ব্রাজ়িলীয় বংশোদ্ভূত, কাজ করেছেন আমির খানের সঙ্গে! ‘লাইক’-কাণ্ডে ফের আলোচনায় বিরাটের প্রাক্তন প্রেমিকা ইজ়াবেল
লিৎজ়লাৎজ়ের ছবিতে বিরাটের ‘লাইক’ নিয়ে আলোচনা তো চলছিলই। তার মধ্যে বিতর্ক মাথাচাড়া দেয় একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা, ইজ়াবেল, লিৎজ়লাৎজ় এবং অভিনেত্রী অবনীত কৌরকে নিয়ে পোস্ট করা একটি ছবিকে ঘিরে।
জার্মান নেটপ্রভাবী লিৎজ়লাৎজ়ের ছবিতে ‘লাইক’ করে ফের আলোচনায় বিরাট কোহলি। তবে এ বার আলোচনার থেকে সমলোচনা এবং বিতর্কই বেশি। নিন্দকেরা খোঁচা দিয়ে বলছেন, ‘‘এ বারও কি অ্যালগরিদমের ত্রুটির কারণেই ‘লাইক’ পড়ে গিয়েছে?’’ আর এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন বিরাটের প্রাক্তন প্রেমিকা ইজ়াবেল লাইট।
লিৎজ়লাৎজ়ের ছবিতে বিরাটের ‘লাইক’ নিয়ে আলোচনা তো চলছিলই। তার মধ্যেই বিতর্ক শুরু হয় একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা, ইজ়াবেল, লিৎজ়লাৎজ় এবং অভিনেত্রী অবনীত কৌরকে নিয়ে পোস্ট করা একটি ছবিকে ঘিরে।
এঁদের মধ্যে অনুষ্কা বিরাটের স্ত্রী। বাকিদের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে নাম জড়িয়েছে ভারতীয় তারকা ব্যাটারের। ছবিতে বিরাট-পত্নী অর্থাৎ অনুষ্কার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে লিৎজ়লাৎজ়ের ছবি। অবনীত কৌরের ছবিতে ‘লাইক’ করেও আলোচনায় উঠে এসেছিলেন ক্রিকেটতারকা। তাই রয়েছে অবনীতের ছবিও। সেই সঙ্গে প্রাক্তন প্রেমিকা হিসাবে ইজ়াবেলের ছবিও রয়েছে সেখানে।
ওই ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘‘বিরাট কোহলির একটা ব্যাপার হল— মাঠের ভিতরে বা বাইরে, তিনি কোনও সুযোগই হাতছাড়া করেন না। ইজ়াবেল লাইট থেকে অনুষ্কা শর্মা— তাঁর রুচির কথা মানতেই হবে।’’
আর ওই পোস্টে গিয়েই কড়া জবাব দেন ইজ়াবেল। প্রশ্ন তোলেন, কেন বিরাটের নামের সঙ্গে আজও তাঁর নাম জুড়ে দেওয়া হয়? তিনি লেখেন, “১২ বছর হয়ে গিয়েছে। আপনারা কেন এখনও বেরোতে পারছেন না?”
আরও পড়ুন:
ইজ়াবেলের ওই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন নেটাগরিকদের অনেকেই। পাশাপাশি নেটমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নতুন করে কৌতূহল ছড়িয়েছে। ইজ়াবেল কে, তা জানতে মুখিয়ে উঠেছে নেটপাড়া।
২০১৪ সালে ইজ়াবেল নিশ্চিত করেছিলেন যে, তিনি এবং বিরাট প্রায় দু’বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। তিনি তাঁর ‘পুরানি জিন্স’ ছবির প্রচারের সময় সেই সম্পর্কটি নিয়ে কথা বলেন।
ইজ়াবেল এক জন ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত মডেল তথা অভিনেত্রী। ব্রাজিলের হোয়াও পেসোয়ায় জন্ম তাঁর। ২০১০-এর দশকের শুরুতে আন্তর্জাতিক মডেলিং থেকে ভারতীয় বিনোদন জগতে প্রবেশ করেন ইজ়াবেল।
বলিউডে পা দিয়েই সকলের নজর কেড়েছিলেন অভিনেত্রী। সতেজ উপস্থিতি এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক আবেদনের জন্য মনোযোগ আকর্ষণ করতে শুরু করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
২০১৩ সালে ‘সিক্সটিন’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ইজ়াবেল। বলিউডের তারকা অভিনেতা আমির খানের সঙ্গে ‘তলাশ’-এর মতো ছবিতে কাজ করেন। তাঁর অভিনীত ‘পুরানি জিন্স’ ছবিটিও সে সময় সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
পরবর্তী কালে তেলুগু ছবি ‘ওয়ার্ল্ড ফেমাস লভার’-এ অভিনয় করে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের পরিচিতি আরও বাড়িয়ে তোলেন ইজ়াবেল। কিন্তু কী ভাবে এবং কখন বিরাটের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তাঁর?
জানা যায়, সিঙ্গাপুরে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় ইজ়াবেল এবং বিরাটের সাক্ষাৎ হয়। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে দু’জনের মধ্যে। যে হেতু ইজ়াবেল ভারতে নতুন ছিলেন এবং কোহলি ছিলেন এই দেশে তাঁর প্রথম দিকের পরিচিতদের মধ্যে একজন, তাই দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক গাঢ় হয়। শীঘ্রই বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমে।
তবে প্রথম থেকেই প্রচারের আড়ালে ছিল বিরাট-ইজ়াবেলের সম্পর্ক। কেউই সম্পর্কে থাকাকালীন বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি। একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে ইজ়াবেল জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা দুজনেই গোপনীয়তার উপর জোর দিয়ে এবং পরস্পরের সম্মানের কথা ভেবে বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কোহলি নিজেও কখনও সংবাদমাধ্যমে এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি।
ইজ়াবেলের সঙ্গে কোহলির সম্পর্কের কেন ইতি হয়, তা অজানা। সম্পর্কটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাবে শেষ করার পর অনুষ্কার সঙ্গে একটি বহুল আলোচিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বিরাট। ২০১৭ সালে বিয়ে করেন জুটি। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। তাঁদের দাম্পত্য এবং পারিবারিক জীবন প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে।
অন্য দিকে, ইজ়াবেল প্রচারের আলো থেকে সরে এসেছেন। বর্তমানে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কাতারের দোহায় বসবাস করছেন তিনি। খ্যাতির চেয়ে ব্যক্তিগত জীবনে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
নিরালা জীবনযাপন করা ইজ়াবেল ইনস্টাগ্রামে সক্রিয়। মাতৃত্ব, পারিবারিক মুহূর্ত ও মাঝেমাঝে মডেলিংয়ের কাজের ঝলক সেখানে শেয়ার করেন তিনি। জার্মান নেটপ্রভাবীর ছবিতে কোহলির ‘লাইক’ নিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি।
এই আবহে বিরাট এবং ইজ়াবেলের পুরোনো কিছু ছবিও আবার ভাইরাল হয়েছে। ছবিগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। অনেকেই সমাজমাধ্যমে কোহলির প্রশংসা করেছেন। আবার অনেকে অতীতের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে নিজের স্বাধীনতা এবং পরিচয় তুলে ধরার জন্য ইজ়াবেলকে সমর্থন করেছেন।