Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৩ জুলাই ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

চিত্র সংবাদ

Model-actress Manjusha Neogi death: বন্ধু বিদিশার মৃত্যু? নাকি অন্য টানাপড়েন? অভিনেত্রী মঞ্জুষার মৃত্যুতে বাড়ছে রহস্য

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২৭ মে ২০২২ ১০:৪৮
উচ্চাকাঙ্ক্ষাই কি কেড়ে নিল টেলি অভিনেত্রী মঞ্জুষা নিয়োগীর জীবন? টলিপাড়ায় ১৫ দিনের মধ্যে তৃতীয় অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এই প্রশ্নই উঠছে। গত ১৫ মে অভিনেত্রী পল্লবী দে-র মৃত্যুর পর, বুধবার রাতে মডেল-অভিনেত্রী বিদিশা দে মজুমদারের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গিয়েছিল তাঁর নাগেরবাজারের ফ্ল্যাট থেকে। এ বার পাটুলি থেকে অভিনেত্রী মঞ্জুষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি তিনটি ঘটনার নেপথ্যে একই কারণ কাজ করছে? যদি তা হয়, তবে কী সেই কারণ? কেরিয়ারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ব্যর্থতা নাকি সম্পর্কের টানাপড়েন?

মঞ্জুষা নিয়মিত থিয়েটারে অভিনয় করতেন। মডেলিং করতেন। টিভি চ্যানেলে ধারাবাহিকেও অভিনয় করতেন। তবে টলি পাড়ায় বহু দিন কাজ করলেও তথাকথিত ‘সাফল্য’ বলতে সাধারণ ভাবে যা বোঝায়, তা তিনি পাননি। মূল ধারার অভিনয়ে মূল চরিত্রে শিকে ছেঁড়েনি তাঁর।
Advertisement
মাস ছ’য়েক আগেই এক পেশাদার চিত্রগ্রাহককে বিয়ে করেছিলেন। ফেসবুকে তাঁর ‘সিঙ্গল স্ট্যাটাস’ বদলে ‘বিবাহিত’ করেছিলেন তিনি। মঞ্জুষার মা জানিয়েছেন, স্বামী খুবই ভালবাসতেন মঞ্জুষাকে। তবে সম্ভবত তাঁর সঙ্গে ইদানীং বনিবনা হচ্ছিল না মঞ্জুষার।

মায়ের কথায় স্পষ্ট, মঞ্জুষার স্বামী তাঁকে কাজের জায়গায় পৌঁছে দিতে চাইলেও বিষয়টি পছন্দ করতেন না মঞ্জুষা। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে বেশ ক’য়েক বার কথা কাটাকাটিও হয়েছে তাঁর। জোর করলে রেগে গিয়ে মাকে বলেছেন, ‘তুমি তোমার জামাইকে নিয়েই থাকো।’
Advertisement
ছ’মাসের সম্পর্ক। এর মধ্যেই বীতরাগ! মঞ্জুষার মায়ের দাবি, এই প্রথম নয়। তার আগেও সম্পর্কের টানাপড়েনের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী। বিয়ের আগে একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর। সেই সম্পর্কেও বেশি দিন থাকতে পারেননি মঞ্জুষা।

মঞ্জুষার প্রাক্তন প্রেমিকের বাড়ি ছিল সল্টলেকে। তবে সেই প্রেমিক তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচার চালাতেন বলে অভিযোগ করেছেন মঞ্জুষার মা। বলেছেন, ‘‘ওকে প্রায়শই মারধর করত।’’ মঞ্জুষার পরিবার জানিয়েছে, তখনও এক বার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এই প্রবণতাও তাঁর নতুন নয়।

অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসেন মঞ্জুষা। তারপরই প্রেমে পড়েন বর্তমান স্বামীর। এবং বিয়ে। তবে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বয়সের ফারাক ছিল অনেকটাই।

কেরিয়ার নিয়ে বরাবরই উচ্চাকাঙ্ক্ষী মঞ্জুষা। মাঝে মধ্যেই এ নিয়ে বাড়িতে হতাশার কথাও জানাতেন। তবে একই সঙ্গে ক্রমাগত চেষ্টাও চলত উপরে ওঠার। টলি পাড়ায় যোগাযোগ বাড়াতে জনসংযোগ করতেন। মঞ্জুষার মা জানিয়েছেন, প্রায়শই বড় বড় হোটেলে খেতে যেতেন অভিনেত্রী।

পরিবারসূত্রে খবর, কখনও বাড়িতে বন্ধুদের ডেকে আনতেন না মঞ্জুষা। দেখাসাক্ষাৎ যা করার বাইরেই করতেন। তবে মৃত মডেল অভিনেত্রী বিদিশার সঙ্গে খুবই বন্ধুত্ব ছিল তাঁর। পল্লবীর সঙ্গেও পরিচয় ছিল। বিদিশার সঙ্গে বহু কাজ করেছেন অভিনেত্রী।

বিদিশার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন মঞ্জুষা। পল্লবীর কথাও তাঁকে বার বার বলতে শুনেছে পরিবার। দু’জনেরই মৃত্যুতে মেয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন মা।

আড়াই মাস আগেও অশান্তির পর এক বার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বলেছেন মঞ্জুষার মা। তিনি বলেন, ‘‘সে সময় ওকে জামাই বাঁচিয়েছিল।’’

পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন মঞ্জুষা। তবে ছোট থেকেই অভিনয় জগতের প্রতি আকর্ষণ ছিল। স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর পরই মডেলিং শুরু করেছিলেন মঞ্জুষা। সুযোগও আসছিল একের পর এক।

কিন্তু ইদানীং কাজ কমে আসছিল তাঁর। তাই নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। বাড়িতে বেশ কয়েক বার জানিয়েওছিলেন চিন্তার কথা।

বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরে। এক ভাই আছে মঞ্জুষার। চার জনের সচ্ছল পরিবার। মঞ্জুষার মা তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, কাজ নিয়ে অযথা চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

এমনকি, মঞ্জুষার বাবা  মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ জমিয়ে রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রীর মা। মঞ্জুষা সে ব্যাপারে জানতেনও।

বৃহস্পতিবারও শ্যুটিংয়ের কাজে বাঘাযতীন গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তার পর কী এমন হল যে তাঁর মৃত্যু হল? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে পুলিশ। হতাশা, সম্পর্কের টানাপড়েন ছাড়াও নেপথ্যে কি রয়েছে তৃতীয় কোনও ব্যক্তি?

বা়ড়ির লোকের অবশ্য দাবি, মঞ্জুষা আত্মহত্যাই করেছেন।  কেরিয়ারে অল্প সময়ে উঁচুতে ওঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই এমন কাজ করেছেন তিনি। তাঁর মাকে একটি সাক্ষাৎকারে বলতে শোনা গিয়েছে, লোভই কাল হল মেয়ের। মেয়ের প্রচণ্ড মাথা গরম ছিল। অল্প কথায় মেজাজ হারাত। হঠকারিতার বশেই সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।