গরমের ছুটি পড়তে না পড়তেই দার্জিলিঙের হোটেল থাকে হাউসফুল। একই অবস্থা শিমলা, মানালিতে, পেলিং থেকে সিকিমের মতো জায়গার সর্বত্রই ঠাঁই নাই। গ্রীষ্ম হোক বা পুজো কিংবা শীত— ঋতুভেদে বেড়ানোর গন্তব্য বদলে যায়। পাহাড় হলে গরমে এবং পুজোয় ভিড় বাড়ে, সমুদ্র বা উপকূলবর্তী পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় হয় শীতে।
বেড়াতে যাবেন কখন, পর্যটনের আদর্শ মরসুমে, না কি ভরা বর্ষায় ধসের ভয় উপেক্ষা করে, ভিড় এড়িয়ে? যে সময় সকলে যান, তখন গেলে শুধু ভিড়ই নয়, থাকার বা ঘোরার জন্য বাড়তি খরচ দিতেই হবে। আবার যে সময় কেউ যান না, তখন গেলে বেড়ানো কতটা মনমতো হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। আর এই সবের ফাঁকে ভ্রমণপিপাসুরা বার করে ফেলেছেন আর এক সময়, যাকে ইংরেজিতে বলা হচ্ছে ‘শোল্ডার সিজ়ন’। গরম এবং শীতের মধ্যবর্তী এই সময়টাও কিন্তু বেড়ানোর জন্য নেহাত মন্দ হয়। তবে এর কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, বরং এক এক গন্তব্যের জন্য শোল্ডার সিজ়ন পৃথক হতে পারে।
শোল্ডার সিজ়নের সুবিধা কী
এমন মরসুমে বেড়ানোর সুবিধাই হল, পর্যটকের অত্যন্ত চাপ থাকবে না, আবার ‘অফ সিজ়ন’-এ যে ধরনের প্রতিকূলতা বা সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, সেই ভয়টাও অতটা হবে না। তা ছাড়া, ভিড় কম থাকলে যে কোনও জায়গা কম ঝক্কিতে সময় নিয়ে ঘোরা যায়। হোটেল কর্মী থেকে গাইড, পর্যটকদের দিকে বাড়তি যত্ন নিতে এবং নজর দিতে পারেন। আবার খরচও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
কিন্তু সেই আদর্শ সময় কোনটি? যেমন ধরা যাক, দক্ষিণ ভারতের কোনও উপকূলবর্তী পর্যটনকেন্দ্রের কথা। কেরলের আবহওয়া সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক থাকে শীতে। গরমে এখানে এতটাই আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা থাকে যে, দিনভর ঘোরা রীতিমতো কষ্টসাধ্য। আবার বর্ষা প্রবল হলে বানভাসি হওয়ার ভয় থাকে। তাই কেউ যদি বর্ষার শেষেই এখানে আসেন, তেমন ভিড় থাকবে না অথচ সবুজের প্রাধান্য থাকবে। আবার গরম এড়িয়ে কেউ বসন্তে এমন জায়গায় ঘুরে যেতে পারেন।
‘শোল্ডার সিজ়ন’ হতে পারে এপ্রিল-মে এবং অগস্ট-সেপ্টেম্বর। তবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন, যে মরসুমটি বেছে নিচ্ছেন, সেই মরসুমে আদৌ সেই স্থান উপভোগ্য কতটা। যেমন মধ্যপ্রদেশের মান্ডু-সহ বেশ কিছু জায়গা বর্ষায় হয়ে ওঠে সবুজ এবং সুন্দর। আবার মধ্যপ্রদেশের অরণ্যগুলি বর্ষায় বন্ধ থাকে। তাই ভিড় এড়াতে হলেও, এমন সময় বেছে নিতে হবে, যখন সেই জায়গাগুলি ঘোরা যায়।
আরও পড়ুন:
শোল্ডার সিজন বেছে নেওয়াক আরও একটি কারণ হল, এর একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে শরৎকাল। এই সময়ে আমেরিকা, জাপান, কানাডা, জার্মানির মতো দেশে জাতীয় উদ্যানগুলিতে গাছের পাতার রং বদলানোর এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। সবুজ পাতা যখন লাল, কমলা বা সোনালি রঙে রূপান্তরিত হয়, সেই দৃশ্যটি মিস করা একেবারেই উচিত নয়। এটি হল ‘ফল মান্থ’। ফলে বিদেশযাত্রার ইচ্ছা থাকলে, এমন সময় বেছে নিতে পারেন। শুধু বিদেশে নয়, শরৎকালে হিমাচল প্রদেশ, কাশ্মীরের নানা প্রান্তও খুব সুন্দর থাকে। বিশেষত, নাকো, টাবো, কাজা-র মতো জায়গাগুলি ভ্রমণের জন্য এটাই ভাল সময়।
সাধারণত লোকে গ্রীষ্ম বা শীতের ছুটি কিংবা পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যান। সরাসরি এই মরসুমগুলি এড়িয়ে তার আগে বা একটু পরে গেলেও বেড়ানো হতে পারে অনেক বেশি মনের মতো।