Bahubali movie: ‘বাহুবলী’ তো দেখেছেন! বল্লালদেব-দেবসেনাদের এই ভুলগুলো নজরে পড়েছে কি?
সিনেমা বানানোর সময় অনেক ছোটখাটো জিনিস নজরে রাখতে হয়। শ্যুটিংয়ের সময় কোনও ভুল-ভ্রান্তি থেকে গেলে তা অন্তিম পর্বে ‘এডিটিং’-এর সময় ঠিক করা হয়।
২০১৫ সালে ‘বাহুবলী’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। দক্ষিণ ভারতে মুক্তি পাওয়া সত্ত্বেও এই ছবির বিপুল জনপ্রিয়তার দিকে লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় এই ছবিটি ‘ডাব’ করা হয়।
প্রভাস, রানা দগ্গুবতী, অনুষ্কা শেট্টি, তামান্না-সহ সকলেই দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মুখ হলেও ‘বাহুবলী’ ছবিটি তাঁদের প্রত্যেকের জীবনে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। এই ছবিটি এখনও পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৬৫০ কোটি টাকা উপার্জন করেছে।
এই ছবির বেশির ভাগ দৃশ্য হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে আলাদা ফিল্ম সেট তৈরি করে শ্যুট করা হয়েছিল। বহু দিন ধরে ‘বাহুবলী’র শ্যুটিং চলেছিল। একটি দৃশ্য নিখুঁত করতে ‘লাইট! ক্যামেরা! অ্যাকশন’-এর মুখোমুখি হতে হয়েছে অনেক বার। তাতেই দেখা দিয়েছে অসংগতি।
ছবির শুরুতেই জলপ্রপাতের প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শকের নজর কাড়ে। এমনকি, বাহুবলীও বার বার এই ঝরনার ওপারেই যেতে চায়। সে যখন লাফ দিয়ে উপরে পৌঁছয়, তখন তার মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল না।
কিন্তু উপরে ওঠার পর যখন অবন্তিকা ও বাহুবলী মুখোমুখি আসে, তখন হঠাৎ করেই অভিনেতার মুখ একটি কাপড়ে ঢাকা থাকতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন:
একটি গানের দৃশ্যে দেখা যায়, অবন্তিকার পোশাকের উপরাংশ অনেকটা ‘টিউব টপ’-এর মতো। পিছনে কোনও ‘নট’ বাঁধা ছিল না।
ক্যামেরার দিক পরিবর্তন হতেই দেখা যায়, মুহূর্তের মধ্যে ওই টপের পিছনে বেগুনি ফিতে দিয়ে নটের মতো বাঁধা রয়েছে।
এমনকি, বাহুবলী যখন ঝরনার দিকে দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তার পায়ে কোনও জুতো বা চটি ছিল না।
ঝরনার উপরে পৌঁছনোর পর তার পায়ের দিকে তাকালে নজরে পড়ে, বাহুবলীর পায়ে একটি চটি। খালি পায়ে যিনি দৌড়চ্ছিলেন, তাঁর পায়ে পরক্ষণেই কী করে চটি চলে আসে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুন:
‘বাহুবলী’ ছবিতে এমনও কিছু ঘটনা দেখানো হয়েছে, যা মোটেই বাস্তবসম্মত নয়। বাহুবলীর আসল পরিচয় জানার পর দেবসেনার হাতের উপর বাহুবলী হাত রাখে। অভিনেত্রীর হাতের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, তাঁর হাতে কোনও ক্ষত নেই।
ঠিক তার পরেই যে ‘ক্লোজ শট’ নেওয়া হয়েছে, সেখানে বাহুবলীর হাত দেবসেনার হাতের উপর। তখন অভিনেত্রীর হাতে বড় ক্ষতের দাগ লক্ষ করা যায়।
এই ছবির অধিকাংশ সময় দেবসেনা তথা অনুষ্কাকে রাজপ্রাসাদের প্রাঙ্গণে গাছের বড় ডালের অংশ কুড়োতে দেখা যায়। সে নাকি এই টুকরোগুলি দিয়ে মহিষ্মাতীর রাজা বল্লালদেবের শবশয্যা প্রস্তুত করছে।
তবে অবাক কাণ্ড এই যে, রাজপ্রাঙ্গণে কোনও বিশালাকার গাছ ছিল না। তা হলে, গাছের ডালগুলি প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে থাকার কারণটাই বা কী?
‘বাহুবলী’ সিনেমায় যে বিরাট বড় স্বর্ণমূর্তি দেখানো হয়েছিল, তার কথা মনে পড়ে? প্রজাদের অনেকেই দড়ি দিয়ে টেনে মূর্তিটিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তারা এই চেষ্টায় ব্যর্থ হয়। শেষে বাহুবলী এসে সকলের সঙ্গে হাত মেলায়।
স্থাপনের আগে মূর্তিটির নীচে একটি লাল রঙের কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কিন্তু পরে আবার যখন মূর্তির নীচের অংশ ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ে, তখন সেই কাপড়টি অদ্ভুতভাবেই অদৃশ্য হয়ে যায়।
এই ছবির একটি দৃশ্যে দেখা যায়, বাহুবলী জলের তলায় অবন্তিকার হাতে রঙিন উল্কি আঁকছে। কিন্তু বাস্তবে জলের তলায় কি রঙের ব্যবহার করে আঁকা যায়?
বাহুবলী ও অবন্তিকা দু’জনকেই একটি নাচের দৃশ্যে অভিনয় করতে দেখা যায়। গল্প অনুযায়ী, তাঁদের দু’জনের হাতে একই ধরনের উল্কি রয়েছে, তবে তার নকশা অসম্পূর্ণ। এক মাত্র দুই হাত জোড়া করলেই নকশাটি সম্পূর্ণ হবে।
এই দৃশ্যেও দেখা যায়, বাহুবলীর হাতে এক সময় উল্কিটি রয়েছে, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই সেটি অভিনেতার হাত থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়।
এমন বহু দৃশ্য রয়েছে, যেখানে ক্যামেরার দিক পরিবর্তন হওয়ার ফলে অভিনেতাদের অঙ্গভঙ্গি থেকে শুরু করে সেটের চার দিকে রাখা জিনিসে স্থানগত পরিবর্তন নজরে পড়ে।
কখনও বাহুবলীর হাতে অস্ত্র না থাকলেও পরের দৃশ্যে দেখা যায়, অভিনেতার হাতে একটি হাতিয়ার ধরা। কোনও দৃশ্যে অভিনেতার পিছনে একটি রথ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, কিন্তু পরের দৃশ্যে রথটি আর নজরে পড়ে না। এমন প্রচুর ভুল থাকা সত্ত্বেও দর্শকেরা সেগুলি এড়িয়েই গিয়েছেন। আজও ‘বাহুবলী’ সকলের প্রিয় সিনেমাগুলির মধ্যে একটি।