নায়িকার সঙ্গে পরকীয়া! আড়াল না করে স্ত্রীর কাছেই ‘গোপন প্রেম’ স্বীকার করেন চার সন্তানের বাবা বলি তারকা
বিবাহিত এবং চার সন্তানের পিতার কাছে নায়িকার সঙ্গে পরকীয়া ছিল একটি ‘আবেগপূর্ণ দুর্ঘটনা’। বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে প্রেম করছেন বলে অপরাধবোধে ভুগতেন অভিনেত্রী।
বলিউডের প্রথম সারির ছবিনির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা এবং প্রযোজক। পাঁচ বছর সম্পর্কে থাকার পর বিয়ে করেছিলেন তিনি। স্ত্রী এবং চার সন্তান নিয়ে সুখের সংসার। তার পরেও সহ-অভিনেত্রীর প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করেছিলেন সেলিম আব্দুল রশিদ খান।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, সুশীলা চরক নামে এক তরুণীর সঙ্গে পাঁচ বছর সম্পর্কে ছিলেন সেলিম। বলিপাড়ায় কেরিয়ার গড়ার জন্য পরিশ্রম করছিলেন তিনি। সেলিমের তখন ২৪ বছর বয়স। একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন সেলিম।
সেলিমের প্রতিবেশী ছিলেন সুশীলা। বলি তারকার চেয়ে সাত বছরের ছোট তিনি। রাস্তায় যাতায়াতের সময় চোখে চোখ। এ ভাবেই ১৭ বছরের সুশীলার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন সেলিম। বহু বছর প্রেম করার পর সুশীলাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি।
১৯৬৪ সালে সুশীলাকে বিয়ে করেছিলেন সেলিম। নিজের নাম পরিবর্তন করে সালমা খান রেখেছিলেন সেলিমের স্ত্রী। বিয়ের পর চার সন্তানের জন্ম দেন সালমা।
সেলিম যখন কেরিয়ারের গো়ড়ার দিকে কাজ নিয়েই ব্যস্ত, তখন সংসারের মেরুদণ্ড হয়েছিলেন সালমা। কিন্তু পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে সালমাকেই আঘাত দিয়ে ফেলেছিলেন সেলিম।
আরও পড়ুন:
১৯৬৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কাবলি খান’ ছবির সেটে বলি অভিনেত্রী হেলেনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল সেলিমের। সেই ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সেলিম। সেলিম এবং হেলেনের আলাপ পেশাগত ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল।
কানাঘুষো শোনা যায়, সত্তরের দশকে হেলেনের কেরিয়ারের লেখচিত্র নিম্নগামী হতে শুরু করে। সেই সময় সেলিমকে পাশে পেয়েছিলেন হেলেন। এমনকি, একাধিক ছবিতে হেলেনকে অভিনয়ের সুযোগও পাইয়ে দিয়েছিলেন সেলিম।
সেলিম প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হেলেন বলেছিলেন, ‘‘সেলিম কোনও স্বার্থ ছাড়াই আমায় সাহায্য করেছিল। ওর এই স্বভাব দেখেই আকৃষ্ট হয়েছিলাম।’’ কম সময়ের মধ্যেই দুই তারকার পেশাগত সম্পর্ক বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে পরিণতি পায়।
বিবাহিত এবং চার সন্তানের পিতা সেলিমের কাছে হেলেনের সঙ্গে পরকীয়া ছিল একটি ‘আবেগপূর্ণ দুর্ঘটনা’। বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে প্রেম করছেন বলে অপরাধবোধে ভুগতেন হেলেন।
আরও পড়ুন:
হেলেন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘আমি কোনও দিনও সালমার সংসার ভাঙতে চাইনি। অনেক সময় এমনও হয়েছে, আমি সেলিমের বাড়ির সামনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। পাছে সালমা আমায় দেখে ফেলে, সেই লজ্জায় আমি মুখ লুকিয়ে ফেলতাম।’’
শোনা যায়, হেলেনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গোপন রাখতে চাননি সেলিম। কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেটে হেলেনের সঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ সময় কাটাতেন তিনি। কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করে হেলেনের অনুভূতিকে অসম্মান করা হচ্ছে বলে ভেবেছিলেন সেলিম।
হেলেনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে চেয়েছিলেন সেলিম। তাই নিজে থেকেই সালমাকে ‘গোপন প্রেমের’ কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সেলিম বলেছিলেন, ‘‘সালমা আমার কথা শুনে বুঝতে চায়নি। তা খুবই স্বাভাবিক। আমাদের মধ্যে অশান্তিও হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব থিতু হয়ে যায়।’’
বলিপাড়ার গুঞ্জন, বাবার পরকীয়া সম্পর্কের কথা মেনে নিতে পারেননি সেলিমের চার সন্তান। কিন্তু হেলেনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন সেলিম। তাই সন্তানদের স্পষ্ট ভাষায় দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
পাছে হেলেনকে কেউ অসম্মান করেন, সে কারণে চার সন্তানকে ডেকে সেলিম বলেছিলেন, ‘‘আমার জীবনে নতুন এক জন আসবেন। তোমরা তাঁকে মায়ের মতো না দেখতে পারলেও কখনও অসম্মান কোরো না।’’ বাবার কথা শুনে চমকে গিয়েছিলেন তাঁর চার সন্তান— সলমন খান, সোহেল খান, আরবাজ় খান এবং আলভিরা খান।
আশির দশকে হেলেনকে বিয়ে করেন সেলিম। বিয়ের পর হেলেনের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতেন সালমা এবং তাঁর চার সন্তান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত তিক্ততা গলে জল হয়ে যায়। বর্তমানে দুই স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে একসঙ্গেই থাকেন সেলিম।