Advertisement
E-Paper

নবাবিয়ানার সঙ্গেই মিশে জৈন থেকে আর্মেনীয় ঐতিহ্য! চেনা মুর্শিদাবাদেই হোক অন্য রকম ভ্রমণ

নবাবের শহরে হাজারদুয়ারি, ইমামবড়া, কাটরা মসজিদ, ওয়াসেফ মঞ্জিলের কথাই সকলের জানা। তবে এর বাইরেও আছে ঐতিহাসিক নিদর্শন। চেনা ছকের বাইরে একটু অন্য ভাবে মুর্শিদাবাদ ঘুরবেন কী করে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০০
চেনা মুর্শিদাবাদকে চিনুন অন্য ভাবে। কেমন হবে সেই ভ্রমণ?

চেনা মুর্শিদাবাদকে চিনুন অন্য ভাবে। কেমন হবে সেই ভ্রমণ? ছবি: সংগৃহীত।

শুধুই নবাবি আমলের স্মৃতি নয়, বাংলার এক সময়ের রাজধানী মুর্শিদাবাদের ইতিউতি ছড়িয়ে ইতিহাসের নানা নিদর্শন। হিন্দু, জৈন, ব্রিটিশ এবং আর্মেনীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া রয়েছে এই জেলার আনাচ-কানাচে। নদীপারের এই নগরীর পরতে পরতে ঐতিহ্য। আর সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে রযেছে সিল্ক-মসলিন এবং রায়বেঁশে। ভাগীরথী তীরের এই প্রাচীন জনপদ এক সময় ছিল বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। বৈভবপূর্ণ অট্টালিকা থেকে পুরনো জৈন মন্দির, আর্মেনীয় চার্চ, টেরাকোটার মন্দিরগুলি তারই সাক্ষ্য বহন করে।

কাঠগোলা প্যালেস। এখন এটি সংগ্রহশালা।

কাঠগোলা প্যালেস। এখন এটি সংগ্রহশালা। — নিজস্ব চিত্র।

নবাবের শহরে হাজারদুয়ারি, ইমামবাড়া, কাটরা মসজিদ, ওয়াসেফ মঞ্জিলের কথাই সকলের জানা। তবে এর বাইরেও আছে অনেক ইতিহাস। নাটোরের রানি ভবানীর তৈরি চার বাংলা মন্দির, কাশিমপুর রাজবাড়ি, ডাচ গোরস্থান, আর্মেনীয় চার্চ, কাঠগোলা প্যালেস, নসিপুর রাজবাড়ি, জৈন মন্দির-সহ অগণিত নিদর্শন ছড়িয়ে এর আনাচ-কানাচে। সেই জানা-না জানা ইতিহাস এবং অচেনা ঐতিহ্যের শরিক হতে কেমন ভাবে ঘুরে দেখা যায় এই জনপদ, তারই ধারণা পাওয়া গেল সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল’-এ।

অযত্নে নষ্ট হতে বসা ঐতিহ্য সংরক্ষণ বার্তা দিতে এবং নতুন পর্যটন সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলি তুলে ধরতে ৬-৮ ফ্রেব্রুয়ারি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’। ২০১০ সাল থেকে কাজ করছে এই সংস্থা । মূলত আজিমগঞ্জ, জিয়াগঞ্জের পুরনো জৈন কোঠি, মন্দির, শিল্প, সংস্কৃতি-সহ নানা ঐতিহ্য বাঁচাতে অগ্রসর হয়েছেন উদ্যোক্তারা। সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সন্দীপ নওলাখা জানালেন, তাঁদের লক্ষ্য স্থানীয় মানুষ, তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখা। পর্যটনের প্রসার হলে আর্থ-সামাজিক বিকাশ হবে। লাভবান হবেন এলাকার মানুষও। কিন্তু সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে কী ভাবে জুড়বে তরুণ প্রজন্ম, কী ভাবে উৎসাহী হবে? সোসাইটির সভাপতি প্রদীপ চোপ়ড়ার কথায়, স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের শিক্ষামূলক ভ্রমণে এই এলাকার ইতিহাস তুলে ধরতে তাঁরা আগ্রহী। সেই চেষ্টাও করছেন। স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁরা এলাকার পড়ুয়াদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছেন। তাঁদের আশা, এক বার এই জায়গা সম্পর্কে জানলে, নিজেদের সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে তা রক্ষার তাগিদও বাড়বে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় মানুষ নিজেদের স্বার্থেই ঐতিহ্যকে রক্ষা করবেন।

মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা বিনোদ খন্নার স্ত্রী কবিতা খন্নাও।

মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা বিনোদ খন্নার স্ত্রী কবিতা খন্নাও। —নিজস্ব চিত্র।

মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালে রানি ভবানীর মন্দির ঘুরে দেখছেন অতিথিরা।

মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালে রানি ভবানীর মন্দির ঘুরে দেখছেন অতিথিরা। —নিজস্ব চিত্র।

নবাবিয়ানার পাশাপাশি এই শহরের অন্য ঐতিহ্যকে ছুঁয়ে দেখবেন কেমন ভাবে?

বড়নগরে রানি ভবানীর মন্দির

বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী, তার একপাশে আজিমগঞ্জ, অন্য পারে জিয়াগঞ্জ। যে কোনও শহর থেকেই চলে যাওয়া যায় বড়নগর। শোনা যায়, নাটোরের রানি ভবানী বড়নগরকে ‘গুপ্ত বারাণসী’ হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তৈরি করিয়েছিলেন একের পর এক টেরোকোটার মন্দির। তারই মধ্যে নজর কাড়ে চার বাংলা মন্দিরটি। ভাগীরথী তীরে একটি প্রাঙ্গণের চারপাশে মুখোমুখি চার মন্দির। কুঁড়েঘরের আদলে তৈরি প্রতিটি মন্দিরেই রয়েছে তিন খিলানের প্রবেশদ্বার। এক একটি মন্দিরে তিনটি করে শিবলিঙ্গ রয়েছে। মন্দির গাত্রের টেরাকোটার কারুকাজে নিখুঁত ভাবে বর্ণিত হয়েছে রামায়ণ-মহাভারতের দৃশ্যাবলি, তৎকালীন সমাজচিত্র।

রানি ভবানীর মন্দির গাত্রের টেরাকোটার অপরূপ কাজ।

রানি ভবানীর মন্দির গাত্রের টেরাকোটার অপরূপ কাজ। —নিজস্ব চিত্র।

চার বাংলা মন্দির ছাড়িয়ে গ্রামের পথে আরও খানিক হাঁটলে একে একে চোখে পড়বে গঙ্গেশ্বর মন্দির, অষ্টভুজাকৃতি ভবানীশ্বর মন্দির-সহ একাধিক মন্দির। তার কোনওটি সময়ের গ্রাসে নষ্ট হয়েছে। কোনওটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে প্রতিটি মন্দিরের গায়েই রয়েছে পোড়ামাটির কারুকাজ। এ ছাড়াও এর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে পুরনো টেরাকোটার একাধিক মন্দির।

