অভিনেতার সঙ্গে বিচ্ছেদ, ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাগ্দানের পরেও ভাঙে বিয়ে, তারকা-রাজনীতিকের সঙ্গে পরকীয়ায় নজরে নায়িকা!
বিজয় প্রথম নন, এর আগেও এক দক্ষিণী অভিনেতার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়েছিল তৃষা কৃষ্ণনের। কিন্তু সেই প্রেমও পূর্ণতা পায়নি। কয়েক বছর ডেট করার পর সম্পর্কে ইতি টানেন দুই তারকা।
জনপ্রিয় তামিল অভিনেতার সঙ্গে তাঁর সহ-অভিনেত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ এনে আইনি বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন বিজয় থলপতির জীবনসঙ্গিনী সঙ্গীতা সোরনালিগম। পারিবারিক আদালতে এই মামলা চলাকালীন সেই সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গেই বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হলেন অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়। তা হলে কি পরকীয়া সম্পর্কে সিলমোহর দিয়ে ফেললেন তারকাদ্বয়?
জনশ্রুতি, দক্ষিণী নায়িকা তৃষা কৃষ্ণনের সঙ্গেই নাকি বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে রয়েছেন বিজয়। ২০০৪ সালে ‘গিল্লি’ ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন বিজয় এবং তৃষা। ক্যামেরার সামনে তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়।
‘গিল্লি’তে অভিনয়ের পর বিজয় এবং তৃষা একসঙ্গে ‘থিরুপাচি’, ‘আথি’ এবং ‘কুরুভি’-র মতো একাধিক ছবিতে কাজ করেন। তবে, ক্যামেরার পিছনেও নাকি দুই তারকার সম্পর্ক গাঢ় হচ্ছিল বলে শোনা যেতে থাকে।
২০০৮ সালের পর একসঙ্গে অভিনয় করা বন্ধ করে দেন বিজয় এবং তৃষা। কানাঘুষো শোনা যায়, তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন ছায়া ফেলেছিল বিজয়ের সংসারেও। তৃষার সঙ্গে ছবি না করার শর্ত চাপিয়েছিল অভিনেতার পরিবার। সেই সময় অবশ্য বিজয় এবং তৃষা ঘোষণাও করেন, সবটাই রটনা। তাঁরা শুধুমাত্রই বন্ধু।
দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতির পর ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লিও’ ছবিতে আবার স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় বিজয় এবং তৃষাকে। ২০২৪ সাল থেকে একাধিক বার তাঁদের পর্দার বাইরেও আবিষ্কার করেছেন ছবিশিকারিরা। কখনও বিমানবন্দরে, কখনও আবার বিজয়ের বাড়িতে।
আরও পড়ুন:
কখনও আবার একই অনুষ্ঠানে বিজয় এবং তৃষা আলাদা ভাবে উপস্থিত হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু দুই তারকার পোশাকে ধরা পড়ত রংমিলান্তি! গুঞ্জন শোনা যায়, একান্তে সময় কাটাতে নরওয়েও ঘুরতে গিয়েছিলেন তাঁরা। অনুমান, তৃষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই বিজয়-সঙ্গীতার বিবাহবিচ্ছেদের কারণ।
বিজয়ের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতার অভিযোগ, স্বামী অন্য নায়িকার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বিজয়। যদিও সেই নায়িকার নাম উল্লেখ করেননি তিনি। তবে সঙ্গীতার দাবি, এই সম্পর্কের কারণে তিনি মানসিক যন্ত্রণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন। তার প্রভাব পড়েছে দুই সন্তানের উপরেও।
বিজয় প্রথম নন, এর আগেও এক দক্ষিণী অভিনেতার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়েছিল তৃষার। কিন্তু সেই প্রেমও পূর্ণতা পায়নি। কয়েক বছর ডেট করার পর সম্পর্কে ইতি টানেন দুই তারকা। সেই অভিনেতা রানা দগ্গুবতী।
তেলুগু অভিনেতা রানার সঙ্গে বহু বছরের বন্ধুত্ব ছিল তৃষার। সেই বন্ধুত্বই পরে প্রেমে পরিণতি পায়। সেই সময় যদিও সম্পর্ক নিয়ে কোনও তারকাই মুখ ফুটে কিছু বলেননি। পরে ২০১৮ সালে কর্ণ জোহরের টক শোয়ে রানাকে সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অভিনেতা বলেন, ‘‘আমি আর তৃষা বেশ কয়েক বছর বন্ধু হিসাবে মিশেছি। আমরা ডেটও করেছিলাম। কিন্তু কোনও কারণে সেই সম্পর্ক টেকেনি।’’
আরও পড়ুন:
‘ভিন্নাইতান্ডি ভারুভায়া’ ছবিটি মুক্তির পর দক্ষিণী অভিনেতা সিম্বুর সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ে তৃষার। রানার বিয়ের খবর প্রচারে আসলে তৃষা এবং সিম্বুর বিয়ের খবরও ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরে অবশ্য দুই পরিবারের তরফে জানানো হয়, এ সবই রটনা। এক সাক্ষাৎকারে তৃষা বলেছিলেন, ‘‘আমি সিম্বুকে অনেক বছর ধরে চিনি। ও আমার খুব ভাল বন্ধু। কিন্তু ও এমন কেউ নয় যার প্রেমে পড়ব। আমাদের মধ্যে প্রেম নেই।’’
গুঞ্জন শোনা যায়, রানার সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টানার পর চেন্নাইয়ের ব্যবসায়ী এবং প্রযোজক বরুণ মানিয়ানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তৃষা। বরুণের সঙ্গে ২০১৫ সালে বাগ্দান সেরে ফেলেন অভিনেত্রী। কিন্তু আংটিবদলের পর বিয়ে ভেঙে যায় তাঁদের।
বলিপাড়ার অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, বরুণের পছন্দে সম্মতি জানাননি তাঁর বাবা। বরুণের বাবা চেয়েছিলেন যে, তাঁদের পুত্রবধূ যেন কোনও ব্যবসায়ী পরিবারের কন্যা হন। অভিনেত্রীকে পুত্রবধূ হিসাবে মানতে পারেননি তিনি। পরিবারের আপত্তিতে তৃষার সঙ্গে বিয়ে ভেঙে দেন বরুণ।
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর আবার বিজয়ের সঙ্গে মেলামেশা বাড়তে শুরু করেছিল তৃষার। জনশ্রুতি, দুই তারকার পরকীয়ার সম্পর্ক বহু বছর ধরেই রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বিজয় এবং তৃষা। শুধুমাত্র সহকর্মী হিসাবে পরস্পরের প্রশংসা করেছিলেন তাঁরা।
কেরিয়ারে জনপ্রিয়তা ছোঁয়ার আগেই বিজয়ের জীবনে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা। প্রথম থেকেই বিজয়ের অভিনয়ের একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন তিনি। ‘পুভে উনাক্কাগা’ ছবির সাফল্যের পর বিজয়ের সঙ্গে দেখা করতে সুদূর লন্ডন থেকে চেন্নাইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সঙ্গীতা। তখন বিজয় চেন্নাইয়ের এক ফিল্ম স্টুডিয়োয় শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত।
সেই সেটেই পৌঁছে গিয়েছিলেন সঙ্গীতা। বিজয়কে দেখে তাঁর অভিনয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন তিনি। প্রথম দেখায় তরুণী ভক্তের সরলতার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন বিজয়। মনে মনে স্থির করে ফেলেছিলেন, সঙ্গীতাকেই বিয়ে করবেন।
সেট থেকে সঙ্গীতাকে নিয়ে সোজা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন বিজয়। সঙ্গীতাকে দেখামাত্রই অভিনেতার পরিবারেরও তাঁকে পছন্দ হয়। বিজয়ের পরিবারের তরফ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সঙ্গীতার পরিবারের তরফেও এই বিয়েতে কোনও আপত্তি ছিল না।
তিন বছর সম্পর্কে থাকার পর ১৯৯৯ সালের অগস্টে বিয়ে করেন বিজয় এবং সঙ্গীতা। চেন্নাইয়ে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সঙ্গীতা। ২০০৫ সালে সঙ্গীতার কোল আলো করে আসে তাঁদের কন্যাসন্তান।
বিজয়ের কোনও ছবির প্রচারানুষ্ঠান থেকে শুরু করে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তারকার সর্ব ক্ষণের সঙ্গী হয়ে থাকতেন সঙ্গীতা। বিগত কয়েক বছর বেশ কিছু অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন বিজয়ের জীবনসঙ্গিনী। সেখান থেকে সন্দেহের সূত্রপাত।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন বিজয়। নিজের দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম’ (টিভিকে) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আসন্ন তামিলনাড়ু নির্বাচনেও দাঁড়াবেন তিনি। রাজনীতির মাঠে নামার পর সঙ্গীতা এবং বিজয়ের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে মাঝেমধ্যেই কানাঘুষো শোনা যেত।
গুঞ্জন শোনা যেত, সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে অধিকাংশ সময় লন্ডনে থাকতেন সঙ্গীতা। দীর্ঘ ২৭ বছরের সংসারের পর চেন্নাইয়ের চেঙ্গলপাট্টুর পরিবার আদালতে আইনি বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এই জল্পনার মাঝেই তৃষাকে নিয়ে বিয়েবাড়ির এক অনুষ্ঠানে হাজির হন বিজয়।
সম্প্রতি চেন্নাইয়ে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন বিজয় এবং তৃষা। বিজয় হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে গেলে তাঁর পিছন পিছন তৃষা হেঁটে আসেন।
বিজয় এবং তৃষা বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হওয়ার কিছু ক্ষণ আগেই বিজয়ের দেহরক্ষী অরুণ সুরেশ একটি পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। তিনি লেখেন, “সব গুঞ্জনকে সরিয়ে এ বার উঠে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।” কিছু ক্ষণের মধ্যে সেই পোস্ট মুছেও দেন তিনি। তা হলে কি এ ভাবেই বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে সিলমোহর দিলেন বিজয় ও তৃষা?