Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

চিত্র সংবাদ

সাইনার মতোই, প্রাক্তন প্রেমিকাকেও অপমান করেছিলেন সিদ্ধার্থ, তবু সরে যাননি সামান্থা

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১৪ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:০৩
‘রং দে বসন্তী’র করণ সিঙ্ঘানিয়াকে মনে আছে? ছোট খাট চেহারার এক কলেজ পড়ুয়া। সিনেমায় সোহা আলি খানের প্রেমিক। আর সিনেমার ভিতরের সিনেমায় ভগৎ সিংহের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন যে দক্ষিণী অভিনেতা?

নাম সিদ্ধার্থ সূর্যনারায়ণ। যদিও সিনেমাপ্রেমীরা তাঁকে শুধু প্রথম নামটিতেই চেনেন। দক্ষিণী ছবির পাশাপাশি বেশ কিছু বলিউডের ছবিতেও অভিনয় করেছেন। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের জন্যও পরিচিত সিদ্ধার্থ। প্রায়ই তাঁকে শাসকদল বিজেপিবিরোধী ঠোঁটকাটা মন্তব্য করতে দেখা যায়।
Advertisement
সম্প্রতি তেমনই একটা মন্তব্য করতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন সিদ্ধার্থ। মোদীকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি কটাক্ষ করেছেন দেশের ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন সাইনা নেহাওয়ালকে। সাইনার একটি টুইটে ইঙ্গিতবহ মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণী অভিনেতা । যাকে অশ্লীল, কুরুচিকর এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আখ্যা দিয়ে রে রে করে উঠেছেন দেশের নারীবাদী এবং নেট ব্যবহারকারীরা।

পঞ্জাবে মোদীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে নেট মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সাইনা। লিখেছিলেন, বিষয়টির তীব্র নিন্দা করছেন তিনি। মোদীর উপর এই আক্রমণের ঘটনা কাপুরুষোচিত। সাইনার সেই টুইটটিকেই কটাক্ষ করে সিদ্ধার্থ লেখেন,  ‘‘ইনি বিশ্বের শাটল কক চ্যাম্পিয়ন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে ভারতের রক্ষক আছে।’’ এরপর ওই টুইটেই হ্যাশট্যাগে রিহানার নাম উল্লেখ করে সিদ্ধার্থ লেখেন, ‘‘আপনারও লজ্জা হওয়া দরকার রিহানা।’’
Advertisement
কৃষক আন্দোলন নিয়ে আমেরিকার পপ তারকা রিহানা মোদীর সরকারের সমালোচনা করেন এবং ভারতের কৃষকদের সমর্থনে টুইট করেছিলেন। সম্প্রতি পঞ্জাবে মোদীর কনভয় থমকে যাওয়ার ঘটনাটিও ঘটে কৃষক বিক্ষোভের জেরেই। তা নিয়েই সাইনাকে কটাক্ষ করেছিলেন সিদ্ধার্থ।

কিন্তু তা করতে গিয়ে তিনি শাটল কক শব্দটির একটি বিশেষ বানান ব্যবহার করেন। যা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বলে দাবি করেছেন নারীবাদীরা।

বিষয়টি নিয়ে মহিলা কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতে মামলাও হয় সিদ্ধার্থের বিরুদ্ধে। সাইনার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন  সিদ্ধার্থ। এমনকি নিজেকে নারী স্বাধীনতাপন্থী বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে তারপরও নারীবাদীদের ক্ষোভ কমেনি। বিপন্ন অভিনেতাকে সহানুভূতি জানাতে এগিয়ে আসেননি কেউ। বরং তাঁকে দোষী প্রমাণ করতে নতুন করে উঠে পড়ে লেগেছেন অনেকে। নেটাগরিকরা খুঁজে বের করেছেন,মহিলাদের লক্ষ্য করে অতীতে সিদ্ধার্থের করা বেশ কিছু বিরূপ মন্তব্য। যা প্রমাণ করে সিদ্ধার্থ আজ নয়, বরাবরই নারী বিদ্বেষী ছিলেন।

