ফলে বেকসুর খালাস পেয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার সেই নাগরিক। সেই মামলাতেই প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি তিরুঅনন্তপুরমের নেদুমঙ্গদের ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজুকে তিন বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে, যা স্বাভাবিক ভাবেই কেরলের ক্ষমতাসীন এলডিএফ সরকারের বিধায়কের ক্ষমতা কেড়েছে। বিধানসভার পদ খুইয়েছেন তিনি। চলতি বছরে কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের কফিনেও পেরেক পুঁতেছে আদালতের এই রায়।
রাজু তখন সবে আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিস শুরু করেছেন। তিরুঅনন্তপুরমের দায়রা আদালতে ছোটখাটো মামলা লড়তেন তিনি। সেখানেই সার্ভেলির আইনজীবীর সহকারী হিসাবে মামলা লড়ার সুযোগ পান রাজু। কিন্তু সার্ভেলি মামলাটি হেরে যান। দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ১৯৯২ সালে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার সাজা শোনায় তিরুঅনন্তপুরমের দায়রা আদালত।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় অস্ট্রেলিয়ার তদন্তকারীদের সার্ভেলি জানান, কী ভাবে একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর পরিবার ভারতের এক জন আদালতের কেরানি এবং অন্যদের ঘুষ দিয়েছিলেন প্রমাণ নষ্ট করতে এবং গুরুতর মাদক মামলা থেকে মুক্তি পেতে। তিনি এ-ও জানান, মামলার মূল প্রমাণ হিসাবে রাখা তাঁর অন্তর্বাস কী ভাবে একটি ছোট অন্তর্বাসের সঙ্গে বদলে দেওয়া হয়েছিল।
সেই তথ্য হাতে পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ ইন্টারপোলকে সতর্ক করে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর মাধ্যমে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে সেই তথ্য পাঠানো হয়। ১৯৯০ সালের মাদক মামলার মূল তদন্তকারী জয়মোহনের কাছেও সেই তথ্য পৌঁছোয়। জয়মোহন বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরেই সন্দিহান ছিলেন। কারণ, তিনি নিজে সার্ভেলির কাছ থেকে অন্তর্বাসটি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন।
২০২৩ সালে কেরল হাই কোর্ট প্রযুক্তিগত কারণে মামলার কার্যক্রম বাতিল করে নতুন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয়। স্বস্তি পান রাজু। যদিও সেই স্বস্তি ক্ষণস্থায়ী ছিল। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালের নভেম্বরে হাই কোর্টের রায় বাতিল করে এবং বিচারপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেয়। শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপের পর মামলায় গতি আসে। ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
৩ জানুয়ারি নেদুমঙ্গদের বিচার বিভাগীয় ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজুকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রমাণ লোপাট, মিথ্যা প্রমাণ পেশ, নিয়ম লঙ্ঘন-সহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। দোষী সাব্যস্ত হন জোসও। দু’জনকেই তিন বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে চোরাচালানের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন রাজু।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy