Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২১ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

চিত্র সংবাদ

Archana Gautam: ‘মিস বিকিনি বডি’ কংগ্রেস প্রার্থী, বিজেপি-র প্রচারাস্ত্রে হস্তিনাপুর যেন কুরুক্ষেত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৪৬
নির্বাচন কেন্দ্রের নাম হস্তিনাপুর। সেখানে মহাভারত হওয়া বোধ হয় ভবিতব্যই ছিল। কংগ্রেস উপযুক্ত প্রার্থী দিয়ে সেই সম্ভাবনা আর একটু বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।

যাঁকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে তিনি কংগ্রেস প্রার্থী অর্চনা গৌতম। প্রার্থী হিসেবে অর্চনার নাম ঘোষণা হতেই কংগ্রেসের সমালোচনা শুরু করেছেন বিরোধীরা। প্রার্থীকে নিয়ে কংগ্রেসের পোস্টার তো আছেই। তার সঙ্গে নাকি বিরোধীরাও পোস্টার ফেলছেন অর্চনার ছবি দিয়ে।
Advertisement
তবে ‘দ্বিগুণ প্রচারে’ নাকি খুব একটা খুশি হতে পারছেন না অর্চনা। বরং কিছুটা ভয় পেয়েই তিনি সম্প্রতি কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন। সেই সাক্ষাতে কাজ হয়েছে।

অর্চনা জানিয়েছেন, প্রিয়ঙ্কার দৌলতে এখন তাঁর ভয়ডর সব উবে গিয়েছে। সাহস বেড়েছে। যাঁরা তাঁকে নিয়ে, তাঁর ছবি নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করছিলেন তাঁদের থেকে এখন আর পালিয়ে বেড়াচ্ছেন না তিনি।
Advertisement
অর্চনার বয়স ২৬। খুব অল্পবয়সেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে বিতর্ক তাঁর বয়স নিয়ে নয়। রাজনীতিতে আসার আগে রুপোলি জগতে ছিলেন অর্চনা। বিতর্কের সূত্রপাত সেখান থেকেই।

অর্চনা একজন মডেল। অভিনেত্রীও। বছর কয়েক আগে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় ‘মিস বিকিনি বডি’-র শিরোপা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তাঁর স্নানপোশাক এবং বিকিনিশোভিত প্রচুর ছবিও রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকে।

সেই সব ছবি দিয়েই হস্তিনাপুরে পোস্টার ফেলেছেন অর্চনার নিন্দকেরা। অর্চনাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার জন্য কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সস্তা প্রচারের অভিযোগও এনেছে বিরোধী দলগুলি।

অর্চনা জানিয়েছেন, রাস্তায় বার হলেই ওই ধরনের পোস্টার এবং তাঁকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য শুনতে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর পুরনো কিছু স্বল্পবাসের ছবি নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে কুমন্তব্য করছেন নেটাগরিকরা। এই সব দেখে ভয় পেয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

অর্চনা কিন্তু আর পাঁচ জন সাধারণ সংস্কৃতিবান মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। বিনোদনের প্রয়োজনে তাঁকে নানাধরনের পোশাক পরতে হলেও সেটা তাঁর পেশার জগৎ। অর্চনার কথায়, ‘‘আমার দুটো জীবন, একটা সামাজিক আর অন্যটা পেশাগত। দুটোকে আমি যখন মেলাই না বাকিদের এ নিয়ে মাথা ব্যথা কেন?’’

১৯৯৫ সালে মেরঠে জন্ম অর্চনার। বাবার নাম গৌতম। মা সুনীতা গৌতম। অর্চনার পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা সবই মেরঠে। মেরঠের আইআইএমটি থেকে সাংবাদিকতা নিয়ে স্নাতক সম্পূর্ণ করেছিলেন অর্চনা। তবে বরাবরই বিনোদনের জগতে আগ্রহ ছিল তাঁর।

মেরঠে থাকাকালীনই ‘মিস উত্তরপ্রদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন অর্চনা। তখন তাঁর বয়স ১৯ বছর। ২০১৪ সালে ওই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন তিনি। তার পরই ঠিক করেন মডেলিংকে পেশা হিসেবে নেবেন।