জৈন কোঠি, প্রাসাদ, মন্দির

আজিমগঞ্জ-জিয়াগঞ্জ, কাঠগোলার নানা প্রান্তে রয়েছে জৈনদের কোঠি, প্রাসাদোপম অট্টালিকা এবং একাধিক মন্দির। ৩০০ বছর আগে মুর্শিদাবাদে নবাবি আমলে রাজস্থান থেকে এসেছিলেন মানিকচাঁদের মতো কয়েকজন জৈন বণিক। তাঁরা বঙ্গে ব্যবসা করে ফুলেফেঁপে ওঠেন। নবাব এবং ইংরেজরাও তাঁদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতেন। এই পরিবারের উত্তসূরিরাই ‘জগৎ শেঠ’ উপাধি পান। পরবর্তীতে দুধোরিয়া, দুগার, নওলাখা, সিংঘী-সহ একাধিক পরিবার রাজস্থানী পরিবার বঙ্গে এসে বসবাস শুরু করে। প্রতিটি পরিবারই আর্থিক ভাবে প্রতিপত্তিশালী হয়ে ওঠে। বঙ্গে জৈন সম্প্রদায়ের বিস্তার হয়। বৈভবের অভাব ছিল না তাঁদের। আজিমগঞ্জ-জিয়াগঞ্জ এলাকায় এমন কিছু অট্টালিকা, কোঠি এখনও রয়েছে। তার কোনওটি এখন মিউজ়িয়াম, কোনওটি বিলাসবহুল হোটেল। কোনওটি আবার পড়ে রয়েছে অযত্নে। কিছু জৈন মন্দির নষ্ট হয়ে গিয়েছে, কিছু নতুন করে সংস্কার হচ্ছে।

দুধোড়িয়াদের বড়ি কোঠি এখন হেরিটেজ স্টে।

দুধোড়িয়াদের বড়ি কোঠি এখন হেরিটেজ স্টে। —নিজস্ব চিত্র।

এর মধ্যে বিশেষ ভাবে নজর কাড়ে কাঠগোলা প্যালেস। সুবিশাল আম বাগিচা ঘেরা প্রাসাদোপম অট্টালিকা এখন সংগ্রহশালা। গ্রিক, রাজস্থানি স্থাপত্যের চমৎকার মিশ্রণ রয়েছে এই হর্ম্যে। ১৮৭০ সালে এই প্রাসাদ এবং বাগিচা তৈরি করিয়েছিলেন লক্ষ্মীপৎ সিংহ দুগার। ভিতরেই রয়েছে আদিনাথ মন্দির এবং দাদা ওয়াড়ি। ত্রিতলের বিশাল প্রাসাদে পরিবারটির ব্যবহৃত পালঙ্ক থেকে প্রকাণ্ড বেলজিয়াম কাচের আয়না, অলঙ্কার, বাসন-সহ অসংখ্য জিনিস। এখান থেকে ঘুরে নেওয়া যায় জগৎ শেঠের বাড়ি, মন্দির।

আর্মেনিয়ান চার্চ

সয়দাবাদের আর্মেনিয়ান গির্জা।

সয়দাবাদের আর্মেনিয়ান গির্জা। ছবি:সংগৃহীত।

আর্মেনীয় বণিকদের বসতি এবং বাণিজ্যের সাক্ষী রয়েছে মুর্শিদাবাদ। বহরমপুর শহরের কাছে সয়দাবাদে রয়েছে আর্মেনিয়ান গির্জা। অষ্টাদশ শতকে এটি নির্মিত হয়েছিল। এক সময় ধ্বংস হতে বসা এই চার্চটি গত কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হয়। চার্চ প্রাঙ্গণে রয়েছে সমাধি। খোজা পিট্রুস উসকান নামে এক বণিক এটি নির্মাণ করিয়েছিলেন।

ডাচ কবরস্থান

ওলন্দাজ কবরস্থানও রয়েছে মুর্শিদাবাদে।

ওলন্দাজ কবরস্থানও রয়েছে মুর্শিদাবাদে। ছবি:সংগৃহীত।

কাশিমবাজারে কালিকাপুরের কাছে অবস্থিত ওলন্দাজ কবরস্থানটি মুর্শিদাবাদের মিশ্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নজির। এক সময় এখানে ওলন্দাজদের কারখানা ছিল। কালের গর্ভে সেই সব বিলীন হয়ে গেলেও, অতীতের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কবরস্থানটি।

