Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

চিত্র সংবাদ

Janhvi Kapoor: ‘অরুণিমা হতে চাই’, কেন এ কথা বলছেন শ্রীদেবীর বড় মেয়ে?

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১১:২৯
মাত্র কয়েক বছর ধরে বলিউডের পর্দায় দেখা যাচ্ছে তাঁকে। তবে এর মধ্যেই বার বার নিজের রূপ বদল করছেন শ্রীদেবীর বড় মেয়ে। কখনও রোম্যান্টিক কমেডি, কখনও বা থ্রিলার ফিল্মে দেখা গিয়েছে জাহ্নবী কপূরকে। কেরিয়ারের শুরুতেই বায়োপিক-এও অভিনয় সেরে ফেলেছেন। তবে জাহ্নবী বলছেন, এ সবে মন ভরছে না। তিনি অরুণিমা হতে চান!

বায়োপিক-এ অভিনয় করাটা নাকি অভিনেতাদের কাছে স্বপ্ন। তবে সে স্বপ্ন লালন করলেও সুযোগ পান না অনেকেই। স্বল্প দিনের অভিনয় জীবনে সে সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন জাহ্নবী। ইতিমধ্যেই তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল’ ফিল্মে কাজ করার অভিজ্ঞতা।
Advertisement
শরণ শর্মার ২০২০ সালের ফিল্মে গুঞ্জনের জুতোয় পা গলিয়েছিলেন জাহ্নবী। ভারতীয় বায়ুসেনায় হয়ে যুদ্ধের ময়দানে নামা মেয়েদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন গুঞ্জন। প্রথম সে নজির গড়েছিলেন শ্রীবিদ্যা রাজন।

বড় পর্দায় গুঞ্জনের জীবনী ফুটিয়ে তোলার পর যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন শ্রীদেবী এবং বনি কপূরের মেয়ে। অনেকেই বলেছিলেন, সাহসী বটে জাহ্নবী! একে তো কেরিয়ারের শুরুতেই এত চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। তার উপর নায়িকাসুলভ গ্ল্যামার ছেড়ে রেখে মাটির কাছাকাছি চরিত্রে অভিনয়ের ঝুঁকি। সমালোচক থেকে ভক্তেরা বলেছিলেন— ‘‘তারিফ করতেই হয় জাহ্নবীর।’’
Advertisement
তারিফ কুড়োলেও নিশ্চিন্ত হননি জাহ্নবী। পরের বছর তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল অরুণিমা সিন্‌হার সঙ্গে। এ বার তাঁর জুতোয় পা গলানোর স্বপ্ন বুনতে শুরু করে দেন তিনি।

গত বছর অক্টোবরে প্যারাঅলিম্পক্সে অংশগ্রহণকারীদের সংবর্ধনাসভায় দিল্লিতে হাজির ছিলেন জাহ্নবী। সেখানেই এভারেস্টজয়ী অরুণিমার সঙ্গে দেখা হয় তাঁর।

জাতীয় স্তরের সাত বারের প্রাক্তন ভলিবল খেলোয়াড় অরুণিমার কাহিনি কোনও ফিল্মের থেকে কম নাটকীয় নয়। ২০১১ সালের ১২ এপ্রিল লখনউ থেকে ট্রেনে দিল্লি যাচ্ছিলেন অরুণিমা। আধাসামরিক বাহিনীর চাকরির পরীক্ষা দেওয়াই লক্ষ্য ছিল। তবে সে লক্ষ্যপূরণ হয়নি।

ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ায় চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে অরুণিমাকে রেললাইনে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রেনে তাঁর পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়।

রাতভর রেল লাইনের উপর সে ভাবেই পড়ে থাকেন অরুণিমা। অন্য পায়ের প্রবল যন্ত্রণা। চিৎকার করতে থাকেন অরুণিমা। তবে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। এক সময় বুঝতে পারেন, রেল লাইনের আশপাশের ইঁদুর তাঁর কাটা পা ছিঁড়ে খেতে শুরু করেছে। সে ভাবেই রাত কাটে অরুণিমার। দিনের আলো ফুটলে আশপাশের গ্রামবাসীরা দেখতে পেয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওই দুর্ঘটনার বছর দুয়েক পর এভারেস্টের শিখরে তেরঙ্গা উড়িয়েছিলেন অরুণিমা। অঙ্গ-হীন অরুণিমাই প্রথম এ চুড়োয় পা রাখলেন। এভারেস্ট ছাড়াও সাতটি পর্বতের জাতীয় পতাকা তুলেছেন তিনি।

তবে উত্তরণের পথ সহজ ছিল না। অনেকের কাছে এ-ও শুনতে হয়েছে, নিজের দুর্ঘটনার খবর নিয়ে মিথ্যে বলেছেন অরুণিমা। তবে সে সব পাশ কাটিয়ে এগিয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে অরুণিমাকে পদ্ম-সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার।

অরুণিমার সঙ্গে সাক্ষাৎ যে তাঁকে অনুপ্রেরণাদায়ক, তা জানিয়েছেন জাহ্নবী। তিনি বলেন, ‘‘অরুণিমা সিন্‌হার কাহিনি সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগায়। পর্দায় তাঁর চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে যে কোনও সময় রাজি!’’