এমনই বেশ কিছু বিরূপ মন্তব্য নিজের প্রাক্তন প্রেমিকা দক্ষিণী অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুকে লক্ষ্য করেও করেছিলেন সিদ্ধার্থ। পুরনো টুইট ঘেঁটে সেই সব টুইট বের করে এনেছেন নেটাগরিকরা।

এর মধ্যে কোথাও সামান্থাকে প্রকাশ্যে প্রতারক বলে ইঙ্গিত করেছেন সিদ্ধার্থ। এমনকি সামান্থার প্রাক্তন প্রেমিককে একটি টুইটে কুকুরও বলেছিলেন সিদ্ধার্থ।

সে সময়ে সিদ্ধার্থকে ছেড়ে দক্ষিণী অভিনেতা নাগা চৈতন্যের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সামান্থা। টুইটারে সামান্থা নতুন সম্পর্কের ঘোষণা করার পরই তাঁদের ইঙ্গিত করে একটি টুইট করেন সিদ্ধার্থ। তাতে লেখা ছিল, ‘‘নাগুরের বিরিয়ানি (সামান্থা)-র কপালে যদি উলুন্দুরপেট্টাইয়ের রাস্তার কুকুরের (নাগা চৈতন্য) পেটে যাওয়াই ভবিতব্য হয়ে থাকে, তবে তা কেউ আটকাতে পারবে না।’’

পরে সামান্থা আর নাগা চৈতন্যের যখন বিচ্ছেদ হয়, তখনও একটি টুইট করেন সিদ্ধার্থ। লেখেন, ‘‘ছোট বেলায় আমার শিক্ষক শিখিয়েছিলেন, প্রতারকেদের সঙ্গে ভাল কিছু হতে পারে না। কথাটা খুব সত্যি’’।

প্রতারক বলতে সামান্থার কথাই বলতে চেয়েছেন কি না তা প্রশ্ন করা হয়েছিল সিদ্ধার্থকে। তিনি অবশ্য স্বীকার করেননি। কিন্তু সিদ্ধার্থ-সামান্থার ঘনিষ্ঠরা বলেছিলেন, বরাবরই সামান্থার সঙ্গে তাঁর পুরুষ সহকর্মীদের বন্ধুত্ব নিয়ে রক্ষণশীল ছিলেন সিদ্ধার্থ। সিদ্ধার্থের সঙ্গে বিচ্ছেদের কিছুদিনের মধ্যেই সামান্থার নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া ভাল ভাবে নেননি সিদ্ধার্থ।

প্রসঙ্গত এর আগে শর্মিলা ঠাকুরের কন্যা সোহা এবং কমল হাসনের কন্যা শ্রুতি হাসনের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সিদ্ধার্থ। সামান্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীনও এক দক্ষিণী অভিনেত্রীর সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। অনেকেই ভেবেছিলেন, ওই অভিনেত্রীই সিদ্ধার্থ-সামান্থার বিচ্ছেদের কারণ।

যদিও দু’জনের কেউ এ ব্যাপারে কখনও মুখ খোলেননি। সিদ্ধার্থ বারবার সামান্থাকে আক্রমণ করলেও অভিনেত্রী কখনও পাল্টা জবাব দেননি।

বরং সিদ্ধার্থ এবং সামান্থার আড়াই বছরের সম্পর্কে ইতি পড়ার পর যখন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সিদ্ধার্থের সমালোচনা হচ্ছিল তখন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সামান্থাই। বলেছিলেন, বিষয়টিকে এমন ভাবে দেখানো হচ্ছে যেন আমি একটি খারাপ ঘটনার শিকার। আদতে তা নয়।

সিদ্ধার্থকেই সমর্থন করে সামান্থা বলেছিলেন, আমাদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ অত্যন্ত ব্যক্তিগত। এতে কারও দোষ নেই। সিদ্ধার্থ খুবই ভাল মানুষ। ওঁকে আমি শ্রদ্ধা করি।