চ্যালেঞ্জ পূরণে খেতে হয় ট্যারান্টুলা, রাত কাটে নির্জন দ্বীপে! ১০ বছর পরেও তাজা হন্ডুরাসের ভয়ঙ্কর সেই ‘কর্পোরেট রিট্রিট’
ঘটনাটি ঘটেছিল মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা ‘প্লেক্স’-এর কর্মীদের সঙ্গে। ২০১৭ সালে হন্ডুরাসের একটি বিশেষ জায়গায় ‘কর্পোরেট রিট্রিট’-এ গিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তাঁরা। এ-ও বুঝতে পারেন, ভ্রমণের পরিকল্পনা ঠিক ভাবে না করলে কী ভাবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
অফিসের গতানুগতিক এবং একঘেয়ে জীবন থেকে বার করে আনতে অনেক সংস্থাই তাঁদের কর্মীদের একসঙ্গে ভ্রমণে নিয়ে যায়। ঘুরতে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলো এবং চ্যালেঞ্জেরও অংশ হতে হয় ওই কর্মীদের। কর্পোরেট জগতের ভাষায় একে বলে ‘কর্পোরেট রিট্রিট’।
‘কর্পোরেট রিট্রিট’-এর লক্ষ্য, কর্মীদের তুষ্ট করা এবং একে অপরের প্রতি ভরসা বৃদ্ধি করিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করা। কিন্তু ২০১৭ সালে এ রকম ভাবেই অফিসের তরফে ভ্রমণে গিয়ে ভয়ানক বিপদে পড়তে হয়েছিল আমেরিকার একটি সংস্থার একদল কর্মীকে।
হন্ডুরাস গিয়ে বিপদে পড়ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছিল ওই কর্মীদের। দুর্গম জায়গা থেকে তাঁদের উদ্ধারের জন্য কেউ আসেনি পর্যন্ত।
ঘটনাটি ঘটেছিল মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা ‘প্লেক্স’-এর কর্মীদের সঙ্গে। ২০১৭ সালে হন্ডুরাসের একটি বিশেষ জায়গায় ‘কর্পোরেট রিট্রিট’-এ গিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তাঁরা। এ-ও বুঝতে পারেন, ভ্রমণের পরিকল্পনা ঠিক ভাবে না করলে কী ভাবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
ভ্রমণের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কারণে ওই সংস্থার কর্মীদের অনেকে এমনই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং এমনই আঘাত পেয়েছিলেন যে সেই ঘটনার প্রায় এক দশক পরেও বিষয়টি তাঁদের কাছে দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি এক এক্স ব্যবহারকারী ঘটনাটি শেয়ার করার পর পুনরায় তা খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। ‘প্লেক্স’ সংস্থাটি কী ভাবে ১২০ জন কর্মীকে ‘কর্পোরেট রিট্রিট’-এর জন্য হন্ডুরাসে নিয়ে গিয়েছিল, তা বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়েছে পোস্টটিতে।
প্রায় ৫ লক্ষ ডলারের বাজেটে আয়োজিত ওই অফিস ট্যুর হন্ডুরাসের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পরিবেশে রোমাঞ্চ এবং নতুন অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কর্মীদের। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ওই কর্মীরা কল্পনাও করতে পারেননি যে, হন্ডুরাসে পা দেওয়ার পর বড়সড় বিপদে পড়তে হবে তাঁদের।
ওই কর্মীদের জন্য সমস্যা শুরু হয় হন্ডুরাসে পা দেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। স্থানীয় ভাবে কাঁচা সব্জি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া সত্ত্বেও, সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্তা তা উপেক্ষা করেন। স্যালাড খেয়ে ফেলেন তিনি।
শীঘ্রই ওই ঊর্ধ্বতন কর্তা ইকোলাই সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভ্রমণের বেশির ভাগ সময় বিছানাতেই কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। আইভি ড্রিপের মাধ্যমে তাঁর শরীরে তরল প্রবেশ করানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
‘কর্পোরেট রিট্রিট’-এ গিয়ে প্রযুক্তি সংস্থার কর্মীদের বিষাক্ত ট্যারান্টুলা খাওয়ার চ্যালেঞ্জও দেওয়া হয়েছিল। কর্মীদের একটি ঢাকা দেওয়া থালায় যা থাকবে তা খাওয়ার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল। যখন এক অংশগ্রহণকারী ঢাকনাটি তোলেন, তখন তিনি একটি মৃত টারান্টুলা দেখতে পান। ওই কর্মী তা খেয়েও ফেলেন। আর বিষাক্ত মাকড়সাটি খেয়েই অসুস্থ হয়ে প়ড়েছিলেন তিনি।
‘কর্পোরেট রিট্রিট’-এর চ্যালেঞ্জ শীঘ্রই আরও তীব্র আকার ধারণ করে। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন নৌবাহিনীর প্রশিক্ষকদের নেতৃত্বে কর্মীদের সৈকতে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সামরিক ধাঁচের মহড়া করানো হয়েছিল। একটি মহড়ার সময়, এক কর্মী লাল পিঁপড়ের ঢিবির উপর পড়ে যান।
পিঁপড়ের কামড়ে তাঁর সর্বাঙ্গে জ্বলুনি শুরু হয়। চাকা চাকা দাগও হয়ে যায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে চিকিৎসা সরঞ্জাম সীমিত থাকার কারণে ব্যথা উপশম করতে খাওয়ার ওষুধের পরিবর্তে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। ভ্রমণের বাকি দিনগুলি অসুস্থ হয়েই কাটিয়েছিলেন তিনিও।
কর্মীদের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে থাকে হোটেলেও। জানা গিয়েছে, এক প্রযুক্তিবিদের স্নানঘরের ছাদ ভেদ করে একটি সজারু নীচে পড়ে যায়। হোটেলের কর্মীরা প্রাণীটিকে সরিয়ে নিলেও ভয় পেয়ে যান কর্মীরা।
সবচেয়ে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে একটি দ্বীপে এক দিনের ভ্রমণের সময়। কর্মীদের ছোট বিমানে করে ওই দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আয়োজকদের কথা ছিল সূর্যাস্তের আগে ১০০ জনেরও বেশি কর্মীকে ফিরিয়ে আনার। কারণ, রানওয়েতে কোনও আলো ছিল না।
কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হন তারা। ফলস্বরূপ দলটি সারা রাত ওই দ্বীপে আটকে পড়ে। কিছু কর্মীর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কিন্তু তার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে ক্লান্ত এবং অসুস্থ অবস্থায় ভয়ে ভয়ে সারা রাত অন্ধকার দ্বীপে কাটাতে হয় তাঁদের।
পরে কর্মীরা দেখেন পরিকল্পনা অনুযায়ী রিট্রিট হয়নি। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশির ভাগ মানদণ্ডই পূরণ করতে পারেননি আয়োজকেরা। একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রমণে যাওয়া কর্মীরা বিপদে পড়লে কী হবে তার জন্য খুব সামান্যই বিকল্প পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কর্পোরেট রিট্রিট’-এ যথাযথ পরিকল্পনার গুরুত্বের বিষয়ে হন্ডুরাস সফরটি এখন অনেক সংস্থার কাছেই নাকি শিক্ষা হিসাবে কাজ করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকে মিলে ভ্রমণে গেলে গুরুতর সমস্যা এড়াতে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চিকিৎসা সহায়তা এবং স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা থাকা কতটা প্রয়োজন তা-ও প্রমাণ করে ২০১৭ সালে হন্ডুরাস সফরে যাওয়া আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের অভিজ্ঞতা।