থাইরয়েডের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। পুরুষদের চেয়েও মহিলারা এই অসুখে বেশি ভোগেন। এবং এক বার ধরলে সহজে সঙ্গও ছাড়ে না এই অসুখ। বিশেষ করে, যাঁদের ক্ষেত্রে অসুখ অনেকটা বেড়ে যাওয়ার পর ধরা পড়ে, এই অসুবিধা তাঁদের অনেক বেশি হয়। দীর্ঘ দিন ধরে থাইরয়েডের ওষুধ খেয়েও লাভ হচ্ছে না! দিনের পর দিন এই ভুলগুলি করছেন না তো? থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার কিন্তু নির্দিষ্ট সময় আছে। চিকিৎসকেরা বার বার করে বলে দেন, থাইরয়েডের ওষুধ কিন্ত সকালেই খেতে হবে। দিনের অন্য সময়ে এই ওষুধ নৈব নৈব চ। কিন্তু এমন নিয়ম কেন, জানেন?
থাইরয়েডের ওষুধের শোষণ হয় মূলত ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে। সকালের দিকে যেহেতু পেট খালি থাকে, তাই ওষুধের শোষণ বেশি ভাল হয়। চা, কফি, ফাইবার যুক্ত খাবার, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট থাইরয়েডের ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। সকালে ওষুধটি খেলে তা রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিভিন্ন বিপাককার্যগুলি তার সঠিক নিয়মে হতে সাহায্য করে। এ ছাড়া সকালে থাইরয়েডের ওষুধ খেয়ে থাইরয়েডের পরীক্ষা যেমন টিএসএইচ, টি-থ্রি, টি-ফোর, এফটি-ফোরের রিপোর্ট বা ফলাফল একেবারে ঠিকঠাক আসে।
আর কী কী নিয়ম মানতে হবে?
১) এই ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে একটা বাঁধাধরা সময় মেনে চলাই ভাল। সকাল ৮টার ওষুধ যাতে রোজ ৮টাতেই খাওয়া হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
২) এই ওষুধ খাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে কিছু না খাওয়াই ভাল। এমনকি চা, কফিও নয়!
৩) থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ক্যালশিয়াম রয়েছে, এমন কোনও খাবার খাবেন না।
৪) এই ওষুধ খাওয়ার সময় অন্য কোনও সাপ্লিমেন্ট, যেমন আয়রন, ক্যালশিয়াম বা ভিটামিনের ওষুধ ভুলেও খাবেন না।
৫) বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওষুধটি সারা জীবন ধরে খেয়ে যেতে হয়। তাই পরীক্ষায় হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক হলেও ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। তবে ডোজ় ওঠানামা করতে পারে। তাই মাঝেমধ্যেই ওষুধের ডোজ় ঠিক নিচ্ছেন কি না, তা যাচাই করতে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।