Advertisement
E-Paper

‘কন্দহরের ভয়ঙ্কর পশু’কে বন্দি করে ইরান! মার্কিন ‘প্রেতাত্মা’র প্রযুক্তি ‘চুরি’ কী ভাবে বদলে দেয় আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞা?

আমেরিকার অস্ত্রাগারের উন্নত মানববিহীন নজরদারি ড্রোনগুলির মধ্যে একটি হল সেন্টিনেল। ২০০৭ সালে চালু করা ড্রোনটি সেই বছরের শেষের দিকে আফগানিস্তানে এবং তার পর ২০০৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৮:০২
How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০১ / ২২

৯/১১-র পরবর্তী সময়। আমেরিকার বুকে মারাত্মক সেই সন্ত্রাসী হামলার বদলা নিতে তৎপর হয়েছিলেন মার্কিন গোয়েন্দারা। খোঁজ চলছিল দোষীদের। সেই সময়ই এক রাতে দক্ষিণ আফগানিস্তানের কন্দহরের আকাশের বিস্তৃত বৃত্তাকার পথে প্রথম বারের জন্য চক্কর কাটতে নামে এক নিঃশব্দ প্রহরী। সেই প্রহরীর প্রায় কোনও শব্দ ছিল না। অন্ধকারে প্রায় অদৃশ্য ছিল সেটি। রাতের আঁধারে মিশে গিয়েছিল তার ডানা। সেন্সরগুলি সীমান্ত এবং উপত্যকা জুড়ে শান্ত ভাবে নজরদারি চালাচ্ছিল।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০২ / ২২

নিঃশব্দ সেই প্রহরী ছিল আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল। লকহিড মার্টিনের তৈরি আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল একটি মানববিহীন ড্রোন, যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ (সিআইএ)-এর জন্য পরিচালনা করে আমেরিকার বায়ুসেনা। আমেরিকার স্টেল্‌থ নজরদারি ড্রোনটি ৯/১১-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে গোপন গোয়েন্দা অভিযানে কন্দহর বিমানঘাঁটি থেকে উড়িয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযানের ফলও মিলেছিল হাতেনাতে।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০৩ / ২২

সামরিক বৃত্তে আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল পরিচিত ‘রেথ’ বা ‘প্রেতাত্মা’ নামে। কেন এমন নাম? কারণ, শত্রুর আকাশসীমায় অগোচরে প্রবেশ করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এই ড্রোন। আমেরিকার বায়ুসেনার নজরদারির চালানোর ক্ষেত্রে সর্বোত্তম প্রতিনিধি আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল। সেন্টিনেল আমেরিকান অস্ত্রাগারের উন্নত মানববিহীন নজরদারি ড্রোনগুলির মধ্যে একটি। ২০০৭ সালে চালু করা ড্রোনটি সেই বছরের শেষের দিকে আফগানিস্তানে এবং তার পর ২০০৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল। আমেরিকার সামরিক বৃত্তের ভিতরে আরও নাটকীয় ডাকনাম রয়েছে আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেলের, ‘দ্য বিস্ট অফ কন্দহর’ বা ‘কন্দহরের ভয়ঙ্কর পশু’। তার নেপথ্যে রয়েছে এক কাহিনি।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০৪ / ২২

২০১১ সালের ডিসেম্বরে একটি আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল ড্রোনের অভিযান এমন ভাবে শেষ হয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী ড্রোন তৈরির প্রতিযোগিতাকে নতুন রূপ দিয়েছিল। কারণ, আফগানিস্তানে তার ঘাঁটিতে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে ড্রোনটি ইরানের অভ্যন্তরে অবতরণ করে। এর ফলে বিপরীত কৌশলবিদ্যা (রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং প্রযুক্তিগত অনুলিপির (বলা ভাল চুরির) একটি চক্রের সূচনা হয়, যা এখন বিশ্ব জুড়ে ড্রোন যুদ্ধকে সংজ্ঞায়িত করে।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০৫ / ২২

২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ইরান ঘোষণা করে যে তাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে আসা একটি গোপন গোয়েন্দা ড্রোনকে আটক করেছে দেশের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, আফগান সীমান্ত থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দূরে দেশটির উত্তর-পূর্বে কাশমারের কাছে আছড়ে পড়েছিল ড্রোনটি। তেহরান জানিয়েছিল, সেটি ছিল লকহিড মার্টিনের সিআইএ পরিচালিত ড্রোন আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০৬ / ২২

আমেরিকা তার পরেই স্বীকার করে যে তাদের একটি আকাশযান ইরানের সীমান্তের কাছে হারিয়ে গিয়েছে। তবে আমেরিকান কর্মকর্তারা সেটির মডেল নিশ্চিত করেননি। সেটি কী ভাবে ইরানের ভূখণ্ডে আছড়ে পড়েছিল তা নিয়েও তেহরানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ওয়াশিংটন।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০৭ / ২২

ইরানের দাবি ছিল, ড্রোনটিকে একটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ধরা হয়েছিল, যা ড্রোনটির নেভিগেশন সিগনালে হস্তক্ষেপ করে। বৈদ্যুতিন উপায়ে ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছিল ড্রোনটিকে। অন্য দিকে, পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেন যে, ড্রোনটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির শিকার হয়েছিল। অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরে সেটি পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছিল। পেন্টাগনের এক জন ঊর্ধ্বতন কর্তা সেই সময় বলেছিলেন, ‘‘প্রতিপক্ষের গুলিতে ড্রোনটি ভূপতিত হয়েছিল, তেমন কোনও ইঙ্গিত নেই।’’

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০৮ / ২২

আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল যাতে শত্রুদের রাডারে ধরা না পড়ে, তার জন্য এতে বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর ‘ব্যাট-উইং’ আকৃতি বি-২ বোমারু বিমানের স্টেল্‌থ যুদ্ধবিমানের মতো। এর বাইরের আবরণ রাডার সঙ্কেত শোষণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ড্রোনটিতে উন্নত ‘রিকনেসান্স’ সেন্সর ছিল, যা ছবি সংগ্রহ করতে এবং রেডিয়ো যোগাযোগ আটকাতে সক্ষম।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
০৯ / ২২

আমেরিকার বিগত দু’দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা অভিযানগুলির মধ্যে একটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে নিকেশের জন্য অভিযানের আগের মাসগুলিতে সিআইএ পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গোপন নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোনটি ব্যবহার করেছিল। লাদেনকে খতম করার অভিযানের রাতেও ব্যবহার করা হয়েছিল স্টেল্‌থ ড্রোনটি।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১০ / ২২

মনে করা হয়, সেই বিশেষ ড্রোনই ২০১১ সালে ধরা পড়েছিল ইরানের হাতে। তেহরানের জন্য এই ধরনের ড্রোন অক্ষত অবস্থায় অর্জন আমেরিকার স্টেল্‌থ প্রযুক্তি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করতে পারত। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারাও সে সময় এই দুশ্চিন্তার কথা স্বীকার করেছিলেন। ইরানি সামরিক প্রযুক্তিবিদেরা যদি ড্রোনটির আবরণ, প্রযুক্তি এবং রাডার ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে সক্ষম হন, তা হলে তাঁরা স্টেল্‌থ বিমান শনাক্ত বা প্রতিহত করার বিষয়ে সমাধানসূত্রও খুঁজে পেতে পারবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। কারণ, পেন্টাগনের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান এফ-৩৫-সহ অনেক অস্ত্রেই একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১১ / ২২

ফলে তেহরান সেই ড্রোনটি আটক করেছে ঘোষণা করার পর পরই ওয়াশিংটনের তরফে সেটি ফেরত চাওয়া হয়। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তখন বলেছিলেন, ‘‘আমরা বিমানটি ফেরত চেয়েছি। আমরা দেখব ইরান কী ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।’’ তবে এর পরেই ইরানের সামরিক কর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিমানটি ফেরত দেওয়া হবে না। পরিবর্তে আটক করা ড্রোনটির তোলা বেশ কিছু ছবি-ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনেন ইরানের কর্তৃপক্ষ।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১২ / ২২

ইরানি সংবাদসংস্থাগুলি সাদা-কালো ভিডিয়ো সম্প্রচার করে দাবি করে, বিমানটি বেশ কিছু গোপন ছবি তুলেছিল। সেই সব ভিডিয়ো ইউটিউবেও আপলোড করা হয়। তেহরান এ-ও দাবি করে, ড্রোনটি ইরানের আশপাশের দেশগুলিতে অসংখ্য বার নজরদারি অভিযান পরিচালনা করেছে। কিছু ভিডিয়োয় দক্ষিণ আফগানিস্তানের কন্দহর বিমানঘাঁটির কাছেও ড্রোনটি উড়তে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করে ইরান। তবে সেই সব ফুটেজ ড্রোন থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা কখনও প্রমাণিত হয়নি।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১৩ / ২২

ঘটনাটি এমন এক মুহূর্তে ঘটে যখন ওয়াশিংটনে আমেরিকার ড্রোন-নীতি তদন্তাধীন ছিল। ওবামা প্রশাসন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দা এবং সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে লক্ষ্য করে মানববিহীন বিমানের ব্যবহার বাড়িয়েছিল বলে দাবি ওঠে। সেই কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হোয়াইট হাউসের সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জন ব্রেনান, যাঁকে পরে সিআইএকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। ড্রোন অভিযানের নকশা তৈরিতেও সহায়তা করেছিলেন ব্রেনান।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১৪ / ২২

ব্রেনানের সিআইএ প্রধান হওয়ার মনোনয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। ড্রোন হামলার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আইনপ্রণেতারা। বিদেশে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আমেরিকার নাগরিকদের প্রাণসংশয়ের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। একই সময়ে প্রশাসনের ড্রোন-নীতি এবং বিদেশে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালানোর যৌক্তিকতা নিয়ে সেনেট গোয়েন্দা কমিটি প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই পটভূমিতে ইরানের অভ্যন্তরে আমেরিকার একটি স্টেল্‌থ ড্রোন হারিয়ে যাওয়া, আমেরিকার মানববিহীন নজরদারি বিমানের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ শুরু হয়েছিল।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১৫ / ২২

তবে ইরানে আমেরিকার ড্রোন আটক হওয়ার ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই আটক ড্রোনটির ছবি প্রকাশ্যে আনে তেহরান এবং সেটির উপর ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার ইচ্ছার কথা ঘোষণা করে। ইরান জানিয়েছিল যে, তারা ড্রোনটির নকশা বিশ্লেষণ করবে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে একই রকম ড্রোন তৈরি করবে। আরও পরে ইরানের সংবাদমাধ্যমে সেন্টিনেলের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি ড্রোন তৈরির খবর প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যে ছিল শাহেদ-১৭১ সিমোর্গ এবং সায়েগ— উভয়ই ডানাযুক্ত ড্রোন, যা কার্যত আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেলের মতোই দেখতে ছিল।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১৬ / ২২

ইরানের সামরিক কর্তারা পরে জানিয়েছিলেন যে, সায়েগ চারটি ‘গাইডেড’ বোমা বহন করতে পারে, যা একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের তৎকালীন মহাকাশ বিভাগের প্রধান আমির আলি হাজিজাদেহ মন্তব্য করেন, দূরপাল্লার ড্রোনটি নির্ভুল-নির্দেশিত বোমা দিয়ে চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১৭ / ২২

ইরানের মানবহীন ড্রোন তৈরির চেষ্টা ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকে শুরু হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দশক ধরে ইরানে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। ফলে ড্রোনের মতো উন্নত সামরিক প্রযুক্তি হাতে পাওয়ার উপায় তাদের ছিল না। ফলে তাদের ড্রোন তৈরির বেশির ভাগই নির্ভরশীল ছিল রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির উপর। সেন্টিনেলের ঘটনাটি সেই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করেছিল।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১৮ / ২২

