পূর্বানুবৃত্তি: দেখতে দেখতে জ্যোৎস্নাদেবীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে গেল ম্যাকবেথের মহড়া। হরিতলার মঞ্চনির্মাতা মিহিরবাবু পরের দিন এসে দেখা করে গেলেন জ্যোৎস্নাদেবীর সঙ্গে। তিনি পরোপকারী স্বভাবের এক জন প্রোমোটার। নিজের ক্ষতিস্বীকার করেও এই মঞ্চ তৈরি করিয়ে দিয়েছেন। পুরুলিয়ার একটি ডাকবাংলোয় রাখা হয়েছে ওঁদের। সবাই মিলে সেখান থেকে গেলেন বীণাপাণি অপেরার ঘরে। সেখানকার দেয়ালে টাঙানো পানসদার আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির প্রশংসা করলেন জ্যোৎস্নাদেবী। কথা হল সবাই মিলে এক সঙ্গে শান্তিনিকেতন বেড়াতে যাওয়া হবে। ঠিক হল, চা জলখাবারের দায়িত্বে থাকা ভজা, তার বৌ ও শ্যালিকা ম্যাকবেথে তিন ডাইনির ভূমিকায় অভিনয় করবে। সারাদিনের রিহার্সালের শেষে সন্ধেয় দীপ তার ঠাম্মাকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোতে চাইল। ঠাম্মার কথায় সেখানকার সবাইকে চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখল দীপ।
পানস, তোমার কি ডায়লগ বলতে গিয়ে টেল ড্রপ হয়?” জ্যোৎস্নাদেবী জানতে চাইলেন।
পানস স্বীকার করলেন, “হ্যাঁ, ম্যাডাম।”
“তা হলে তুমি মাইক্রোফোন কী ভাবে ব্যবহার করবে, আমি দেখিয়ে দেব। এই নিয়ে ভেবো না, উত্তমকুমারেরও হত। তবে তিনি তো অসম্ভব পরিশ্রম করতেন। তোমরা মতিলাল রায়ের নাম জানো তো?”
জনমেজয় বললেন, “হ্যাঁ ম্যাডাম, প্রচুর পালা রয়েছে তাঁর লেখা।”
“তাঁর সঙ্গে গিরিশবাবুর খুব সখ্য ছিল। তবে মতিলাল রায় যাত্রা কখনও ত্যাগ করেননি। গিরিশচন্দ্র রয়ে গেছেন থিয়েটারের মঞ্চে কলকাতা শহরে, আর মতিলাল রায় যাত্রায় গ্রামে গ্রামান্তরে। নবদ্বীপের বাড়ি আর কলকাতার আহিরীটোলায় তাঁর যাত্রাদলের কেন্দ্র ছিল। অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করছে তোমাদের, বলব?”
সকলেই বলল, “বলুন ম্যাডাম, ভাল লাগছে।”
“গিরিশবাবুর ‘ম্যাকবেথ’ অভিনীত হয়েছিল মিনার্ভায়। থিয়েটারের ফর্মে। আমরা করব যাত্রা, তিন দিক খোলা হরিতলার মঞ্চে। অসুবিধে হবে না। তবে গলার ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। যাত্রায় অনেক আধুনিক নাটক, সিনেমা হয়েছে। তারাশঙ্করবাবুর ‘সপ্তপদী’ও করার কথা ভাবা হয়েছিল।”
এই সময় তনুশ্রী বলল, “ম্যাডাম, একটু রিনা ব্রাউন করবেন!”
“তা হলে কৃষ্ণেন্দু কে করবে!”
জনমেজয় বললেন, “পানসদা করবেন।”
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “আমি ‘সপ্তপদী’র স্ক্রিপ্ট পড়েছি। তুমি কি বলতে পারবে? আমার কাছে লিখিত কিছু নেই।”
পানস হেসে বললেন, “কিছুটা পারব ম্যাডাম।”
সবাই চুপ করে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে লাগলেন, ম্যাডাম করছেন রিনা ব্রাউন।
তনুশ্রী বলল, “আমার কাছে গাউন, স্কার্ট আছে, পরবেন ম্যাম?”
দীপ বলল, “ঠাম্মু, দারুণ লাগবে তোমায়। বাবা কিছু বলবে না।”
দীপঙ্কর বললেন, “হ্যাঁ মা। তোমার অভিনয় তো আমি দেখিনি।”
ক্লাবের অপ্রশস্ত সাজঘরে গেলেন জ্যোৎস্নাদেবী। ফিরে এলেন রিনা ব্রাউন হয়ে।
অবিশ্বাস্য সুন্দরী লাগছে তাঁকে, কোথাও বোঝার উপায় নেই। বয়স হয়েছে ওঁর।
রিনা ব্রাউন বা জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “তুমি খ্রিস্টান হয়েছ!”
