ফেসবুকে আলাপ থেকে বিয়ে, আট বছর পর বিচ্ছেদ! বলিউড তো বটেই, পাক নায়িকার সঙ্গেও নাম জড়িয়েছিল বাদশার
প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সে বিয়ে টেকেনি। বিবাহবিচ্ছেদের ছ’বছর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন সঙ্গীতশিল্পী। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও বেশ বর্ণময়। ‘প্রেমিকার’ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানের নায়িকা থেকে শুরু করে বলিউডের নায়িকাও।
ভারতের প্রথম সারির র্যাপ সঙ্গীতশিল্পী। অভিযোগ, তাঁর গানের মাধ্যমে মহিলাদের সম্মানহানি করা হয়েছে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বাদশা। বিতর্কের মাঝে আবার তিনি বিয়েও করে ফেলেছেন। বিবাহবিচ্ছেদের ছ’বছর পর দ্বিতীয় বিয়ে করলেন সঙ্গীতশিল্পী। পাকিস্তানের নায়িকা থেকে শুরু করে বলিউডের নায়িকা— বাদশার ‘প্রেমিকা’র তালিকাও বেশ লম্বা।
মঙ্গলবার ঘরোয়া অনুষ্ঠানে পঞ্জাবি অভিনেত্রী ঈশা রিখিকে বিয়ে করেছেন বাদশা। ঈশার মা পুনম রিখি সমাজমাধ্যমে মালাবদল এবং সাত পাকে ঘোরার ছবি পোস্ট করেছেন। অভিনেত্রীর সঙ্গে বহু বছরের সম্পর্ক ছিল বাদশার।
পঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ ঈশা। বাদশার চেয়ে আট বছরের ছোট অভিনেত্রী ২০১২ সালে ‘জট্ট অ্যান্ড জুলিয়েট’ ছবিতে অতিথিশিল্পী হিসাবে অভিনয়ের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৮ সালে ‘নওয়াবজ়াদে’ নামের একটি হিন্দি ছবিতে কাজ করেছেন ঈশা।
জনশ্রুতি, ২০২১ সাল থেকে প্রেমপর্বের শুরু বাদশা এবং ঈশার। বহু অনুষ্ঠানে একসঙ্গেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। টানা চার বছর সম্পর্কে থাকার পর চার হাত এক হয় দু’জনের। প্রথম বিয়ে ভাঙার ছ’বছর পর আবার সাত পাকে বাঁধা পড়লেন বাদশা।
বাদশার প্রথম স্ত্রীর নাম জ্যাসমিন মসিহ। ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হয়েছিল তাঁদের। লন্ডনের বাসিন্দা জ্যাসমিন। দেড় বছর তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকার পর বিয়ে করেন বাদশা। কানাঘুষো শোনা যায়, জ্যাসমিনকে বিয়ের প্রসঙ্গে প্রথম দিকে কিছুটা আপত্তি জানিয়েছিল বাদশার পরিবার।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ কাল লন্ডনে থাকার কারণে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে অসুবিধা হতে পারে জ্যাসমিনের— এই ধারণা পোষণ করত বাদশার পরিবার। ছেলের সংসার আদৌ সুখের হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহও প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু প্রেমিকাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত ছিলেন বাদশা।
দেড় বছর প্রেম করার পর ২০১২ সালে জ্যাসমিনকে বিয়ে করেন বাদশা। বিয়ের পাঁচ বছর পর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন জ্যাসমিন। কিন্তু সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২০ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের। মেয়েকে নিয়ে লন্ডনে চলে যান জ্যাসমিন।
বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বাদশা বলেছিলেন, ‘‘আমি এবং জ্যাসমিন দু’জনেই আমাদের সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম। দু’জনেই নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। বরং, এই সম্পর্কের প্রভাব পড়ছিল আমাদের সন্তানের উপর। তাই বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিই। মেয়ে লন্ডনে থাকে বলে ওর সঙ্গে সব সময় দেখা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।’’
২০২১ সালে একটি মিউজ়িক ভিডিয়োয় বাদশার সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুরকে। বিবাহবিচ্ছেদের পর বাদশার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়েছিল মৃণালের। ২০২৩ সালে শিল্পা শেট্টির বাড়িতে দীপাবলির অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল দু’জনকে।
আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠান শেষে বাদশার হাত ধরে শিল্পার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মৃণাল। দুই তারকার সম্পর্ক নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তবে বাদশার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনে জল ঢেলে দিয়েছিলেন নায়িকা নিজেই। মৃণাল জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা পরস্পরের খুব ভাল বন্ধু। তাঁদের মধ্যে প্রেমের কোনও সম্পর্ক নেই।
শুধু মৃণালই নন, বাদশার নাম জড়িয়ে পড়েছিল দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতের অভিনেত্রী হানি রোজ়ের সঙ্গে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বাদশা এবং হানিকে দুবাইয়ে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। সেখানকার এক রেস্তরাঁয় নৈশভোজ সারছিলেন দু’জনে। সেই সময়ের কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়।
বাদশার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন জোরালো হলে হানি পরে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য রকম কোনও সম্পর্ক নেই। বাদশার গান ব্যক্তিগত ভাবে তিনি খুব পছন্দ করেন। হানির দাবি, সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে দুবাইয়ের রেস্তরাঁয় কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ সেরেছিলেন তিনি।
বাদশার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়েছিল পাকিস্তানের নায়িকা হানিয়া আমিরেরও। ২০২৪ সালে লন্ডনে গানের অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সেই অনুষ্ঠানে মঞ্চে যোগ দিয়েছিলেন বাদশাও। দর্শক-শ্রোতাদের ভিড়ে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন হানিয়া।
কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে যে, বাদশার সঙ্গে নাকি সম্পর্কে রয়েছেন হানিয়া। মাঝেমধ্যেই একসঙ্গে ঘুরতে যেতেন তাঁরা। এমনকি, বাদশার গানের কনসার্টে অধিকাংশ সময় উপস্থিত থাকতেন হানিয়া। সমাজমাধ্যমেও একসঙ্গে ছবি পোস্ট করেন তাঁরা। পরে অবশ্য বাদশা জানিয়েছিলেন যে, হানিয়া তাঁর খুব কাছের বান্ধবী।
‘টটীরী’ নামে একটি গানের জন্য বিপাকে জড়িয়েছেন বাদশা। দাবি, সেই গানে নারীদের প্রতি রয়েছে কু-ইঙ্গিত। গানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে হরিয়ানার মহিলা কমিশন। এমনকি গায়কের গ্রেফতারি চেয়ে সরব হন হরিয়ানার মহিলা কমিশনের সভাপতি রেণু ভাটিয়াও।
বাদশার গানটি সমাজমাধ্যম এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষমাও চেয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী। কিন্তু বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বাদশার। এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন সংসার পাতলেন তিনি।