How US President Donald Trump Uses the Controversial Doctrine to Defend Venezuela Strike dgtl
Donroe Doctrine
ভেনেজুয়েলায় হামলার পক্ষে যুক্তি দিতে ট্রাম্পের তুরুপের তাস এক বিতর্কিত তত্ত্ব! কী এই ‘মনরো ডকট্রিন’?
৩ জানুয়ারি মনরো তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। সেটিকে আমেরিকার একটি দীর্ঘস্থায়ী বিদেশনীতি হিসাবে বর্ণনা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপসারণের যে অভিযান আমেরিকা চালিয়েছে, তা ওই নীতি মেনেই হয়েছে।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০২
Share:Save:
এই খবরটি সেভ করে রাখার জন্য পাশের আইকনটি ক্লিক করুন।
০১২২
ভেনেজ়ুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে দেশছাড়া করা হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত (স্থানীয় সময় অনুসারে রাত ২টো) থেকে ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে বন্দি করেছে আমেরিকা।
০২২২
আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা করেছে ভেনেজ়ুয়েলা। ভেনেজ়ুয়েলার সরকারের দাবি, সে দেশের খনিজ তেল এবং সম্পদ হাতানোর জন্যই এই কাজ করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই চেষ্টা সফল হবে না বলেও জানিয়েছে তারা। ইতিমধ্যেই ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন হানার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে বিভিন্ন দেশ।
০৩২২
তবে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতারের অভিযানকে ন্যায্য প্রমাণ করতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরুপের তাস, সে দেশের এক বিদেশনীতি— মনরো তত্ত্ব (পড়ুন মনরো ডকট্রিন)।
০৪২২
সস্ত্রীক মাদুরোকে বন্দি করার পর একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানেই এই তত্ত্বের উল্লেখ করেন ট্রাম্প। জানান, ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর স্ত্রীর আটক মার্কিন বিদেশনীতি মনরো তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকাকে সঠিক দিশা দেখিয়েছে।
০৫২২
৩ জানুয়ারি মনরো তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। সেটিকে আমেরিকার একটি দীর্ঘস্থায়ী বিদেশনীতি হিসাবে বর্ণনা করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপসারণের যে অভিযান আমেরিকা চালিয়েছে, তা ওই তত্ত্ব মেনেই হয়েছে।
০৬২২
শুধু তা-ই নয়, এ ক্ষেত্রে সেটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মনরো তত্ত্বের নতুন নামকরণও করেছেন ট্রাম্প। নাম দিয়েছেন, ডনরো তত্ত্ব।
০৭২২
ট্রাম্পের অভিযোগ, মাদকপাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনেজ়ুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হচ্ছে ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে।
০৮২২
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘এই সমস্ত পদক্ষেপ দুশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান আমেরিকার বিদেশ নীতিমালার মূল নীতিগুলির চরম লঙ্ঘন। অনেক আগে মনরো তত্ত্ব ছিল। আর মনরো তত্ত্ব একটি বড় ব্যাপার। কিন্তু আমরা এখন এই তত্ত্ব পেরিয়ে এসেছি। এখন এটিকে ডনরো তত্ত্ব বলে।’’
০৯২২
কিন্তু কী এই মনরো তত্ত্ব? ১৮২৩ সালে আমেরিকার পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো এই তত্ত্ব চালু করেন। তাঁর নামেই ওই তত্ত্বের নামকরণ করা হয়। উনিশ শতকের আমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশনীতির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হত মনরো তত্ত্বকে।
১০২২
উনিশ শতকে আমেরিকার বিদেশনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল মনরো তত্ত্ব, যা পশ্চিম গোলার্ধকে ইউরোপের দেশগুলির ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত রাখতে চেয়েছিল। বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় আমেরিকানদের প্রাধান্য বজায় রাখতে চেয়েছিল এই তত্ত্ব।
১১২২
মনরোর তত্ত্বে দু’টি বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ ছিল। সেগুলি হল, আমেরিকা প্রথম নীতি (আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি) এবং ইউরোপের রাজনীতি থেকে দূরে থাকা।
১২২২
মনরো তত্ত্বে বলা হয়েছিল, ইউরোপীয় শক্তিগুলি আমেরিকার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। বিনিময়ে ইউরোপীয় সংঘাত থেকে দূরে থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।
১৩২২
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মনরো তত্ত্ব মার্কিন বিদেশিনীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠে। যদিও ল্যাটিন আমেরিকায় হস্তক্ষেপ করতে সেই নীতি ‘অস্ত্র’ হিসাবে ব্যবহার করার জন্য বার বার শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।
১৪২২
মনরো তত্ত্ব দক্ষিণ এবং মধ্য আমেরিকাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত ‘দরজা’ হিসাবে ব্যবহারেরও সুযোগ করে দিয়েছে। ১৯০৪ সালে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজ়ভেল্ট সেই নীতি সংশোধন করেন এবং ‘রুজ়ভেল্ট করোলারি’ চালু করেন।
১৫২২
ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলিতে ইউরোপীয় হস্তক্ষেপ রোধ করার জন্য মার্কিন হস্তক্ষেপের অধিকারের উপর জোর দেন রুজ়ভেল্ট। তাঁর সংশোধিত নীতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ল্যাটিন আমেরিকায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।
১৬২২
অনেকের মতে, মনরো তত্ত্ব কিউবা, নিকারাগুয়া, হাইতি এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকে মার্কিন হস্তক্ষেপকে মান্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘ইউরোপীয়দের প্রভাব’কে দূরে রাখার জন্য ১৯০৪ সালে সান্টো ডোমিঙ্গো, ১৯১১ সালে নিকারাগুয়া এবং ১৯১৫ সালে হাইতিতে মার্কিন নৌসেনাও পাঠানো হয়েছিল।
১৭২২
আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনকালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী জন কেরি ঘোষণা করেছিলেন, ‘‘মনরো তত্ত্বের যুগ শেষ।’’ কিন্তু সেই ঘোষণার এক দশক পরে সস্ত্রীক ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টকে বন্দি করার জন্য সেই নীতিকেই তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করলেন ট্রাম্প। নাম দিলেন, ডনরো তত্ত্ব।
১৮২২
আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার চাপানউতর দীর্ঘ দিন ধরেই চলছিল। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভেনেজ়ুয়েলা সীমান্তে কোনও তেলের ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলা সরকারকে ‘জঙ্গিগোষ্ঠী’ তকমাও দিয়েছিলেন তিনি। মাদুরোকে ‘অবৈধ শাসক’ বলে অভিহিত করে তাঁকে পদত্যাগ করতেও বলেছিলেন।
১৯২২
এই মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলায়। প্রতি দিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয় সে দেশে। ভেনেজ়ুয়েলার দাবি, তাদের সেই খনিজ সম্পদ লুট করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তা ছাড়া, গত কয়েক বছরে চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে মাদুরোর সরকার। তার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে ওয়াশিংটন।
২০২২
অন্য দিকে, ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে আমেরিকা। মাদকসন্ত্রাস, কোকেনপাচারের মতো অভিযোগ তো রয়েইছে, এ ছাড়াও মাদুরোর বিরুদ্ধে অস্ত্র অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে।
২১২২
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে দুর্নীতিগ্রস্ত, অবৈধ সরকার পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফার্স্ট লেডি সিলিয়ার বিরুদ্ধেও সরকারি কর্তাদের প্রভাবিত করা, কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়া থেকে শুরু করে মাদকপাচারে মদত দেওয়ার মতো নানা গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা।
২২২২
আমেরিকার হাতে মাদুরো বন্দি হওয়ার পর ভেনেজ়ুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে আপাতত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেছে সে দেশের আদালত। ভেনেজ়ুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে।