• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিনোদন

প্রথম প্রেমিকার আর্থিক প্রতারণায় বিধ্বস্ত, বিয়ের আগেই শিশুকন্যা দত্তক নেন এই ব্যর্থ অভিনেতা

শেয়ার করুন
১৭ 1
অভিনয়, নাকি বাবার মতো সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক? কোন পেশায় পা রাখবেন? ঠিক করতে পারছিলেন না কলেজে পৌঁছেও। শেষে বেছে নেন অভিনয়ই। জীবনের প্রথম উপার্জন দিয়ে বাবা মাকে কিনে দিয়েছিলেন কর্ডলেস টেলিফোন। মডেলিং, টেলিভিশন, সিনেমা মিলিয়ে বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমে কাটিয়ে দিয়েছেন কয়েক দশক। কিন্তু রাজীব খাণ্ডেলওয়ালের কাছে প্রত্যাশিত সাফল্য থেকে গিয়েছে অধরাই। ভাল অভিনেতা হয়েও রয়ে গিয়েছেন ‘ফ্লপ’ তালিকায়।
১৭ 2
ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সি এল খাণ্ডেলওয়াল এবং বিজয়লক্ষ্মী খাণ্ডেলওয়ালের মেজো ছেলে রাজীবের জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৬ অক্টোবর। তাঁরা ছিলেন রাজস্থানের পুরনো মারোয়াড়ি পরিবার। জয়পুরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের পরে তিনি আমদাবাদের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করেন।
১৭ 3
অভিনয় ভাল লাগতে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই। একটি নাটকে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। এর পর নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পঞ্জাব দূরদর্শনের অডিশনের জন্য তিনি মনোনীত হন। কিন্তু তার জন্য ৩ মাস থাকতে হত আউটডোরে। ফলে অনুমতি পাননি বাড়ি থেকে।
১৭ 4
পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব জারি ছিল কলেজজীবনেও। রাজীব তাঁর কেরিয়ার নিয়ে দোলাচলে ভুগছিলেন বলে ক্ষুব্ধ হন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের সঙ্গে বিবাদের জেরে শেষে বাড়ি ছেড়ে চলে যান রাজীব। থাকতে শুরু করেন দিল্লিতে এক আত্মীয়ের বন্ধুর ফ্ল্যাটে, কয়েক জন ড্রাইভারের সঙ্গে।
১৭ 5
দিল্লিতেই একটি প্রোডাকশন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ হয় রাজীবের। ক্যামেরার পিছনে কাজ শুরু করেন তথ্যচিত্রে। পাশাপাশি সুযোগ পান বিজ্ঞাপনে মডেলিংয়েরও। সে সময় দীর্ঘ দিন পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না। বাড়ি ছাড়ার ৩ বছর পরে রাজীবের প্রথম তথ্যচিত্র ‘সমর্পণ’ সম্প্রচারিত হয় দূরদর্শনে। তার পর তিনি আবার যোগাযোগ করেন বাবা মায়ের সঙ্গে। বিবাদ ভুলে নতুন করে জোড়া লাগে সম্পর্ক। তবে এ সবের অনেক আগে ১৯৯৮ সালে রাজীবের অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ দূরদর্শনের ‘বনফুল’ সিরিয়ালে। তাঁর এই কাজের কথা এখন দর্শকরা প্রায় ভুলেই গিয়েছেন।
১৭ 6
রাজীবের কাছে প্রথম বড় ব্রেক আসে ২০০২ সালে। একতা কপূরের ‘কহিঁ তো হোগা’ সিরিয়ালে তিনি সুজল গারেওয়ালের চরিত্রে অভিনয় করেন। ৬ ফুট উচ্চতার টল ডার্ক হ্যান্ডসাম ‘সুজল’ চরিত্রটি দ্রুত মন জয় করে নিয়েছিল দর্শকদের। এর পর ‘টাইম বম্ব ৯/১১’, ‘ডিল ইয়া নো ডিল’, ‘সিআইডি’, ‘লেফ্ট রাইট লেফ্ট’-সহ বেশ কিছু সিরিয়ালে অভিনয় করেন রাজীব।
১৭ 7
বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ ২০০৮ সালে, ‘আমির’ ছবিতে। তাঁর ফিল্মোগ্রাফে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে ‘শয়তান’, ‘সাউন্ডট্র্যাক’, ‘ফিভার’ এবং ‘সল্ট ব্রিজ’। বিভিন্ন শেডের চরিত্রে ভাল অভিনয় করলেও জনপ্রিয়তার প্রথম সারিতে পৌঁছতে পারেননি রাজীব। তাঁর অভিনীত ছবিগুলিও বক্স অফিসে সে ভাবে সফল হয়নি।
১৭ 8
অভিনয়ের পাশাপাশি ছোট পর্দায় বেশ কিছু শো সঞ্চালনাও করেছেন রাজীব। সম্প্রতি তিনি কাজ করেছেন বেশ কিছু ওয়েব সিরিজেও। ছোট পর্দায় ভাল অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন বেশ কিছু পুরস্কারও।
১৭ 9
সুনামের সঙ্গে সঙ্গে কেরিয়ারের পথে জড়িয়ে গিয়েছে বিতর্কও। টিভি সিরিয়াল ‘রিপোর্টাস’-এর প্রোমোতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল কৃতিকা কামরাকে চুম্বন করতে। উত্তরে তাঁকে চড় মেরেছিলেন কৃতিকা। এই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছিল ঝড়ের বেগে।
১০১৭ 10
কেরিয়ারে শুরুতে এক বার প্রেমে আঘাত পেয়েছিলেন রাজীব। ২০০২ সালে দিল্লিতে তথ্যচিত্রে কাজ করার সময় তিনি নিজে একটি সংস্থা শুরু করবেন ভেবেছিলেন। তাঁর পাশে ছিলেন সেই সময়কার প্রেমিকাও। কিন্তু অভিযোগ, রাজীবের সব টাকা নিয়ে মাঝপথে সরে যান সেই তরুণী। এই প্রতারণার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লেগেছিল।
১১১৭ 11
পরবর্তী সময়ে টেলি অভিনেত্রী আমনা শরিফের সঙ্গে রাজীবের প্রণয়ের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। তবে তাঁদের প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১১ সালে রাজীব বিয়ে করেন প্রেমিকা মঞ্জিরী কমতিকরকে। আর্যসমাজ মতে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল।
১২১৭ 12
তবে রাজীবের জীবনে সবথেকে বড় চমক লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়। বিয়ের ৪ বছর আগেই তিনি একটি শিশুকন্যা দত্তক নেন। তাঁর নাম রেখেছেন স্বাতী।
১৩১৭ 13
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজীব ভালবাসেন ঘোড়সওয়ারি। এ ছাড়াও তিনি টেনিস এবং স্কোয়াশ খেলতে পছন্দ করেন। বই পড়ার সঙ্গে চলে নিয়মিত জিমে গিয়ে শরীরচর্চাও। ভোজনরসিক রাজীব মাঝে মাঝে খুন্তিও ধরেন। আমিষ খাবারের সঙ্গে বাছাই করা নিরামিষ খাবারও রয়েছে তাঁর পছন্দের তালিকায়।
১৪১৭ 14
কৃতিকাকে চুম্বন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া রাজীবই এক সময়ে পর্দায় চুম্বন দৃশ্যে সাবলীল ছিলেন না। জানিয়েছিলেন নিজেই। পরে এই জড়তা তিনি কাটিয়ে ওঠেন।
১৫১৭ 15
প্রচারবিমুখ রাজীবকে পর্দায় কমই দেখা গিয়েছে। তিনি নিজেও স্বীকার করেন সে কথা। বলেন, তাঁর চাহিদা খুব কম। এবং তাঁকে যত কম ব্যবহার করা হয়, ততই তিনি খুশি। কাজের ফাঁকে সময় পেলেই বেড়াতে চলে যান। মাঝে মাঝেই সময় কাটান গোয়ার বাগানবাড়িতে।
১৬১৭ 16
নিজের লুক নিয়েও রাজীবের মাথাব্যথা নেই। স্ত্রী মঞ্জরী বললেও তিনি পোশাক নিয়ে খুব একটা ভাবতে রাজি নন। জানিয়েছেন, যখন যা ইচ্ছে হয়, সেটাই পরেন। ভিআইপি লাইনে দাঁড়ান না। সঙ্গে থাকে না নিরাপত্তারক্ষীও।
১৭১৭ 17
দেড় দশক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পরেও নিজেকে নবাগতই ভাবেন রাজীব। সাফল্য-ব্যর্থতার নিক্তিতে জীবনকে না মেপে এখনও স্বপ্ন দেখে যান রাজীব। তাঁর স্বপ্ন, শাহরুখের ‘মন্নত’-এর মতো একটি বাড়ি তৈরি করবেন। নাম দেবেন ‘জন্নত’।

Advertisement

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
বাছাই খবর
আরও পড়ুন