Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

চিত্র সংবাদ

Kylie Jenner : ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তম মহিলা, তারকা তালিকায় রোনাল্ডোর পরেই! কাইলি জেনার কে?

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১৩:৫৪
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি? নাহ। জেনিফার লোপেজ! উঁহু তিনিও না। কমলা হ্যারিস, বিল গেটসের কোটিপতি স্ত্রী মেলিন্ডা? কেউ না। এমনকি হলিউডের এই মুহূর্তের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্কারলেট ইয়োহানসনও নন। ইনস্টাগ্রামে মহিলা খ্যাতনামীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় যিনি তাঁর নাম কাইলি জেনার। কাইলির বয়স ২৪। তিনি পেশায় আমেরিকার মডেল। আবার একজন উদ্যোগপতিও।

কাইলির ইনস্টা অনুগামীর সংখ্যা ৩০ কোটি। যার ধারে কাছেও নেই জোলি, জে লো, কমলা কিংবা মেলিন্ডারা। কিছু দিন আগে পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে তাঁর থেকে এগিয়ে ছিলেন আমেরিকার পপ গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্দে। কাইলি তাঁকেও পিছনে ফেলে দিয়েছেন। মহিলা খ্যাতনামীদের মধ্যে এখন তিনিই এক নম্বর। এই প্রথম কোনও মহিলা খ্যাতনামীর অনুগামী সংখ্যা ৩০ কোটি ছাড়াল ইনস্টাগ্রামে।
Advertisement
তবে শুধু মহিলা তালিকার শীর্ষেই নয়, পুরুষ এবং মহিলা খ্যাতনামীদের মিলিত তালিকাতেও কাইলি রয়েছেন দু’নম্বরে। তাঁর থেকে সামান্য এগিয়ে পর্তুগিজ ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে রোনাল্ডোর বয়স ৩৬। চব্বিশের কাইলির জনপ্রিয়তাকে সে দিক থেকে এগিয়ে রাখাই যায়। এমনকি মোট সম্পত্তির অঙ্কেও ক্রিশ্চিয়ানোকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছেন কাইলি।

মাত্র ২১ বছর বয়সেই ১০০ কোটির সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছিলেন  কাইলি। ওই বিপুল সম্পত্তির পুরোটাই তাঁর স্বোপার্জিত। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া নয়। যদিও কাইলির মা, বাবা, দিদি, সৎ ভাই-বোনেরা প্রত্যেকেই খ্যাতনামী। তাঁদের প্রত্যেকেই বিপুল সম্পত্তির অধিকারীও।
Advertisement
বিশ্ববিখ্যাত কার্দেশিয়ান-জেনার পরিবারের কনিষ্ঠতনম সদস্য কাইলি। আমেরিকান সুপার মডেল কিম কার্দেশিয়ান তাঁর সৎ দিদি। মা ক্রিস জেনার জনপ্রিয় টিভি তারকা। বাবা ব্রুস জেনার বিখ্যাত ওলিম্পিয়ান। পরিবারের প্রত্যেকেই খ্যাতনামী। তবে নেটমাধ্যমের জনপ্রিয়তায় তাঁর অগ্রজদের প্রত্যেককেই টেক্কা দিয়েছেন কাইলি।

১৯৯৭ সালের ১০ অগস্ট লস অ্যাঞ্জিলেসের জন্ম। পুরো নাম কাইলি ক্রিস্টেন জেনার। ২০০৭ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন কাইলি। টেলিভিশন সিরিজ ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্দাশিয়ান’ তাঁদেরই পরিবারকে নিয়ে গল্প। সেখানেই প্রথম দেখা যায় কাইলিকে।

মা ক্রিস জেনারের প্রথম স্বামীর তিন কন্যা কিম, কোর্টনি, ক্লোই তখন হলিউডের পরিচিত নাম। সহোদরা কেন্ডেলও মডেলিং শুরু করেছেন। কাইলিও টেলিভিশনে মুখ দেখানোর চার বছরের মধ্যেই এক জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ডের হয়ে মডেলিং করার প্রস্তাব পান। সেই থেকেই আলোর কেন্দ্রে তিনি।

তবে কাইলি শুধু মডেলিংয়েই নিজেকে আটকে রাখেননি। আঠারোর আগেই দিদি কেন্ডেলের সঙ্গে মিলে নিজেদের পোশাকের ব্র্যান্ড তৈরি করেন। ১৮ বছর বয়সে খুলে ফেলেন নিজের প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘কাইলি লিপ অ্যান্ড কিটস’। যার বার্যিক আয় এখন ৩৩ কোটি ডলার।

ঘনিষ্ঠরা বলেন, বরাবরই কাইলি বুদ্ধিমতি। ব্যবসার নতুন নতুন ধারণা গিজ গিজ করে মাথায়। কাইলির প্রসাধনী ব্র্যান্ডের সাফল্যের কারণও তেমনই একটি নতুন ভাবনা। এখন যে লিক্যুইড ম্যাট ওষ্ঠরঞ্জনীর বিপুল জনপ্রিয়তা, তা নাকি কাইলিরই প্রসাধনী ব্র্যান্ডের দৌলতে।

প্রচারের জন্য বরাবর নেটমাধ্যম ব্যবহার করে এসেছেন কাইলি। তার অনুগামীরা বলেন, কাইলি ভক্তদের আলোচনা করার বিষয় জুগিয়ে এসেছেন বরাবর। এটাই নাকি তাঁর নেট মাধ্যম জনপ্রিয়তার মূল কারণ।

সঙ্গী নির্বাচন থেকে শুরু করে সন্তানের জন্ম, সব কিছুতেই নাটকীয়তা তৈরি করতে পেরেছেন কাইলি। মা হওয়ার আগে হঠাৎই উধাও হয়ে গিয়ছিলেন নেটমাধ্যম থেকে। কারণ খুঁজতে যখন মাথা খুঁড়ছেন ভক্তরা, তখনই এল খবর। কাইলি নিজেই জানালেন তিনি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

সুখবরের সঙ্গে ভক্তদের জন্য একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন কাইলি। যেখানে তাঁর সন্তানধারণের ৯ মাসের সফরের বিভিন্ন মুহূর্ত বন্দি করা হয়েছে। ভিডিয়োটি শুধু ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি লাইক পেয়েছিল।

এর কিছু দিন পর নিজের সন্তানের প্রথম ছবি প্রকাশ করেছিলেন কাইলি। ২০১৮ সালে নেটাগরিকদের সবচেয়ে পছন্দসই ছবির তালিকার শীর্ষে ছিল সেই ছবি। এমনকি কাইলির মেয়ের নাম কি রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনাও ট্রেন্ডিং লিস্টের মাথায় ছিল দীর্ঘদিন।

২০১৯ সালে খাতায় কলমে পরিণত হন কাইলি। আমেরিকায় এই বয়সে পৌঁছলে তবেই নিজের জন্য এক পাত্র মদ কিনতে পারেন সেখানকার নাগরিকরা। কাইলি অবশ্য ওই বয়সে তিন-তিনটি প্রসাধনী ব্র্যান্ড, একটি পোশাকের ব্র্যান্ডের মালিক। ফ্যাশন জগতের বৈগ্রাহিক ব্যক্তিত্ব। নেটমাধ্যমের অন্যতম প্রভাবশালী খ্যাতনামী। তার পাশাপাশি এক সন্তানের মা এবং একই সঙ্গে ১০০ কোটির সম্পত্তির অধিকারী। একেই বলে সাফল্য!

তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে যে নেটমাধ্যমের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন কাইলির সমালোচকেরাও। যে ভাবে নিজের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছেন কাইলি, তার জন্য নাকি কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।