২০১৫ সালে বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পান অর্চনা। তত দিনে টিভি এবং পত্রিকায় কিছু মডেলিং করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে বড় ব্যানারের সিনেমায় অভিনয়েরও সুযোগ আসে। ‘গ্রেট গ্র্যান্ড মস্তি’ ছবিতে তারকা অভিনেতাদের সঙ্গে খুব ছোট ভূমিকায় কাজ করার সুযোগ আসে। এর পর ‘হাসিনা পার্কার’, অনিতা ভরদ্বাজ পরিচালিত ‘ভারত কোম্পানি’ ছবিতেও কাজ করেন অর্চনা। তবে কখনওই মূল চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাননি।

বলিউডের সিনেমার পাশাপাশি বেশ কিছু মিউজিক ভিডিয়ো, এমনকি তেলুগু ছবিতেও অভিনয় করেছেন অর্চনা। ২০১৮ সালে বেশ কয়েকটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার খেতাবও জেতেন। ওই বছরই ‘মিস কসমস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরে হঠাৎই ২০২১ সালে কংগ্রেসে যোগদান করেন অর্চনা।

২০২২ সালে উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করবে তা ভাবেননি অর্চনা। হস্তিনাপুরের বিধায়ক, বিজেপি নেতা দীনেশ খাটিকের বিরুদ্ধে লড়তে হবে তা-ও জানতেন না।

অর্চনা জানিয়েছেন, ছোট থেকেই পারিপার্শ্বিক ঘটনা নিয়ে নিজস্ব মতামত ছিল তাঁর। রাজনীতিতে কে কী করছে সে ব্যাপারেও বরাবর ওয়াকিবহাল ছিলেন। মডেলিং না করলে হয়তো সাংবাদিক হতেন। তবে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা পান কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কার থেকেই।

মেরঠে প্রিয়ঙ্কার একটি বক্তৃতা টিভিতে শুনেছিলেন তিনি। প্রিয়ঙ্কা বলেছিলেন, ‘ম্যায় লড়কি হুঁ, লড় সকতি হুঁ।’ উত্তরপ্রদেশে মেয়েদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধ প্রসঙ্গেই ওই স্লোগান দিয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা। ডাক দিয়েছিলেন মেয়েদের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জন্য। তাতেই উদ্বুদ্ধ হন অর্চনা। যোগাযোগ করেন কংগ্রেসের সঙ্গে।

কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়ার পর তাঁর পেশা, পোশাক আশাক নিয়ে যখন অনধিকার চর্চা হচ্ছে, তখন প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ। অর্চনা বলেন, ‘‘প্রিয়ঙ্কা দিদির কাছে আমি আমার খারাপ লাগার কথা বলায় উনি বলেছিলেন, ‘দেখ অর্চনা তুমি যদি রাজনীতিতে সত্যিই আসতে চাও তবে অর্ধেক মন নিয়ে এসো না। রাজনীতিতে অনেকে অনেক কথা বলবে। সে সব সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে। আর দেশের কাজও করতে হবে’।’’

অর্চনা বলেছেন, ‘‘তারপর থেকে আমি আর সমালোচনা নিয়ে ভাবছি না। আমার সাহসও অনেকটাই বেড়েছে। সমালোচকদের পাত্তা না দিয়ে হস্তিনাপুরের বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করছি এখন।’’

তরুণ কংগ্রেস প্রার্থীর কথায়, মহাকাব্যে বলা হয়েছে হস্তিনাপুরে অপমানিত হয়েছিলেন দ্রৌপদী। তাঁর অভিশাপেই হস্তিনাপুর কখনও উন্নত হতে পারেনি। কিন্তু তিনি এই হস্তিনাপুরের অন্য দ্রৌপদী হবেন। এখানে তাঁকে নিয়ে ‘মহাভারত’ হতে পারে। তবু তাঁর হাত ধরেই উন্নতির শিখরে পৌঁছবে এই হস্তিনাপুর, দাবি অর্চনার।