কৃষ্ণেন্দু, অর্থাৎ পানসদা বললেন, “মানে?”
“তোমার ঈশ্বর, তোমার ধর্ম তুমি ত্যাগ করেছ! আমার জন্য!”
“রিনা, তুমি জানো যে, তোমার জন্য আমি জীবন দিতে পারি।”
“জীবন নশ্বর, এক দিন তা যাবেই। তাই জীবন দেওয়া বড় কথা নয়। কিন্তু তুমি তোমার ধর্ম ত্যাগ করলে! জাস্ট ফর আ গার্ল।”
“রিনা শোনো, ইউ আর বিয়িং সিলি! ধর্ম সম্পর্কে তুমি আমার মতামত জানো।”
“তাই বলে তুমি তোমার ধর্ম ত্যাগ করবে!”
কৃষ্ণেন্দু বা পানস রিনার হাত স্পর্শ করতে চান।
রিনা বা জ্যোৎস্নাদেবী হাত সরিয়ে নিয়ে বলেন, “ডোন্ট টাচ মি!”
হাততালিতে ফেটে পড়লেন বীণাপাণি অপেরার কলাকুশলীরা। তাঁরা একযোগে বলে ওঠেন, “ম্যাডাম, আমরা ধন্য।”
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “দেখো কী সব করছি! আমার সমস্ত স্বপ্ন আজ তোমাদের কাছে সত্যি হচ্ছে।” চোখ দুটো জলে ভরে উঠল ওঁর।
তনুশ্রী বলল, “একটা ছবি নেব, ম্যাডাম!”
প্রথমে লজ্জা পেয়ে বললেন, “থাক।” তার পর বললেন, “আচ্ছা, সবাই মিলে একটা গ্রুপ ছবি।”
তা-ই হল।
রিহার্সাল, রিহার্সাল, রিহার্সাল। কোনও ক্লান্তি নেই তাঁর। বাইরে বাজছে দেবী-অর্চনার ঢাক। টানা রিহার্সালের পর দল বেঁধে হয়তো সামনে কোথাও গিয়ে প্রণাম করলেন দেবী দুর্গাকে। কলকাতার পুজোর চেয়ে গ্রামবাংলার পুজোর নিরাভরণ সৌন্দর্য বেশি মন টানে। দূরে টিলার মতো পাহাড়ের শ্রেণি। শরতের আকাশের নীলিমার তলায় ল্যাটেরাইট ভূমি। আর যাত্রার সংলাপে ফুটে ওঠে ‘ম্যাকবেথ’-এর চরিত্রদের ছবি।
এখন জনমেজয়, পানস, তনুশ্রী, দীপঙ্করদের ব্যক্তিপরিচয় মুছে গিয়ে ভাস্বর হয়ে উঠছে শেক্সপিয়রের চরিত্রগুলি।
“বিদেশি নাটক, গিরিশবাবু অনুবাদ করেছেন চমৎকার। তবুও স্বদেশচেতনার সঙ্গে একটা নৈকট্যের অভাব থাকে। এই ডাইনি তো আমাদের ঠাকুরমার ঝুলির ডাইনি নয়। ম্যাকবেথ প্ররোচিত হন নিজের আত্মার ছদ্মবেশের ডাইনিদের কাছে। বাংলা যাত্রায় একে বিশ্বাস্য করে তুলতে হবে দর্শকের কাছে,” খুব শান্ত ভাবে বললেন জ্যোৎস্নাদেবী।
ম্যাকবেথ বলছেন, “মিশাইল অনলে/ স্থূলকায়া শ্বাসবায়ু সম মিশাইল বায়ুসনে/ হত ভালরহিত যদ্যপি।”
জ্যোৎস্নাদেবী বলে উঠলেন, “পানস, ব্রেভো! দারুণ হয়েছে। চমৎকার।”
ব্যাঙ্কো বলছেন, “সত্য কিংবা ছায়া প্রত্যক্ষ হেরিনু?/ কিংবা কোন ঔষধ প্রভাবে/ জ্ঞানবুদ্ধি হয়েছে দোঁহার?”
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “জনমেজয়, আর একটু সন্দেহের ছায়া আনতে হবে সংলাপে।”
জনমেজয় আবার বললেন সংলাপ। জানতে চাইলেন, “ম্যাডাম, ঠিক আছে?”
“একদম!” বললেন জ্যোৎস্নাদেবী।
ম্যাকবেথ: রাজ্যেশ্বর তব বংশধরগণ!
ব্যাঙ্কো: তুমি হবে রাজা!
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “আরও গলা উঠবে, কল্পনার মধ্যে আনো হাজার অডিয়েন্স। কালো কালো সব মাথা। আমাদের আবেগ, আমাদের স্বপ্ন। আর ম্যাকবেথের লোভ আর অনৈতিক আকাঙ্ক্ষা।”
ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন কলাকুশলীদের অনেকেই, কিন্তু জ্যোৎস্নাদেবীর কোনও ক্লান্তি নেই।
৩৩
পরের দিন রিহার্সালের পর সামান্য একটু মাথা ঘুরছিল জ্যোৎস্নাদেবীর। বললেন, “ওসব কিছু ঘাবড়ে যাওয়ার মতো বিষয় নয়। আমার প্রেশারটা লো তো, তাই।”
চোখেমুখে একটু জল দিলেন, তার পর বললেন, “আমাদের শো-টা তো কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন, তাই না!”
পানস বললেন, “হ্যাঁ ম্যাডাম।”
“এখানে লক্ষ্মীপুজো কম হয়। পুব বাংলার মানুষদের মধ্যে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর চল আছে। টিকিট বিক্রি কেমন হয়েছে?”
“তিনশো হয়েছে।”
“সিট ক্যাপাসিটি?”
“পাঁচশো ম্যাডাম।”
“আগামী কাল তো দুর্গাপুজোর অষ্টমী।”
সকলে বলল, “হ্যাঁ।”
“একটা পরিকল্পনার কথা বলি... রাখতে হবে, পারতেও হবে।”
ফটিক বলল, “পারব ম্যাডাম।”
“আগামী কাল ভোরে আমরা মাতৃপ্রণাম সেরে গান গেয়ে পল্লির দরজা খোলাব। বাড়ি বাড়ি যাব, যাত্রা দেখার কথা বলব। তার পর টিকিট নেওয়ার কথা বলব।”
“কী গান হবে ম্যাডাম?”
জ্যোৎস্নাদেবী গেয়ে উঠলেন, “মুক্ত করো ভয়,/ আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।”
ফটিক সঙ্গে সঙ্গে বলল, “ম্যাডাম, আপনি লিড সিঙ্গার হবেন!”
“না, তুই হবি লিড সিঙ্গার। আমরা সকলে ধরব দোহার। রাজি তো সকলে?”
সকলেই বলে উঠল, “রাজি।”
পরদিন সকালে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখলেন পুরুলিয়ার মানুষ। মণ্ডপে মণ্ডপে তখনও ঢাকের বাদ্যি শুরু হয়নি, সকলের ঘুম ভেঙে গেল জ্যোৎস্নাদেবীর প্রতিমার মতো রূপ দেখে।
ফটিক ধরল, “সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান...” সকলে দোহার ধরল।
যাঁরা প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন, অবাক হয়ে দেখলেন, বীণাপাণি অপেরার কলাকুশলীরা রাস্তায় নেমে গান গাইতে গাইতে চলেছেন। হাতে তাঁদের লিফলেট আর যাত্রার টিকিট।
সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। বাজারে যাওয়া, পুজোবাড়ির পথে যাওয়া মানুষ টিকিট কিনতে লাগল। মাঝে মাঝে ফটিক বলছে কাউকে কাউকে, “ম্যাডাম। বাংলা যাত্রার নক্ষত্র। জ্যোৎস্নাদেবী।”
আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল রবিঠাকুরের গানে গানে বাংলা যাত্রার নব জোয়ার। নবজাগৃতি।
পানসদা বললেন, “দিদি, এ বার একটু বসুন। ম্যাডাম বললাম না।”
“একদম ডাকবে না। ইংরেজি নাটক করছি শেক্সপিয়রের জন্য। এর পর করব ‘অগ্নিঋষি’।”
পানসদা বললেন, “দিদি, অরবিন্দ ঘোষ।”
এ বার তিনি জনমেজয়ের দিকে তাকিয়ে বললে, “পানসের তো প্রম্পটার লাগবে না।”
জনমেজয় বললেন, “আপনার ম্যাজিক, দিদি।”
হেসে উঠলেন জ্যোৎস্নাদেবী। জিজ্ঞেস করলেন, “ফটিক, টিকিট বিক্রি কিছু হল?”
“সব শেষ দিদি।”
“দারুণ। আজ আমি সকলের জন্য খিচুড়ি রান্না করব, আর লাবড়া। খাবে তো তোমরা?”