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তেহরান তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মাঝারি উচ্চতার দীর্ঘ-সহনশীল এবং ছোট ড্রোন তৈরি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল শাহেদ-১২৯, যা মাঝারি উচ্চতার দীর্ঘ-সহনশীল ড্রোন। ইজ়রায়েলি ড্রোন ‘হার্মিস ৪৫০’-এর উপর ভিত্তি করে ড্রোনটি তৈরি বলে মনে করা হয়।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
১৯ / ২২

২০১২ সালে ড্রোনটি প্রকাশ্যে আসে এবং ২০১৩ সাল থেকে ব্যাপক হারে এর উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে স্বীকৃত ড্রোনগুলির মধ্যে একটি হল শাহেদ-১৩৬। ত্রিভুজাকার সশস্ত্র ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বৃহৎ নজরদারি ড্রোন তৈরিতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, তার থেকে অনেক কম খরচে এবং সহজ ভাবে এই ধরনের ড্রোনগুলি তৈরি করা যায়। আমেরিকার এমকিউ-৯ রিপারের মতো উন্নত ড্রোন তৈরিতে যেখানে ১.৬ কোটি ডলার খরচ হয়, তার অনেক কম খরচে শাহেদ-১৩৬ তৈরি করা সম্ভব। বেশ কয়েক বছর ধরে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলি এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া এই ড্রোনগুলি ব্যবহার করেছে।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
২০ / ২২

পরে শাহেদ-১৩৬ ড্রোনটির নকশা ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য অনেক দেশ সেই ড্রোনের নকশা অনুকরণ করা শুরু করে। ঘটনাচক্রে, একসময় সেন্টিনেল ড্রোনের গঠন এবং প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ইরান যেমন ড্রোন তৈরিতে সিদ্ধহস্ত হয়েছে, তেমনই আমেরিকার সামরিক বাহিনীও সম্প্রতি ইরানের শাহেদ-১৩৬ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একটি নতুন কামিকাজ়ে ড্রোন তৈরি শুরু করেছে। কম খরচের মানববিহীন লুকাস একটি দীর্ঘ পাল্লার একমুখী আক্রমণে সক্ষম ড্রোন, যা দেখতে শাহেদ-১৩৬-এর মতোই।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
২১ / ২২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের কথায়, ‘‘এটি আসলে একটি ইরানি ড্রোনের নকশা। আমরা ইরানের ড্রোন ধরে তার খোলনলচে বদলে, নিজেদের তৈরি জিনিস ঢুকিয়ে ব্যবহার করেছি এবং তা দিয়েই ইরানিদের উপর হামলা চালাচ্ছি।’’ সম্প্রতি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথশক্তির সঙ্গে ইরানের যে সংঘাত শুরু হয়েছে, সেখানে এই লুকাস দিয়েই তেহরানের মাটিতে হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

How Iran claimed to have captured an American RQ-170 Sentinel drone and how it changed the definition of modern warfare
২২ / ২২

ড্রোনের প্রযুক্তি চুরি থেকে শুরু করে নতুন ড্রোন তৈরি এবং আবার তার প্রযুক্তি চুরির ‘চেন রিঅ্যাকশন’ শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে ইরানের আকাশে স্টেল্‌থ ড্রোন সেন্টিনেল ‘হারিয়ে যাওয়া’র মাধ্যমে। আমেরিকার ড্রোন বিশ্লেষণ করে এবং প্রযুক্তি ‘অনুকরণ’ করে ইরান নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করেছিল। ইরানের সেই প্রযুক্তি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর আবার তার ‘অনুকরণ’ করেছে আমেরিকা। পূর্ণ করেছে সামরিক বৃত্ত। সস্তা মানববিহীন ড্রোন বদলে দিয়েছে আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞাও।

সব ছবি: সংগৃহীত।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy