে (ওয়ান চায়না পলিসি) জোর দিচ্ছে ড্রাগন। এর সারকথা হল, তাইওয়ান কোনও পৃথক দেশ নয়, চিনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর তাই প্রশান্ত মহাসাগরীয় ওই দ্বীপটিকে কব্জা করার একটা চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা ‘পিপল্স লিবারেশন আর্মি’ বা পিএলএ-কে বেঁধে দিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সূত্রের খবর, তাঁর নির্দেশমতো ২০২৭ সালের মধ্যে সাবেক ফরমোজ়া গিলে ফেলার ‘নীলনকশা’ ছকে ফেলেছেন লালফৌজের কমান্ডারেরা।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফলে পূর্ব ইউরোপে বেধে যায় যুদ্ধ, চার বছর পেরিয়ে যা এখনও থামেনি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ইরানকে নিশানা করে বসে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। পাল্টা তেহরান যে জোরালো প্রত্যাঘাত শানাতে পারে, সেই প্রত্যাশা হয়তো কেউই করেনি। যদিও বাস্তবে দেখা গিয়েছে উল্টো ছবি। শুধু তা-ই নয়, সাবেক পারস্যের শিয়া ফৌজ ‘খেলা ঘোরাচ্ছে’ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে উচিত শিক্ষা দিতে বিশ্বের খনিজ তেল বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক রাস্তা হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করেছে ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি। পাশাপাশি, অন্য আরব রাষ্ট্রগুলির তৈল শোধনাগার এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রগুলিতে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তরল সোনার দর। এতে বেজায় চাপে পড়ে গিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ।
সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, এই দু’টি যুদ্ধকে ভাল ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চিন। আর তাই তাইওয়ান দখলে নেমে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইজ়রায়েলের মতো ‘ভুল’ করতে নারাজ বেজিং। এ ব্যাপারে যথেষ্ট ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে ড্রাগন। তবে সুযোগ পেলেই সাবেক ফরমোজ়াকে পেঁচিয়ে ধরবে পিএলএ। ঠিক যে ভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে শিকারকে নিকেশ করে ভূরিভোজ সারে ব্রাজ়িলের অ্যামাজ়ন অরণ্যনিবাসী অ্যানাকোন্ডা।
আরও পড়ুন:
সাবেক সেনাকর্তাদের কথায়, বর্তমানে সেই পরিকল্পনামাফিকই এগোচ্ছে প্রেসিডেন্ট শি-র লালফৌজ। তাইওয়ানের উপর চাপ বাড়াতে প্রায়ই প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটিকে ঘিরে সামরিক মহড়া চালিয়ে থাকে পিএলএ নৌবাহিনী। সাবেক ফরমোজ়ার আকাশসীমায় যখন-তখন ঢুকছে তাদের বায়ুসেনা। এমনকি যুদ্ধাভ্যাসের নামে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভয় দেখানোর কৌশলও নিতে দেখা গিয়েছে জিনপিঙের কমান্ডারদের।
সামরিক পরিভাষায় এগুলিকেই বলা হয় ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’। অনেকেরই ধারণা, বিদ্যুৎগতিতে আক্রমণের ঝড় তুলে দ্বীপরাষ্ট্র দখলের রাস্তায় হাঁটবে না বেজিং। উল্টে প্রবল মনস্তাত্ত্বিক চাপে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে চাইছে ড্রাগন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপ অ্যানাকোন্ডার শিকার ধরার পদ্ধতির সঙ্গে এর বেশ মিল রয়েছে। সেই কারণেই সরীসৃপটির নামের সঙ্গে মিল রেখে সংশ্লিষ্ট রণকৌশলটির ব্যাখ্যা দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তাদের একাংশ।
একটা উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। তাইপের প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, গত দু’বছরে দ্বীপরাষ্ট্রের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী বেজিঙের লড়াকু জেটের সংখ্যা পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে। সাবেক ফরমোজ়াকে ঘিরতে রণতরীর সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে পিএলএ নৌবাহিনী। পাশাপাশি, প্রায়ই একসঙ্গে মহড়ায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে ড্রাগন লালফৌজের তিন শাখাকে। তা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন তাইওয়ান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল টাং হুয়া।
প্রাক্তন সেনাকর্তারা মনে করেন, ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশলে’ তাইওয়ানকে দুর্বল করতে সাইবার আক্রমণের রাস্তায় হাঁটতে পারে চিন। সে ক্ষেত্রে ব্যাহত হবে দ্বীপরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ, টেলি যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা। তা ছাড়া এর মাধ্যমে ‘মিথ্যা খবর’ (ফেক নিউজ়) ছড়িয়ে দেওয়ার মেগা সুযোগ পেয়ে যাবে প্রেসিডেন্ট শি-র হ্যাকারবাহিনী। তখন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘সুপার পাওয়ার’-এর থেকে সাহায্য পাওয়া সাবেক ফরমোজ়ার পক্ষে যে যথেষ্ট কঠিন হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
আরও পড়ুন:
খাদ্য এবং জ্বালানিতে তাইওয়ান স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সামুদ্রিক রাস্তাতেই সেগুলি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় তাদের। ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশলে’ সংশ্লিষ্ট পণ্যের দ্বীপরাষ্ট্রে ঢোকা কার্যত বন্ধ করতে পারে চিনের পিএলএ নৌবাহিনী। তখন ‘দম আটকানোর’ দশা হবে সাবেক ফরমোজ়ার। খাবার ও পেট্রোপণ্যের ঘাটতির জেরে রাস্তায় নেমে আসতে পারে সেখানকার জনগণ। তখন বেজিঙের ‘আধিপত্য’ মেনে নিতে কিছুটা বাধ্য হবে সেখানকার সরকার।
সামরিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আবার জানিয়েছেন, কখনওই সরাসরি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ওই দ্বীপরাষ্ট্রকে আক্রমণ করতে পারবেন না প্রেসিডেন্ট শি। কারণ, সে ক্ষেত্রে বেজিঙের উপর বিপুল নিষেধাজ্ঞার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে আমেরিকা, যা ড্রাগনের আর্থিক বৃদ্ধিকে মারাত্মক ধাক্কা দিতে পারে। শি মনে করেন ইউক্রেনের লড়াই শুরু করে সেই ভুল করেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। ফলে যুদ্ধ শুরু হতে না হতেই মস্কোর উপর ১৬ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমি বিশ্ব।
তাইওয়ান ইস্যুতে আর্থিক দিক থেকে চিনের সামনে আরও এক ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দ্বীপরাষ্ট্রটিকে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মূল কেন্দ্র বলা যেতে পারে। ঘরোয়া বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদনের জন্য সেখান থেকে বিপুল পরিমাণে চিপ আমদানি করে থাকে বেজিং। তড়িঘড়ি যুদ্ধের রাস্তায় গেলে সেই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে সাবেক ফরমোজ়া। তাতে ড্রাগনের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর মূলে আঘাত লাগার প্রবল আশঙ্কা থাকছে।
চিন-তাইওয়ান সংঘাতের আঁচ মার্কিন শেয়ার বাজারের উপরেও পড়তে পারে। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হওয়ায় আমেরিকায় স্টকের সূচক চার শতাংশ নেমেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একাধিক বহুজাতিক কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) সংস্থা। এই প্রযুক্তি চালাতে চাই বিপুল সংখ্যায় সেমিকন্ডাক্টর। সেই সরবরাহ ব্যাহত হলে রক্তাক্ত হতে পারে নিউ ইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে ভারত, প্রশান্ত এবং সুমেরু মহাসাগরের সমুদ্রতলের বিস্তৃত মানচিত্র তৈরিতে লেগে পড়েছে চিন। এই কাজে একাধিক গুপ্তচর জাহাজ এবং ডুবোজাহাজকে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট শি। তাদের নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট তিন মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলির উপরেও। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমুদ্রের পরিবেশগত ও ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অত্যন্ত সূক্ষ্ম তথ্য হাতে পাচ্ছে বেজিং।
নৌযুদ্ধ বিশারদদের একাংশের দাবি, সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে ডুবোজাহাজ যুদ্ধ পরিচালনা এবং প্রতিপক্ষের ডুবোজাহাজকে শনাক্ত করে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সূত্রের খবর, নিউ জ়িল্যান্ডের স্টারবোর্ড মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্সের তৈরি একটি জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিন মহাসাগরে সক্রিয় ৪২টি চিনা জাহাজের গত পাঁচ বছরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে রয়টার্স। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধারাবাহিক ভাবে মানচিত্র তৈরির কাজ করছে চিন।
রয়টার্সের অনুসন্ধানকারী প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর (পড়ুন ২০২৫ সাল) এবং ২০২৪ সালে বেজিঙের গবেষণা জাহাজ ডং ফাং হং–৩ তাইওয়ানের আশপাশের সমুদ্র, প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের কাছাকাছি জলসীমা এবং ভারত মহাসাগরের কৌশলগত এলাকায় একাধিক বার যাতায়াত করেছে। তা ছাড়া ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে ড্রাগনের ইউয়ান ওয়াং-৫ এবং ডং ফাং হং–৩-এর মতো গুপ্তচর জাহাজগুলিকে ভারত মহাসাগরে দেখা গিয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে জাপানের নিকটবর্তী সমুদ্রতলে থাকা শক্তিশালী চিনা সেন্সরগুলিতে বেশ কিছু নতুন যন্ত্র বসায় ডং ফাং হং–৩। সেন্সরগুলি জলের নীচের বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) মে মাসেও একই এলাকায় আবার অভিযান চালায় বেজিঙের ওই গুপ্তচর জাহাজ। সে সময় তাইওয়ানকে ঘিরে আমেরিকা এবং জাপানের সঙ্গে টানাপড়েন চলছিল শি জিনপিং সরকারের। এগুলি সাবেক ফরমোজ়া দখলের ফাঁদ হতে পারে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
যদিও সরকারি ভাবে এ সব কিছুই অস্বীকার করেছে ড্রাগন। বেজিঙের ‘ওশান ইউনিভার্সিটি অফ চায়না’র দাবি, ডং ফাং হং-৩ জাহাজটি মূলত সমুদ্রের তলদেশের বিভিন্ন উপাদানের সমীক্ষা ও জলবায়ু গবেষণার কাজে নিযুক্ত রয়েছে। এর সঙ্গে শত্রুর ডুবোজাহাজ চিহ্নিত করা বা সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি করার কোনও সম্পর্ক নেই। সমুদ্রতলে খনিজের অনুসন্ধান করা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে ওই চৈনিক বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে রয়টার্সের খবর সত্যি হলে বেজিঙের গুপ্তচর জাহাজের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ঘোরাঘুরি ভারতের জন্যেও উদ্বেগের। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েক বার রসদ ও জ্বালানি সংগ্রহের নামে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে নোঙর করেছে ড্রাগনের একাধিক গুপ্তচর জাহাজ, যা নিয়ে প্রকাশ্যেই আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
তাইওয়ান দখলে ড্রাগনের ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশলের’ বেশ কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। এই কায়দায় দ্বীপরাষ্ট্র কব্জা করতে বেশ সময় লাগবে চিনের। শিকার ধরার সময়ে ঠিক যেমনটা হয় পৃথিবীর বৃহত্তম সাপটির। পছন্দের খাবার পুরোপুরি গিলে ফেলতে কখনও-সখনও তিন সপ্তাহ লেগে যায় অ্যানাকোন্ডার। কিন্তু, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় সব হিসাব উল্টে দিয়ে বেজিঙের বিপদ বাড়াতে পারে। ড্রাগনকে সেটাও মাথায় রাখতে হবে।