মাঠে বিনোদন জোগানোই পেশা, বেতন ছাড়াও মেলে বিশেষ সুবিধা! চোখধাঁধানো আয় কেকেআর, আরসিবির চিয়ারলিডারদের
ম্যাচে কোনও দল বিজয়ী হলে সেই দলের চিয়ারলিডারদের মাথাপিছু অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এমনকি, কোনও দল যদি সেমি ফাইনাল অথবা ফাইনালে ওঠে, তবে চিয়ারলিডারদের পারিশ্রমিকের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়।
চার-ছক্কা হাঁকানো হোক অথবা বিপক্ষ দলের কোনও ক্রিকেটারের আউট হওয়া— স্টেডিয়ামে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকের উল্লাসের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন চিয়ারলিডারেরা। বাউন্ডারির দু’পাশে তন্বী চিয়ারলিডারেরা অনেক সময় ম্যাচের প্রাণস্পন্দন হয়ে ওঠেন। প্রতি ম্যাচে পারফর্ম করে কত আয় করেন তাঁরা? আইপিএলের কোন দলের চিয়ারলিডারেরা উপার্জনের দিক থেকে এগিয়ে?
ক্রিকেটারেরা যেখানে দলের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার চুক্তি করেন, সেখানে চিয়ারলিডারদের বেতন বাঁধাধরা হয় না। ম্যাচপ্রতি নির্দিষ্ট আয়ের পাশাপাশি তা পারফর্ম্যান্স বোনাস এবং ভ্রমণসূচির কাঠামোর উপরেও নির্ভর করে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পারিশ্রমিকের হার প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি আলাদা ভাবে নির্ধারণ করে। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রদানকারী ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি। জানা গিয়েছে, কেকেআর তাদের চিয়ারলিডারদের প্রতি ম্যাচে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেয়।
কেকেআরের পরেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। জানা গিয়েছে, প্রতি ম্যাচের জন্য দলের চিয়ারলিডারদের ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেয় তারা।
এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে নাম লিখিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। জানা গিয়েছে, তাদের দলের চিয়ারলিডারেরা ম্যাচপ্রতি ১৫ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পান।
আরও পড়ুন:
দিল্লি ক্যাপিটাল্স, পঞ্জাব কিংস, সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের মতো অন্য দলগুলি তাদের চিয়ারলিডারদের সাধারণত ১২-১৫ হাজার টাকা বেতন দিয়ে থাকে। কিন্তু এই পারিশ্রমিকের বাইরেও চিয়ারলিডারেরা অতিরিক্ত সুবিধা এবং বোনাস পেয়ে থাকেন।
বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি চিয়ারলিডারদের উদ্দীপনা ধরে রাখতে তাঁদের চুক্তিতে ‘পারফরম্যান্স ইনসেনটিভ’ অন্তর্ভুক্ত করে। ম্যাচে কোনও দল বিজয়ী হলে সেই দলের চিয়ারলিডারদের মাথাপিছু অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এমনকি, কোনও দল যদি সেমি ফাইনাল অথবা ফাইনালে ওঠে, তবে চিয়ারলিডারদের পারিশ্রমিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
২২ গজের বাইরেও চিয়ারলিডারদের প্রয়োজন হয়। ফ্রাঞ্চাইজ়িগুলির বিভিন্ন কর্পোরেট ইভেন্ট থেকে শুরু করে স্পনসর পার্টি এবং প্রচারমূলক ফোটোশুটের জন্য উপস্থিত থাকতে হয় চিয়ারলিডারদের। এই অনুষ্ঠানগুলিতে উপস্থিত থাকার জন্য সেশনপ্রতি পাঁচ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় করতে পারেন চিয়ারলিডারেরা।
আইপিএলের প্রতিটি মরসুম থেকে (প্লেঅফ-সহ) আড়াই লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করেন চিয়ারলিডারেরা। তা ছাড়া ফ্রাঞ্চাইজিগুলি তাঁদের বিমানভাড়া থেকে শুরু করে হোটেলে থাকা-খাওয়ার খরচ, স্বাস্থ্য বিমার খরচও বহন করে।
আরও পড়ুন:
তবে চিয়ারলিডার নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। আইপিএলে বেশির ভাগ চিয়ারলিডার রাশিয়া, ইউক্রেন, ব্রাজ়িল বা আমেরিকা থেকে আসেন। চিয়ারলিডার হতে গেলে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া আবশ্যক।
চিয়ারলিডারদের দক্ষ নৃত্যশিল্পী হতে হয়। বিশেষ করে জ্যাজ়, হিপ-হপ বা ব্যালে নাচে পারদর্শী হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় জিমন্যাস্টিক বা অ্যারোবিক্স জানা থাকলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। দীর্ঘ ক্ষণ ধরে পারফর্ম করার জন্য শারীরিক সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক।
ক্যামেরার সামনে সাবলীল থাকা এবং দর্শকের মনোরঞ্জন করাই চিয়ারলিডারদের মূল কাজ। অনেক ক্ষেত্রে আগের মডেলিং বা পারফর্ম্যান্সের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। আলাদা করে কোনও শিক্ষাগত ডিগ্রির প্রয়োজন না হলেও সাবলীল ভাবে ইংরেজি বলা আবশ্যক।
আইপিএলের দলগুলো সরাসরি চিয়ারলিডার নিয়োগ করে না। সাধারণত পেশাদার এজেন্সি বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে এঁরা নিযুক্ত হন। নাচের দক্ষতার পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব এবং মানসিক দৃঢ়তা যাচাই করতে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ইন্টারভিউও নেওয়া হতে পারে।
দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চিয়ারলিডার হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে চিয়ারলিডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই রয়েছে আমেরিকায়। পড়াশোনা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলে তবেই চিয়ারলিডার হওয়ার শংসাপত্র মেলে।
বিশ্বের দ্বিতীয় ধনীতম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আইপিএল। এ বার ১৯তম মরসুম আইপিএলের। এ বছর আইপিএলে আগের মতো ১০টি দল খেললেও ম্যাচের সংখ্যা ৭৪ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৮৪। ১৩টি শহরে হবে ম্যাচগুলি।
শনিবার, ২৮ মার্চ থেকে শুরু আইপিএল। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি গত বারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজ়ার্স হায়দারাবাদ। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হবে সেই ম্যাচ। তবে এ বার আইপিএলে কোনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে না বলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আগেই জানিয়ে দিয়েছে।