Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জুন ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

চিত্র সংবাদ

Cricket: ছোটদের বিশ্বকাপজয়ী প্রথম ভারতীয় দল, ২০০০ সালের সেই চ্যাম্পিয়নরা আজ কে কোথায়

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৫:১০
ভাইরা – ৫, দাদারা – ২। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি ঘরে তোলার নিরিখে দাদাদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ভারতের ছোটরা। অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়নের তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে তাঁরা। বড়রা সেখানে বেশ পিছিয়ে। মাত্র দু’বার জয়ী। শনিবার অ্যান্টিগায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রাজ বাওয়া-রবি কুমার-নিশান্ত সিন্ধুদের দাপটে পঞ্চম বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ২০০০ সালে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে যে কীর্তি গড়েছিলেন মহম্মদ কইফ-যুবরাজ সিংহ-নীরজ পটেলরা। প্রথম বার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী সেই দলের সদস্যরা আজ কী করছেন?

২০০০ সালে ছোটদের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন মহম্মদ কইফ। বিপক্ষকে কী ভাবে প্যাঁচে ফেলা যায়, সে ছক কষতে ঠান্ডা মাথার কইফ বেশ পটু। কলম্বোর ওই টুর্নামেন্টে সামনে থেকে দল পরিচালনা করেছিলেন। ফাইনালে ১৮ রান করলেও মিডল অর্ডারে নেমে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসও খেলেছিলেন। সঙ্গে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩১ রানে নেন জেহান মুবারকের উইকেট।
Advertisement
নির্ভরযোগ্য ব্যাটার তো বটেই। বাইশ গজে দুর্দান্ত রানার। কভার এলাকায় তাঁকে টপকে বল গলানোও বেশ কঠিন ছিল। ছোটদের দলে কামাল দেখানোর বছরেই টেস্ট দলে অভিষেক। ভারতীয় জার্সিতে ২০০২ থেকে ’০৬ সাল পর্যন্ত খেলেছেন কইফ। ১২৫টি এক দিনের ম্যাচে ২টি শতরান-সহ করেছেন দু’হাজার ৭৫৩ রান। সাতটি টেস্টে ৬২৪ রান করলেও মূলত এক দিনের ক্রিকেটে বেশি উজ্জ্বল তিনি। ২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি ঘরে তোলার পথে ৭৫ বলে ৮৫ করে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন। ক্রিকেটের পর কোচিং এবং রাজনীতিতে পা রেখেছেন কইফ। ২০১৪ সালের উত্তরপ্রদেশের ফুলপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়ালেও সফল হননি।

কলম্বোর সেই টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত খেলেন রবনীত রিকি। গ্রেম স্মিথের পর ওই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হয়েছিলেন। গোটা প্রতিযোগিতায় ৪২.৫০ গড়ে ৩৪০ রান করেন তিনি। যদিও ফাইনালে ওপেন করতে নেমে ৩৯ বলে মাত্র ১৮ রান করে আউট হয়ে যান।
Advertisement
ভারতীয় জার্সি পরার সুযোগ পাননি। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশ সফল রিকি। ২০০৮ সালে অবসরের আগে পঞ্জাবের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে নিয়মিত খেলেছেন। ডান হাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ১৩টি শতরান ও ১৫টি অর্ধশতরান। ক্রিকেট মাঠকে বিদায় দিয়ে এখন এয়ার ইন্ডিয়ার কমার্শিয়াল অফিসার হিসাবে কাজ করছেন রবনীত।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দল থেকে ভারতীয় দলের অন্যতম তারকা। অলরাউন্ডার হিসাবে ২০১১ সালে বড়দের দলের হয়েও বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তুলেছেন যুবরাজ সিংহ। সঙ্গে ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলেরও সদস্য ছিলেন। সে বার ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের বলকে এক ওভারে ছ’বার মাঠের বাইরে ফেলেছিলেন যুবরাজ! ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে মহম্মদ কইফ এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতোই ঝকঝকে ইনিংস (৬৩ বলে ৬৯) খেলেন। ৩০৪টি এক দিনের ম্যাচে আট হাজার ৭০১ রান করেছেন। রয়েছে ১৪টি শতরান ও ৫২টি অর্ধশতরান। ৪০টি টেস্টে এক হাজার ৯০০ রানে ৩টি শতরান ও ১১টি অর্ধশতরানেরও মালিক যুবরাজ। বাঁহাতি স্পিনের প্যাঁচে ১১১টি ওয়ানডে এবং ন’টি টেস্ট উইকেটও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

ক্যানসারের সঙ্গেও লড়াই করে জিতেছেন যুবি। ২০১৯ সালে ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ৪০ বছরের যুবরাজ এখন হেজেল কিচের সঙ্গে চুটিয়ে সংসার করছেন। সদ্য পুত্রসন্তানের পিতাও হয়েছেন তিনি। ক্রিকেট ছাড়লেও মাঠ ছাড়েননি। ধারাভাষ্যকার হিসাবে জীবন উপভোগ করছেন যুবি।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যদের মধ্যে রীতিন্দর সিংহ সোধির প্রতিভা নিয়ে অনেকেই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ২০০০ সালের টুর্নামেন্টে উইকেটে-টু-উইকেট বল করেছেন। হার্ডহিটার হিসাবে নাম কামিয়েছেন। কলম্বোর ফাইনালে উইকেট না পেলেও পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে এসে ৪৩ বলে ৩৯ রান করে দলের জেতার পথ সহজ করেছেন। ফিল্ডিংয়েও তাঁর ছটফটানি নজর কেড়়েছিল। সে বছরই ভারতীয় দলে ঢুকে পড়েন তিনি। ১৮টি এক দিনের ম্যাচে ২টি অর্ধশতরান-সহ করেছেন ২৮০ রান। সঙ্গে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট।

ভারতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ দিন স্থায়ী হননি সোধি। মাত্র দু’বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি। এককালে পঞ্জাবের হয়ে আইপিএলে খেলেছেন। সম্প্রতি ৩৫ বছরের সোধিকে ওই টুর্নামেন্টে ম্যাচ রেফারি হিসাবেও দেখা গিয়েছে।

কলম্বোর টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচের মধ্যে চারটিতে সুযোগ পেয়েছিলেন নীরজ পটেল। তবে ২০০৪-’০৫ সালের মরসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জমিয়ে ব্যাট করেছিলেন। রঞ্জির ট্রফির লিগ পর্বে সর্বোচ্চ রানের অধিকারী ছিলেন নীরজ। ২০০৮ সালে প্রথম আইপিএলে রাজস্থানের জার্সি পরেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঁচ হাজার ৮৮৭ রান রয়েছে তাঁর। ২০১৫ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেকটে বিদায় জানান নীরজ।

ক্রিকেট থেকে অবসরের পর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম থেকেও হারিয়ে যান নীরজ। ক্রিকেটের পর কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত তা অজানাই রয়ে গিয়েছে।

অনূর্ধ্ব-২৯ দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিলেন বেণুগোপাল রাও। যদিও ফাইনালে তাঁকে ব্যাট করতে হয়নি। তার আগেই জিতে গিয়েছিল ভারত। তবে ২০০৫ সালের আগে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাননি। ইংল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে ৫০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস তাঁকে ফের শিরোনামে এনে দেয়। ওডিআই ক্রিকেটে প্রথম ভারতীয় ‘সুপারসাব’ হিসাবেও ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন। দেশের হয়ে ১৬টি ওডিআই খেলে ২১৮ রান করেছেন বেণুগোপাল। খেলেছেন আইপিএলও।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অন্ধ্রপ্রদেশের হয়ে রঞ্জি খেলতে নামেন বেণুগোপাল। ঘরোয়া ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মালিক ২০১৯ সালে সমস্ত শ্রেণির ক্রিকেট থেকে একেবারে দূরে সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

অফস্পিন বোলার হিসাবে কেরিয়ার শুরু। তবে শেষমেশ ওপেনিং ব্যাটার হিসাবে দেখা গিয়েছিল বিদ্যুৎ শিবরামকৃষ্ণনকে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর ২০০৫ সালে চ্যালেঞ্জার সিরিজে সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে ম্যাচ জেতানো ৮৭ করেছিলেন তিনি।

আইপিএল খেললেও নজর কাড়তে ব্যর্থ হন। দেশের জার্সিতেও দেখা যায়নি বিদ্যুৎকে। নীরজের মতো তাঁর সম্পর্কেও বিশেষ কিছু জানা যায় না।

ছোটদের ক্রিকেট থেকে বড়দের দলের উইকেটরক্ষক। অজয় রাতরার ঝুলিতে টেস্ট দলের হয়ে ছ’টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। খেলেছেন ১২টি এক দিনের ম্যাচও। হরিয়ানা, গোয়া এবং ত্রিপুরার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর সে সময়কার সর্বকনিষ্ঠ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসাবে টেস্ট শতরানও রয়েছে তাঁর। ১৬ বছরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ২০১৫ সালে। তবে পরের বছর মাস্টার্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলেছিলেন তিনি।

ক্রিকেট ছাড়ার পর কী করছেন ৪০ বছরের রাতরা? সে সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না।

কেরিয়ারের শুরুতে প্রতিভাবান বলে নাম ছড়িয়েছিল শলভ শ্রীবাস্তবের। তবে তা শেষ হয় কলঙ্কিত অধ্যায়ে। কলম্বোর টুর্নামেন্টে ১৪টি উইকেট নিয়েছিলে শলভ। রঞ্জি ট্রফিতে সোধির মতোই ২০০৬-’০৭ মরসুমে উত্তরপ্রদেশের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। ২০১১ সালে পঞ্জাবের হয়ে আইপিএলেও নামেন। ৪১টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩০টি উইকেট রয়েছে শলভের।

২০১২ সালে ম্যাচ গড়াপেটায় শলভের নাম জড়িয়ে পড়েছিল। চলেছিল স্টিং অপারেশনও। আইপিএল-এ ওই অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়। শেষমেশ পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিসিসিআই।

ভারতীয় টেস্ট দলের প্রাক্তন সদস্য শিবলাল যাদবের ছেলে বাবার মতো সফল হননি। বাবার মতো অফস্পিন বল করলেও মূলত ব্যাটিংয়ে মন দিয়েছিলেন অর্জুন যাদব। যদিও কলম্বোর টুর্নামেন্টে প্রথম একাদশে জায়গা পাননি তিনি। তবে ওই টুর্নামেন্টের পর হায়দরাবাদের হয়ে রঞ্জিতে সুযোগ পান। ভারতীয় এ দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে টেস্ট বা এক দিনের দলে জায়গা করতে পারেননি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিন হাজার ৭০৩ রান রয়েছে অর্জুনের।

ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর কোথায় রয়েছেন অর্জুন? সে সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানা যায়নি।

রবনীত রিকির ওপেনিং পার্টনার হিসাবে ব্যাট করতে নামতেন মণীশ শর্মা। কলম্বোর ফাইনালে ৩২ বলে ২৭ রান করেছিলেন। পঞ্জাবের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেললেও তেমন সাফল্য পাননি। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে চণ্ডীগড় লায়ন্সের জার্সি পরেছিলেন। ২০০৮ সালে শেষ ম্যাচ খেলেন তিনি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩১ ম্যাচে এক হাজার ২১৬ রান রয়েছে মণীশের। ক্রিকেট থেকে দূরে কোন পেশায় রয়েছেন, তা-ও জানা যায়নি।

ছোটদের বিশ্বকাপে বাঁ-হাতি অফস্পিন বোলার অনুপ দাভের পারফরম্যান্স বেশ চমকপ্রদ। সে বার ১৩টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি হয়েছিলেন। তবে মাত্র ১৬টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেখা গিয়েছিল অনুপকে।

রাজস্থানের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতেন অনুপ। তবে ২০০৫-’০৬ মরসুমে অবসরের পর কোন পেশার রয়েছেন তা অজানা।

মিডিয়াম পেস বোলার মিহির দিবাকর এককালে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির রুমমেট ছিলেন। ৩৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১২৯টি উইকেট রয়েছে তাঁর নামে। পাঁচ উইকেট নিয়েছেন সাত বার। আইসিএলে কলকাতা টাইগার্স-এ খেলতেন তিনি। ২০০৯ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে মাত্র ছ’রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মিহির।

৩৯ বছরের মিহির ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার পর নেটমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। দিল্লিতে একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট সংস্থা গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানেই ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করছেন মিহির।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে একটি উইকেট নিয়েছিলেন মৃত্যুঞ্জয় ত্রিপাঠী। ওই টুর্নামেন্টের পরে ১৩টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিছু দিন পর আচমকাই ক্রিকেট থেকে সরে যান তিনি। তবে ১৩ ম্যাচে ৩০টি উইকেট নেন অবসরের আগে।

মৃত্যুঞ্জয় ২০০২-’০৩ মরসুমে শেষ বারের মতো উত্তরপ্রদেশের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেছিলেন। সতীর্থদের মতোই তাঁর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না।