Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

চিত্র সংবাদ

Sarita Mali: রাস্তায় ফুল ফুল বিক্রি করতেন, বস্তির সেই মেয়ে সরিতা পড়তে চললেন আমেরিকা

সংবাদ সংস্থা
মুম্বই ১৩ মে ২০২২ ১৬:১৬
প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে লড়াই থাকে। যার কোনওটার দৈর্ঘ্য হয় ছোট, কোনওটা লম্বা।

ছোট লড়াই জিতে নেওয়া যায়, কিন্তু লম্বা দৌড়ের লড়াই জেতা বেশ কঠিন।
Advertisement
তেমনই এক লম্বা দৌড়ের লড়াই জিতে নিয়েছেন মুম্বইয়ের মেয়ে সরিতা মালি।

মুম্বইয়ের ঘাটকোপার অঞ্চল বাসিন্দা ২৮ বছরের সরিতা ছোটবেলায় রাস্তায় ফুল বিক্রি করতেন। তখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ক্রেতার হাতে ফুল তুলে দিতে দিতে স্বপ্ন দেখতেন পড়াশুনা করতে বিদেশ যাওয়ার।
Advertisement
কিন্তু দারিদ্র এবং দলিত হওয়ার যন্ত্রণা তাঁর স্বপ্নকে ক্ষণিকের জন্য ঝাপসা করে দিত। সেই স্বপ্ন ফের স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল হত যখন বাবা মাথায় হাত রাখতেন। স্বপ্ন তখন পরিণত হত জেদে।

 নিরক্ষর বাবা শুধু নিজের নাম সই করতে শিখেছিলেন। কিন্তু তিনি চাইতেন তাঁর সন্তানেরা লেখাপড়া শিখুক। তাঁর বিশ্বাস ছিল, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তাঁর সন্তানদের সাহায্য করবে শিক্ষা।

তাই হাজার কষ্টের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষা দিতে তিনি বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি। মাথায় বাবার আশীর্বাদের হাত পেয়ে সরিতাও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর স্বপ্নকে। পথে ফুল বিক্রি করেও চালিয়ে গিয়েছেন পড়াশুনা।

২০১৪ সালে তিনি হিন্দি সাহিত্য নিয়ে এমএ পড়ার জন্য জেএনইউ-তে ভর্তি হন। কিন্তু তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানতেনই না বিষয়টি কী।

না বুঝলে কী হবে, তাঁরা সব সময় সরিতার পাশে থেকেছেন। আর তাতেই বেড়েছে সরিতার মনের জোর।

জেএনইউ-এর পাঠ সেরে এ বার বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে পড়াশুনার জন্য।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন তিনি।

মুম্বইয়ের ঘাটকোপার বস্তির বাসিন্দা সরিতার লড়াই শুধু দারিদ্রের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর কথায়, ‘‘ছোট থেকে নানা রকম প্রতিকূলতা নিয়ে বড় হয়েছি। কিন্তু আমার লিঙ্গ পরিচয় এবং গায়ের রঙের জন্য আমাকে অনেক বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।’’

সরিতা বলেন, ‘‘আমার কালো রঙের জন্য আমাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে।’’

সেই সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি, সূর্যমুখী হয়ে আলোর দিকে।