নবাবি স্থাপত্য

হাজারদুয়ারির চত্বরেই রয়েছে ইমামবড়া, ক্লক টাওয়ার।

হাজারদুয়ারির চত্বরেই রয়েছে ইমামবড়া, ক্লক টাওয়ার। —নিজস্ব চিত্র।

লালবাগে মুর্শিদাবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হাজারদুয়ারি। অতীতের নি‌জ়ামত কেল্লায় ১৮৩৭ সালে তদানীন্তন নবাব নাজিম হুমায়ুন জাহের বাসের জন্য ব্রিটিশরা ইতালিয়ান শৈলীতে গড়েছিল এই ত্রিতল গম্বুজওয়ালা প্রাসাদ। ৮টি গ্যালারি সহ ১২০ ঘরের এই প্রাসাদের ১০০০ দরজা থেকে এর নাম হয়েছে হাজারদুয়ারি। তবে প্রকৃত দরজা ৯০০, বাকি ১০০ কৃত্রিম।

প্রাসাদের সামনেই সিরাজের তৈরি এক গম্বুজের মদিনা মসজিদ আর মদিনার চত্বরে সুউচ্চ ঘড়িঘর। এখানেই রয়েছে বাচ্চাওয়ালি কামান। প্রাসাদের বিপরীতে বড় ইমামবড়া। হাজারদুয়ারির পিছনে দক্ষিণে গঙ্গার তীরে অতিথিনিবাস ওয়াসেফ মঞ্জিল।

বেড়ানোর বাইরে কী কী উপভোগ্য

গঙ্গা আরতি আর স্ট্রিট ফুড

ভাগীরথী নদী লোকমুখে ‘গঙ্গা’ বলেই পরিচিত। প্রতি সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতিরও আয়োজন হয় নদীর পারে। জিয়াগঞ্জ সদর ঘাট সুন্দর করে বাঁধানো। সেখানে বসে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। গঙ্গা আরতি দেখে সন্ধ্যাটা কাটতে পারে স্থানীয় খাবার চেখে দেখে। জিয়াগঞ্জ জনবহুল শহর। নদীর ধারেই দোকানপাট, খাওয়ার জায়গা। ফুচকা, ঝালমুড়ির পাশাপাশি স্থানীয় দোকান থেকে ভাজাভুজি খেয়ে দেখতে পারেন।

তাঁতিপাড়া

বোনা হচ্ছে লাল পেড়ে গরদের শাড়ি।

বোনা হচ্ছে লাল পেড়ে গরদের শাড়ি। —নিজস্ব চিত্র।

পুজোর সময় যে লালপেড়ে গরদের খোঁজ করেন, সেই গরদ কোথায়, কী ভাবে তৈরি হয়, জানতে চান? তা হলে জিয়াগঞ্জ সদরঘাট থেকে টোটো চড়ে চলে যেতে পারেন তাঁতিপাড়া। গলিতে হাঁটাহাঁটি করলেই কানে আসবে তাঁত বোনার শব্দ। প্রতি ঘরেই যেন ছন্দোবদ্ধ সুর বাজছে। হাত এবং পায়ের সাবলীল দক্ষতায় ক্লান্তিহীন ভাবে তাঁতিরা বুনে চলেছেন শাড়ি। কোথাও তৈরি হচ্ছে গরদ, কোথাও আবার নকশাদার সিল্ক। তাঁতিরা জানালেন, এক একটি শাড়ি বুনতে ৫-১৪ দিন সময় লাগে। নির্ভর করে শাড়ির কারুকাজের উপর। তাঁতিপাড়াতেই রয়েছে ঝাঁ চকচকে শাড়ির দোকান। পিয়োর সিল্ক, বালুচরী, মসলিন-সহ রকমারি সম্ভার নিয়ে বসে রয়েছেন তাঁরা। কিনুন আর না কিনুন, এমন শাড়ি চাক্ষুষ না করলে ভ্রমণ অপূর্ণ রয়ে যাবে।