হাততালি দিয়ে উঠল সকলে। ওরা গান গাইতে গাইতে কখন চলে এসেছে ওদের নাটমন্দিরে। সেখানে জনতার ভিড়। আরও, আরও টিকিট চাই। জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “কাউকে ফেরাব না। এ বার লক্ষ্মীভাই, প্রথম শোয়ের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। আমরা পরের দিন আবার করব।”
সকলে বলে উঠল, “মায়ের জয় হোক।”
অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলেন জ্যোৎস্নাদেবী। যাত্রা তাঁকে কত সন্তানও দিল।
মানুষের জয়রথে, গণদেবতার আহ্বানে তিনি উদ্বোধন করলেন নাটমঞ্চ। নাম দিলেন, নব মিনার্ভা।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে রস্ট্রাম পেতে আসর সাজানো নিজে দেখে নিলেন। সাউন্ড সিস্টেম বীণাপাণি অপেরার নিজস্ব। এক জন সহকারী পরিচালককে তিনি ডেকে নিলেন, ওঁর নাম সুপ্রতিম কর্মকার। এমনিতে নদী বিষয়ক গবেষণার জন্য এসেছিলেন, যাত্রামোদী। যাত্রা সম্পর্কেও লেখার আগ্রহ রয়েছে। মাত্র কয়েকটা দিনে ওঁকেও তৈরি করে নিলেন। নিজস্ব স্ক্রিপ্ট হাতে নিয়ে শেষের রিহার্সাল চলল। গানের কোরিয়োগ্রাফি সচরাচর ফটিক দেখে, এ বার সে নিজে অভিনয় করছে বলে ওর বাবা শ্যামলকান্তিবাবুকে অনেক বছর পর যাত্রামুখী করা গেল। সবটাই যেন জ্যোৎস্নাদেবীর ম্যাজিক। যদিও শেষ ভাল যার সব ভাল, এ রকম একটা প্রবাদ তো থেকেই যায়। মাইকের ওঠানামা, আলো এই যাত্রায় বিশেষ ভূমিকা নেবে। পানসবাবু নিজে দেখেন, জ্যোৎস্নাদেবীও দেখে নিলেন।
এত দিন পর্যন্ত পানস চৌধুরী প্রধান অভিনেতা, ম্যানেজার হিসেবে সবটা দেখতেন, এ বার তিনি পুরোটাই ওঁর হাতে দিয়েছেন পরম নির্ভরতায়। বিদেশি নাটক অবলম্বনে যাত্রা, দর্শক যাতে গল্পের স্বাদ পায়, প্রথম থেকে সচেষ্ট ছিলেন জ্যোৎস্নাদেবী। এক সময় যাত্রায় কমপ্লিট স্ক্রিপ্ট বলে কিছু থাকত না, প্রতিদিনই সিনের পরিবর্তন হত, এতটা করা গেল না, সময় সংক্ষেপের জন্য। শেক্সপিয়র তাঁর নাটকে ক্লাইম্যাক্স সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, গিরিশবাবু অনুবাদে সে কথা খেয়াল রেখেছিলেন।
পুরো নাটকটা সবাইকে পড়ে ফেলতে বলা হয়েছে, তা চরিত্র যত ন্যূনতম হোক না কেন। সকলেই করেছেন। এখন কোনও প্রম্পটারের প্রয়োজন হচ্ছে না, তবু প্রম্পটার থাকবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বললেন, “তোমার উপস্থিতি স্টেজে কোন পরিস্থিতিতে, তা নিয়ে ভাববে, তা হলে স্টেজে ওঠা-নামাও সহজ হবে।” বার বার করিয়েও নিলেন।
তরবারির ব্যবহারও এই পালায় সংযোজন করলেন জ্যোৎস্না দেবী। মুর্শিদাবাদ থেকে সেলিম মাস্টারকে নিয়ে আসা হয়েছিল, ম্যাকবেথ এবং ম্যাকডাফের শেষ দৃশ্যে একটা লম্বা সোর্ড ফাইট রাখলেন তিনি, যাত্রায় দর্শককে বিশেষ ভাবে আকর্ষণ করার জন্য। যাকে বলে খোলা মাঠে যাত্রা, এখানে তা হচ্ছে না, প্রেক্ষাগৃহের অন্তরমহল যাত্রার মতো করে সাজানো হয়েছে। দর্শকাসনগুলির বিন্যাস নিজে দেখে নিলেন। জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও পৌরসভার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এবং অবশ্যই বিধায়ক সাহেবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বাতাবরণের কথা মনে রেখে কয়েক জন সমাজসেবীকেও বলা হল। এগুলি দেখে নিলেন জনমেজয়।
মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিকও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। শরদিন্দুবাবু দিল্লি থেকে ফিরতে পারেননি। ছেলেরা তাঁকে আসতে দেননি। বোঝা যাচ্ছে না তিনি আর বিষ্ণুপুরে ফিরে আসতে পারবেন কি না! সমীর তার ডিরেক্টর সুব্রতবাবুকে নিয়ে কয়েক দিন আগেই এসেছে। রিহার্সাল দেখছে। তাঁর ইচ্ছে, ম্যাডামকে রবীন্দ্র নাট্যসংস্থার কার্যালয়ে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে বিষ্ণুপুর শহরে ‘নটী বিনোদিনী’ মঞ্চায়ন করানোর। ম্যাডাম অভিনয় না করলেও নির্দেশনায় যেন থাকেন।
ক্রমশ
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)