রায়বেঁশে

রায়বেঁশে নৃত্যকলা প্রদর্শন করছেন স্থানীয় শিল্পীরা।

রায়বেঁশে নৃত্যকলা প্রদর্শন করছেন স্থানীয় শিল্পীরা। —নিজস্ব চিত্র।

মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এখানকার পুরনো এক নৃত্যশৈলী রায়বেঁশে। এক সময় নবাবের পদাতিক সৈনেরা এই নৃত্য করতেন। পরবর্তীকালে সেই ধারা বাউরি এবং ডোমদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ঢোল এবং কাঁসির বাজনার ছন্দে নাচটি হয়, শিল্পীদের ডান পায়ে থাকে নুপূর। তেজোময় ভঙ্গিমায় এই নৃত্য করেন পুরুষেরা। কখনও দাঁড়িয়ে, কখনও উপবিষ্ট ভঙ্গিতে লাফিয়ে এই নৃত্য করা হয়। মুর্শিদাবাদের হারাতে বসা এই নৃত্যশৈলীর সাক্ষী হওয়াও ভ্রমণেরই এক অঙ্গ।

পেটপুজোয় থাকবে কী

শহেরওয়ালিদের  নিজস্ব খাবার।  চালকুমড়োর মোরব্বা, বোড়ে কি বুন্দি, দই খিচুড়ি।

শহেরওয়ালিদের নিজস্ব খাবার। চালকুমড়োর মোরব্বা, বোড়ে কি বুন্দি, দই খিচুড়ি। —নিজস্ব চিত্র।

নবাবের পুরনো রাজধানী নবাবি খাবার চেখে দেখতেই হয়। তবে আজিমগঞ্জে এলে চেখে দেখতে পারেন ‘শহেরওয়ালি খাবার’-ও। রাজস্থান থেকে আসা জৈনদের হাত ধরেই এই খাবারের উৎপত্তি। তাঁরা যেহেতু এক রাজ্যের শহর থেকে অন্য রাজ্যের শহরে এসে বসবাস শুরু করেন, তাঁদের বলা হয় শহেরওয়ালি। জৈনদের নিজস্ব খাদ্য সংস্কৃতি ছিলই, তার সঙ্গে জুড়ে যায় বাংলার নিজস্ব খাবার, রন্ধনে প্রভাব পড়ে নবাবি ঘরনারাও। জৈন খাবারে জুড়ে যায় পাঁচফোড়নের মতো বাংলার মশলা, কেওড়া জল, জাফরানের মতো নবাবি উপকরণ। স্বাদবদলে এক বার এমন খাবার চেখে দেখাই যায়। মুর্শিদাবাদ এসে মিষ্টিমুখ না করলে চলে না। পোস্তর দানা ছড়ানো রসকদম্ব এখানে জনপ্রিয়। আর রয়েছে ছানাবড়া।

মুর্শিদাবাদের প্রতিটি কোণেই রয়েছে ইতিহাস এবং দর্শনীয় স্থান। তাই এক বারে এই রাজ্যের দর্শনীয় স্থান ঘুরে ফেলা সম্ভব নয়। লালবাগ, বড়নগর, কাশিমবাজার, বহরমপুর, পলাশি-সহ নানা জায়গা রয়েছে। তবে ৩-৪দিন থাকলে বেশ কিছুটা ঘোরা সম্ভব।

কোথায় থাকবেন?

আজিমগঞ্জের মিউজ়িয়াম হোটেল।

আজিমগঞ্জের মিউজ়িয়াম হোটেল। —নিজস্ব চিত্র।

বহরমপুরে একাধিক বড় হোটেল রয়েছে। আজিমগঞ্জের মতো জায়গায় জৈন কোঠিগুলিতে থাকার সুযোগ মেলে। রয়েছে ‘’মিউজ়িয়াম হোটেল’। এ ছা়ড়াও কাশিমপুর রাজবা়ড়ি-সহ থাকার একাধিক ‘হেরিটেজ স্টে’র সংখ্যা বাড়ছে।

Murshidabad Heritage Festival 2026 Offbeat Places Of Murshidabad Murshidabad Travel Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy